মনজুর এ আজিজ : চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (সিপিএ) ডেনমার্কের এপিএম টার্মিনালস বিইভি-এর সঙ্গে ৩০ বছরের কার্যক্রম ও কার্যসম্পাদন-ভিত্তিক বর্ধিত মেয়াদসহ একটি ঐতিহাসিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। এপিএম টার্মিনালস বিইভি ডেনমার্কের এ. পি. মোলার ফাউন্ডেশন কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ইন্টিগ্রেটেড লজিস্টিকস কোম্পানি মায়ের্স্ক এ/এস (মায়ের্স্ক গ্রুপ)-এর একটি পূর্ণ মালিকানাধীন সহযোগী প্রতিষ্ঠান। এই চুক্তির মাধ্যমে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কাঠামোর আওতায় লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল (এলসিটি) ডিজাইন, অর্থায়ন, নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সোমবার ঢাকা ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে এক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের এ দায়িত্ব দেয়া হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন। ডেনমার্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বিষয়ক স্টেট সেক্রেটারি লিনা গান্ডলোস হ্যানসেন ও ঢাকায় ডেনমার্ক দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। পিপিপি অথোরিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
নৌপরিবহন উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, এ বিনিয়োগ দেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে যুব সমাজের জন্য উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি বয়ে আনবে। তিনি বলেন, প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে, দেশের অনেক তরুণ, বিশেষ করে শিক্ষিত যুবকরা চাকরির সুযোগ পাবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশে দক্ষ জনশক্তির অভাব নেই এবং অনেক পরিশ্রমী বাংলাদেশি ইউরোপ ও আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কাজ করছে। উপদেষ্টা এই দক্ষ কর্মশক্তিকে দেশের ভেতরেই কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বাংলাদেশের পরিশ্রমী জনগোষ্ঠীর কারণে দেশটি সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বিনিয়োগ গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।
বিগত সময়ে বাংলাদেশে বিনিয়োগ কম ছিল উল্লেখ করে ড. এম সাখাওয়াত এই চুক্তিকে একটি ‘নতুন যাত্রা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি অন্যান্য দেশকেও বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমি অন্যান্য দেশকেও বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। তিনি বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃসরকারি সহযোগিতা প্রকল্পটির জাতীয় স্বার্থ নিয়ে যে কোনো সংশয় দূর করবে।
রাষ্ট্রদূত ব্রিক্স মোলার বলেন, বাংলাদেশ পুনর্গঠন ও শক্তিশালী হওয়ার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ ও টেকসই সহযোগিতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করছে। তিনি বাংলাদেশ ও এই ঐতিহাসিক চুক্তিতে যুক্ত সব ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে অভিনন্দন জানান।
তিনি বলেন, ডেনমার্কের বৈশ্বিক দক্ষতা, জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতাকে কাজে লাগানোর মাধ্যমে এ বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি বাংলাদেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।