শিরোনাম
◈ তাপপ্রবাহে পুড়ছে দেশ, দিনাজপুরে সর্বোচ্চ ৩৮.৫° সেলসিয়াস, আজও ঝড়-বৃষ্টির আভাস ◈ মার্কিন অবরোধের প্রভাব: ভিসা-মাস্টারকার্ড লেনদেন স্থগিতের ঘোষণা কিউবার ◈ মেডিকেলের ছাত্রীরা বছরের পর বছর যৌন হয়রানির শিকার, কমপক্ষে ৩০ জনের অভিযোগ ◈ দ‌ক্ষিণ আ‌ফ্রিকার টি-টোয়েন্টিতে খেল‌বেন রিশাদ হো‌সেন! ◈ ১৩ বছর পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের মা‌টি‌তে ওয়ান‌ডে জ‌য়ের স্বাদ পে‌লো  শ্রীলঙ্কা ◈ নতুন-পুরনো সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা: এনআইডি ব্লকের প্রস্তুতি, নতুন তালিকা হচ্ছে, নজরদারিতে স্বজনরাও ◈ বিদ্যুৎ দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে আজ সারা দেশে জামায়াতের বিক্ষোভ ◈ বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ডিসেম্বরে নিউজিল্যান্ড সফ‌রে যাচ্ছে ◈ লিও‌নেল মে‌সি স্পেনের মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার জিতলেন, বা‌র্সেলোনার অভিনন্দন ◈ রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলা: যুক্তিতর্ক শুনানি আজ

প্রকাশিত : ১৬ নভেম্বর, ২০২৫, ১১:০২ দুপুর
আপডেট : ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ০৭:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণই হয়নি, মেয়াদ শেষে পথে ডিএনসিসির বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ প্রকল্প, নষ্ট হচ্ছে যন্ত্রপাতি!

সহযোগীদের খবর: ক্রমবর্ধমান নাগরিক চাপে দ্রুতই ফুরিয়ে আসছে ঢাকার বর্জ্য ফেলার জমি (ল্যান্ডফিল)। বারবার জমি অধিগ্রহণের জটিলতা নিরসনে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পথে যাত্রা শুরু করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। এ লক্ষ্যে ২০২০ সালে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্প হাতে নেয় সংস্থাটি। আগামী ডিসেম্বরে এ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। দুই দফায় দ্বিগুণ ব্যয় বাড়ানো হলেও এখনো বিদ্যুৎ কেন্দ্রই নির্মাণ হয়নি। এতে প্রকল্পের কাজে ব্যবহারের জন্য কেনা মূল্যবান যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। সূত্র: বণিক বার্তা

ডিএনসিসি সূত্রে জানা গেছে, চূড়ান্ত পরিবেশ ছাড়পত্র না পাওয়ায় বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেয়া যাচ্ছে না।

জানা গেছে, স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় ২০২০ সালের জানুয়ারিতে সাভারের আমিনবাজার ল্যান্ডফিল সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণ প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পায়। প্রকল্প ব্যয় ধরা হয় ৭৮৬ কোটি ২৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন রয়েছে ২৮ কোটি টাকা। আর বাকি অর্থ জোগান দিচ্ছে সরকার। মেয়াদকাল ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত ধরা হলেও পরে তা বাড়ানো হয়।

বাড়ানো হয় প্রকল্পের ব্যয়ও। প্রথম দফায় সংশোধনের পর ব্যয় ধরা হয় ১ হাজার ২৭২ কোটি টাকা। বিভিন্ন সংকটে কাজ শেষ না করতে পারায় বিশেষ সংশোধন করে আরেক দফা ব্যয় বাড়িয়ে ধরা হয় ১ হাজার ৪২৬ কোটি টাকা। এর পরও শুরু করা যায়নি বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজ। এরই মধ্যে প্রকল্পের মেয়াদও ফুরিয়ে আসছে, যা শেষ হচ্ছে আগামী মাসে।

এর আগে ২০২৩ সালের নভেম্বরের শেষে ডিএনসিসির সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলাম ঘোষণা করেছিলেন, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ওয়েস্ট ইনসিনারেশন পদ্ধতিতে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পে যন্ত্রপাতি স্থাপনের কাজ শুরু হবে। ওই সময় তিনি বলেছিলেন, চীনা প্রতিষ্ঠান ‘চায়না মেশিনারি ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের’ (সিএমইসি) প্রকৌশলী ও কর্মকর্তারা কাজ শুরু করেছেন। মোট চারটি টারবাইনের মাধ্যমে প্রতি ঘণ্টায় ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে। ২০২৫ সালের মধ্যে অন্তত একটি টারবাইন চালু করা হবে বলে ঘোষণা করেন তিনি।

চীনা কোম্পানিকে ৩০ একর জায়গা বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে জানিয়ে সাবেক মেয়র বলেছিলেন, চীনা কোম্পানি জানিয়েছে প্রকল্প শেষ করতে তাদের দুই বছর সময় লাগবে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ঢাকা উত্তর সিটি প্রতিদিন তাদের তিন হাজার টন বর্জ্য সরবরাহ করবে।

প্রকল্পে প্রধান খাতের মধ্যে ৮০ একর ভূমি অধিগ্রহণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৮২ কোটি ৯২ লাখ টাকা। স্থাপনা অপসারণের জন্য ক্ষতিপূরণ ৭০ কোটি, ল্যান্ডফিল এলাকায় দুই লাখ ঘনমিটার বালি কেনায় ১৫ কোটি ২৯ লাখ ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ভূমি উন্নয়নে কাদামাটি ও বালির জন্য ৬৭ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এছাড়া প্রকল্পে প্রধান ও শাখা রাস্তা নির্মাণে ৩২ কোটি, ডাম্পিং প্লাটফর্ম ও প্লান্টেশনে ১৩ কোটি, ড্রেন ও বাউন্ডারি ওয়ালে ২৭ কোটি এবং ল্যান্ডফিল ফ্যাসিলিটিজের এইচডিপি লাইনার, ফ্লাড টাওয়ার লাইট ও পোস্ট ক্লোজার ল্যান্ডফিলে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৫ কোটি টাকা।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নের মাধ্যমে জমির ওপর চাপ কমানো প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য। এছাড়া পরিবেশবান্ধব উপায়ে বর্জ্য সংগ্রহ, পরিবহন ও নিরাপদে নির্দিষ্ট স্থানে অপসারণ, বর্জ্য থেকে কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ হ্রাস করা ও বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করতে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ওয়েস্ট ইনসিনারেশন পাওয়ার প্লান্ট নির্মাণের জন্য আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। কিন্তু পরিবেশ ছাড়পত্র না পাওয়ায় কাজ এগোনো যাচ্ছে না।’

ডিএনসিসি সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় ৮০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩০ একর জমিতে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্লান্ট স্থাপন করা হবে। বাকি ৫০ একরে মেডিকেল ও ই-বর্জ্যের জন্য ল্যান্ডফিল করা হবে। এছাড়া প্রকল্পটির আওতায় তিনটি হাইড্রোলিক এক্সক্যাভেটর, ছয়টি চেইন ডোজার ও দুটি লং আর্ম এক্সক্যাভেটর কেনাসহ ভূমি উন্নয়ন, রাস্তা ও বাঁধ নির্মাণের কাজ রয়েছে। ভূমি উন্নয়ন ও যন্ত্রপাতি কেনা হয়ে গেছে। কিন্তু পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না পাওয়ায় প্রকল্পের কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। ডিএনসিসির একটি সূত্র বণিক বার্তাকে জানিয়েছে, বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালু করা না গেলে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে।

এ প্রসঙ্গে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (ছাড়পত্র) মাসুদ ইকবাল মো. শামীম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমরা ডিএনসিসির আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে ওয়েস্ট টু এনার্জি প্রকল্পের পরিবেশগত ছাড়পত্র দিইনি।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইনসিনারেশন বা জ্বলন হলো একটি বর্জ্য নিষ্কাশন প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে শক্ত জৈব বস্তুগুলো পোড়ানো হয় এবং অবশিষ্টাংশ বায়বীয় বস্তুতে রূপান্তর করা হয়। ইনসিনারেশন সঠিকভাবে এবং পরিবেশবান্ধব করার জন্য বর্জ্য পোড়ানোর আগে সেগুলোকে আলাদা করে নিতে হয়। এ প্রক্রিয়ায় একই সঙ্গে হাজার হাজার টন বর্জ্য পোড়ানো যায় এবং বিপুল পরিমাণ তাপশক্তি উৎপন্ন হয়, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম। তাই বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে সুদূরপ্রসারী করতে ইনসিনারেশন পদ্ধতি সঠিকভাবে প্রয়োগ করা সময়ের দাবি।

বর্জ্য নিয়ে কোনো প্রকল্প নিতে হলে পূর্ণাঙ্গ সমীক্ষা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবং মাতুয়াইল স্যানিটারি ল্যান্ডফিল সম্প্রসারণ প্রকল্প পরিচালক ড. মোহাম্মদ সফিউল্লাহ সিদ্দিক ভূঁইয়া। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘ডিএনসিসি বা ডিএসসিসিসহ দেশের বড় শহরগুলোর বর্জ্য নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। আমাদের এত জমি নেই যে আমরা বারবার জমি অধিগ্রহণ করব আর ভরাট করব। এখন আমাদের আধুনিক প্রযুক্তিতে যেতে হবে। আর এজন্য পূর্ণাঙ্গ সমীক্ষা প্রয়োজন। তাছাড়া ওয়েস্ট টু এনার্জির (বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ) বিষয়টা খুবই সেনসিটিভ। সঠিক উপায়ে রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা করা না গেলে তা পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।’

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়