ইফতেখার আলম বিশাল, স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর বাগমারা থানার ওসি (তদন্ত) কমলেশ দাসের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি টেবিলের সামনে বসে এক হাজার টাকার নোটের একটি গুচ্ছ ওসি তদন্ত কমলেশ দাসের হাতে দিলেন। পরে সেই টাকা একটি মানিব্যাগে রাখতে দেখা যায়। ভিডিওটি ঘুষ লেনদেনের বলে দাবি করছেন অভিযোগকারীরা। তবে ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাগমারা উপজেলায় অবৈধ পুকুর খনন ও মাটি পরিবহনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কাছ থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন এলাকায় পুকুর খনন ও মাটি বিক্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ নেওয়া হতো। টাকা না দিলে এক্সকাভেটর (ভেকু) মেশিনের ব্যাটারি খুলে থানায় নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।
অভিযোগকারীদের দাবি, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে চলমান পুকুর খনন প্রকল্প থেকে বিঘাপ্রতি নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা আদায় করা হতো। এছাড়া পুরাতন পুকুর সংস্কারের ক্ষেত্রেও অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাগমারা থানার ওসি (তদন্ত) কমলেশ দাস অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ভিডিওটি কেউ শয়তানি করে ধারণ ও প্রচার করেছে। বিষয়টি আমার স্পষ্ট মনে নেই। এটি মেসের খাবার বাবদ টাকা হতে পারে, যা ম্যানেজার দিয়ে থাকবেন।”
বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিল্লুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তদন্ত করলে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
রাজশাহী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওসি (তদন্ত) কমলেশ দাসকে ক্লোজড করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।