শিরোনাম
◈ বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ওয়ানডে সিরিজের ম্যাচ দেখা যা‌বে সর্বনিম্ম ২০০ টাকায়  ◈ ঝুঁকিতে বিশ্বের ১৫ দেশ: আগামী ৫০ বছরে হারিয়ে যেতে পারে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে ◈ আপা ডাকায় নয়, পুরোনো বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি: সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশা ◈ শার্শায় আইনজীবী মিন্টুকে গ্রেফতারচেষ্টা, গ্রামবাসীর বাধায় ব্যর্থ পুলিশ ◈ বিদেশি বিনিয়োগ আনা বাংলাদেশিদের পুরস্কৃত করবে সরকার ◈ জাপানি কনসোর্টিয়ামের সাথে চুক্তি ১৯ জুলাইয়ের মধ্যে, ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে চালু হচ্ছে শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল ◈ ইন্টারপোল রেড নোটিশভুক্ত নজরুল ইসলাম লিবিয়ায় গ্রেফতার ◈ এই বিজয় বাংলাদেশ ও গণতন্ত্রের বিজয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ-হত্যা: যে কারণে স্বপ্না হঠাৎ স্বামী সোহেল রানাকে মারতে তেড়ে যান ◈ তোফায়েলের জানাজা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক, মুখ খুললেন হাছান মাহমুদ

প্রকাশিত : ১১ মে, ২০২৬, ০৬:৪৬ বিকাল
আপডেট : ০৪ জুন, ২০২৬, ১২:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

চট্টগ্রামে নানামুখী সংকটে বিপাকে খামারিরা, ৫ বছরে বন্ধ ৫ হাজার গরুর খামার!

অনুজ দেব বাপু, চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামে নানামুখী সংকটে বিপাকে পড়েছেন খামারিরা। গত ৫ বছরে বন্ধ হয়েছে ৫ হাজার গরুর খামার। প্রতিবছর গো-খাদ্য, ওষুধ ও টিকা, বিদ্যুৎ, খামারে নিয়োজিত শ্রমিকের মজুরির পাশাপাশি বাড়ছে পরিবহন খরচ। আয়ের সাথে ব্যয়ের সামঞ্জস্য রাখতে না পেরে উৎসাহ হারিয়ে একের পর এক খামার বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন খামারিরা। আগামীতে নানামুখী সমস্যায় আরও কয়েকশ’ খামার বন্ধ যেতে পারে-এ আশংকার কথা জানিয়েছেন খামারিরা। এদিকে গত পাঁচ বছরের মধ্যে চট্টগ্রামে এবার সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে গবাদিপশুর স্থানীয় উৎপাদন।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মালিক মোহাম্মদ ওমর ‘আমাদেরসময়ডটকম’কে বলেন, গো-খাদ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে যার পরিমাণ ৩০ শতাংশ। পাশাপাশি ওষুধ ও টিকা, বিদ্যুতের দাম, শ্রমিকের মজুরিসহ বেড়েছে পরিবহন খরচ। গত ৫-৬ বছর ধরে বিভিন্ন খাতে পশুর রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রতিপালনে খরচ অস্বাভাবিকভাবে বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন খামারিরা। উদ্বেগজনক তথ্য হলো, বিভিন্ন সংকটে গত ৫ বছরে বন্ধ হয়ে গেছে ৫ হাজার গরুর খামার। খামারিদের আগ্রহ হারানোয় কমেছে গবাদিপশুর স্থানীয় উৎপাদন। ঢাকা-চট্টগ্রামে বড় বড় এগ্রোগুলোর সাথে প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে ছোট ছোট খামারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছে। রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রতিপালনে বেশি খরচ করে ছোট খামারগুলো ভালো ক্রেতা পাচ্ছে না। ফলে অনেকক্ষেত্রে কম দামে পশু বিক্রি করে ক্ষতির মুখে পড়ছে।

গোখাদ্যের দাম বাড়া নিয়ে সরকারের কোনো পদক্ষেপ নেই জানিয়ে তিনি আরও বলেন, তেল, খাদ্যপণ্য, চালসহ অন্যান্য পণ্যের দাম বেড়ে গেলে বাজার মনিটরিং ও অভিযান চালিয়ে জরিমানা করার পর বাজার নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু গোখাদ্যের দাম বাড়া নিয়ে নিরব সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও প্রশাসন। ফলে গোখাদ্যকে পুঁজি করে ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া। নিজেদের ইচ্ছেমতো দাম বাড়িয়ে যাচ্ছেন তারা। সয়াবিনের খৈল আগে ২৪-২৫শ’ টাকা বিক্রি হলেও এখন দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩৪-৩৫শ’ টাকা। গমের ভুষির দাম উঠানামা করছে। ১৫শ’-১৬শ’ টাকার স্থলে কোথাও কোথাও কয়েকদিন ১৮শ’ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। ঠিক সেভাবে আটা, কুঁড়ো, ছোলার খোসা, সাদা ও লাল মোটরের খোসা, মুগডালের পাউডার- এসব খাদ্যের দাম প্রতিনিয়ত বাড়ছে। যারা পাইকারি দামে বস্তা কেনেন তারা কিছুটা লাভবান হন। কিন্তু খুচরা ক্রেতাদের কাছ থেকে বস্তাপ্রতি ৫০-১০০ টাকা বেশি আদায় করা হয়। গোখাদ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে না রাখলে খামার টিকিয়ে রাখা কঠিন। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘসময় ধরে আমরা আমাদের এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে সরব আছি। কিন্তু দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর বলেন, গোখাদ্যের দাম বাড়তিসহ নানা সংকটে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন খামার। নানামুখী সমস্যায় গত পাঁচ বছরে কমেছে গবাদিপশুর স্থানীয় উৎপাদন। তবে উৎপাদন কমলেও চট্টগ্রামে কোরবানিতে এবারও পশু সংকট হবে না। অন্যান্য জেলায় উৎপাদন ভালো হওয়ায় ওইসব এলাকা থেকে আসা গবাদিপশু দিয়ে চট্টগ্রামের চাহিদা মিটে আরও উদ্বৃত্ত থাকবে। তাছাড়া এবার চট্টগ্রামে কোরবানির চাহিদাও কম থাকায় সমস্যা হবে না। তবে গোখাদ্যসহ বিভিন্ন খরচ বাড়ায় চট্টগ্রামে পশুর দাম ১০-১৫ শতাংশ বাড়তে পারে। খামার বন্ধের সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান নেই জানিয়ে তিনি বলেন, আসলে খামারের বিষয়ে নিবন্ধন করার বাধ্যবাধ্যকতা নেই। তবে এবিষয়ে নজর না দিলে বন্ধ হয়ে যাবে অনেক খামার।

আনোয়ারা উপজেলার খামারি জসীম উদ্দিন জানান, পশুপালনে বাড়তি খরচ যুক্ত হচ্ছে। গরুর পাশাপাশি গাভী পালনেও খরচ বেড়েছে। এখন গাভী কিনতে বিনিয়োগ বেশি করতে হচ্ছে। এক লাখ টাকার গাভী কিনতে হচ্ছে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা। কিন্তু বিনিয়োগ বাড়লেও দুধের দাম সেভাবে বাড়েনি।  

চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্যমতে, চট্টগ্রাম জেলায় স্থানীয়ভাবে  হৃষ্টপুষ্টকৃত ও কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর পরিমাণ গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। শুধু গরুই নয়, মহিষ, ছাগল ও ভেড়াসহ অন্যান্য গবাদিপশুরও স্থানীয় উৎপাদনও কমেছে। চট্টগ্রাম মহানগর ও উপজেলায় স্থানীয়ভাবে গতবছর ২০২৫ সালে ৮ লক্ষ ৬০ হাজার ৮৮২টি গবাদিপশু হৃষ্টপুষ্ট করা হলেও এবার গবাদিপশুর সংখ্যা ৭ লক্ষ ৮৩ হাজার ১৫১টি। এক বছরের ব্যবধানে স্থানীয় উৎপাদন কমেছে ৭৭ হাজার ৭৩১টি। এছাড়া ২০২৪ সালে ৮ লক্ষ ৫২ হাজার ৩৫৯টি, ২০২৩ সালে ৮ লক্ষ ৪২ হাজার ১৬৫টি এবং ২০২২ সালের সংখ্যা ছিল ৭ লক্ষ ৯১ হাজার ৫০১টি। এদিকে এ বছর স্থানীয়ভাবে গরু উৎপাদিত হয়েছে ৪ লক্ষ ৯৯ হাজার ২৭৯টি। গতবছর ছিল ৫ লক্ষ ৩৫ হাজার ৮১৩টি। এক বছরের ব্যবধানে গরুর সংখ্যা কমেছে ৩৬ হাজার ৫৩৪টি। গতবছর ছাগলের সংখ্যা ২ লক্ষ ৫১ হাজার ৭৪টি থাকলেও এবছর সংখ্যা কমে হয়েছে ১ লক্ষ ৯৪ হাজার ৫১৯টি। গতবছর মহিষের সংখ্যা ৬৪ হাজার ১৬৩ টি থাকলেও এবছর সংখ্যা কমে হয়েছে ৪৭ হাজার ৮৩৪টি। গতবছর ভেড়ার সংখ্যা ৫৫ হাজার ৬৯৭টি হলেও এ বছর উৎপাদন কমে হয়েছে ৪১ হাজার ৪২৩টি।

এদিকে আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম  নগর ও জেলার বিভিন্ন স্থানে স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাটে কেনাবেচার প্রস্ততি শুরু হয়ে গেছে। আসতে শুরু করেছেন বেপারিরা। শেষ মুহূর্তের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন খামারিরা।

হাইলাইটস : *চট্টগ্রামে কোরবানির জন্য প্রস্তুত ৭ লাখ ৮৩ হাজার পশু *এবার চাহিদার তুলনায় ৩৫ হাজার ৫২০টি পশু কম * দাম বাড়বে ১০-১৫ শতাংশ * পশুর সংকট হবে না: জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়