শিরোনাম
◈ গুলশানে দুটি স্পা সেন্টারে পুলিশের অভিযান, ২৮ জন আটক ◈ হাদি হত্যা মামলায় জাবেরকে বাদী করার কারণ জানতে চান বোন মাসুমা ◈ বাজেট অধিবেশন ঘিরে সংসদ ভবন এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র বহন ও মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ ◈ এশিয়ান গেমস ক্রিকে‌টে বাংলা‌দেশসহ ১০ দল চূড়ান্ত, অ‌ক্টোব‌রে খেলা হ‌বে জাপা‌নে  ◈ গ‌্যাংস্টার দাউদ ইব্রাহিমের হুম‌কি‌তে আ‌মি প্রস্রাব ক‌রে দেই, আইপিএলের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা শোনালেন ললিত মো‌দি ◈ আগস্টে ইউপি নির্বাচনের তফসিল, আচরণবিধিতে আসছে বড় পরিবর্তন ◈ হামে ও উপসর্গে মৃত্যু বেড়ে ৬১০, ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ গেল আরও ৫ শিশুর ◈ পাহাড়ি অঞ্চলে সফল আর্লি ওয়ার্নিং মডেল: আগাম সতর্কবার্তায় কমছে প্রাণহানি, ভূমিধস মোকাবিলায় নতুন আশার আলো ◈ মার্কিন ভিসা আবেদনকারীদের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল ‘পাবলিক’ রাখার নির্দেশ দিয়েছে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস ◈ মিথ্যা কাহিনি ও জাল কাগজে অ্যাসাইলাম, হাজারো আবেদন বাতিলের হুঁশিয়ারি

প্রকাশিত : ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ০৭:২১ বিকাল
আপডেট : ০৩ জুন, ২০২৬, ০৫:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

নদীতীর রক্ষার কাজ দ্রুত এগোচ্ছে,বদলে যাবে দক্ষিণ চট্টগ্রাম

এম আর আমিন, চট্টগ্রাম : দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন নদীতীরবর্তী এলাকায় দীর্ঘদিনের ভাঙন সমস্যার সমাধানে চলমান নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্পে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরছে।

আনোয়ারা ও বাঁশখালি উপজেলায় মোট ১১.৫৮৫ কি:মি: বাধ পুনরাকৃতিকরণ ও ঢাল সংরক্ষণ কাজ এবং বাঁশখালি উপজেলায় ১.১০ কি:মি: নদী তীর সংরক্ষণ কাজ দৃশ্যমান হচ্ছে।প্রকল্পের ব্যয় ৮৭৪৫৭.০০ লক্ষ টাকা।পানি ব্যবস্থাপনা ও ভাঙন রোধে এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫০ কোটি টাকা। ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি সম্পন্ন করার কথা রয়েছে।

বাঁধ পুনরাকৃতিকরণ ও ঢাল সংরক্ষণের মাধ্যমে সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের বিরূপ প্রভাব থেকে প্রকল্প এলাকা রক্ষা হবে।নদী তীর প্রতিরক্ষার মাধ্যমে আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ী ঢলে প্রকল্প এলাকায় অব্যাহত ভাঙ্গন রোধ করবে।
এলাকায় বিভিন্ন ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জনসাধারণের বসত বাড়ি, বাজার-ঘাট ও অতি উর্বর আবাদি কৃষি জমিসহ সরকারী-বেসরকারী বহু মূল্যবান স্থাপনা বন্যার কবল হতে রক্ষা হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম জানান, বিগত কয়েক বছরে বর্ষা মৌসুম এলেই নদীভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাতে হতো। অনেক পরিবার বসতভিটা হারিয়ে অন্যত্র সরে যেতে বাধ্য হয়েছে। তবে বর্তমানে কাজের অগ্রগতি চোখে পড়ার মতো হওয়ায় তারা নতুন করে আশার আলো দেখছেন। তিনি আরও বলেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কৃষি উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন ও পানি ব্যবস্থাপনায় বড় অগ্রগতি হবে।

দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও আনোয়ারা উপকূলের মানুষ প্রতি বছর কৃষিজমি ও ঘরবাড়ি হারাচ্ছেন। বর্ষা মৌসুমে লবণাক্ত পানির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষিজমি ও বসতবাড়ি। এতে অনাবাদি জমির পরিমাণও বাড়ছে। অন্যদিকে ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়ে মানুষ বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের আনোয়ারা উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী  বর্ণ হক বলেন,নদীতীর সুরক্ষায় প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে নদীভাঙন অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং স্থানীয় অবকাঠামো, কৃষিজমি ও জনবসতি সুরক্ষিত থাকবে।

এতে সামাজিক সুরক্ষা জোরদার হবে, দারিদ্র্য কমবে এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। এছাড়া লবণাক্ত ও মিঠা পানির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি, মৎস্য ও লবণ চাষ বৃদ্ধি পাবে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে সিসি ব্লক স্থাপন,  নিক্ষেপ, প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ এবং নদীতীর সংরক্ষণে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।

প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে জানান, বাঁধ পুনঃনির্মাণ ও ঢাল সংরক্ষণ কাজ ৮টি প্যাকেজে বিভক্ত। এর মধ্যে ৪টি প্যাকেজে নৌ-বাহিনী কাজ করছে, যেখানে অগ্রগতি প্রায় ৭৫ শতাংশ। নদীতীর সংরক্ষণ কাজ ৪টি ওটিএমে বাস্তবায়িত হচ্ছে—এর মধ্যে ২টির অগ্রগতি ৭৫ শতাংশ এবং বাকি ২টির অগ্রগতি প্রায় ৩০ শতাংশ।

চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড ডিভিশন-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে সহীদ জানান, চলমান প্রকল্প বাস্তবায়নে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এর মধ্যে নির্মাণসামগ্রী পরিবহনে সমস্যা উল্লেখযোগ্য, ফলে নির্ধারিত সময়ে প্রয়োজনীয় উপকরণ প্রকল্প এলাকায় পৌঁছাতে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন,২৪ সালের ৫ আগস্টের পর স্থানীয় রাজনৈতিক গ্রুপিং ও দ্বন্দ্বের কারণে প্রকল্পের কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট প্রকল্পের অগ্রগতিকে কিছুটা ধীর করে দিয়েছে। ঠিকাদাররা এ বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে বলেছেন, জ্বালানি সংকট অব্যাহত থাকলে উন্নয়ন কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।

উল্লেখ্য : ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে দক্ষিণ চট্টগ্রাম লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। এতে হাজার হাজার বসতবাড়ি বিধ্বস্ত হয় এবং প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষ প্রাণ হারায়। এছাড়া শত শত কিলোমিটার সড়ক, সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং হাজার হাজার একর কৃষিজমি নদী ও সাগরে বিলীন হয়ে যায়।

ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী সময়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভিন্ন এলাকায় উপকূল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলে এবং শত শত কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বিভিন্ন উপজেলায় নদীতীরবর্তী বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও উপকূল সুরক্ষায় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে প্রতিরক্ষা কাজ বাস্তবায়ন করা হয়। এতে উপকূলীয় এলাকার মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়