জামাল হোসেন খোকন,জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) : চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে অবৈধভাবে ভারতে পাচারের সময় ৪ শিশুসহ ৮ বাংলাদেশি নাগরিককে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত দুই দালালকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
রোববার (৫ এপ্রিল) বিকাল ৫টায় জীবননগর থানা কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সুপার আবুল নাসের এ তথ্য জানান।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জেলা পুলিশ সুপারের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সোলায়মান শেখ-এর তত্ত্বাবধানে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন আগে অবৈধভাবে ভারতের হরিয়ানা রাজ্যে বসবাস করতেন। প্রায় ৭-৮ মাস আগে তারা সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্ত দিয়ে দেশে ফেরেন। পরে পুনরায় ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে দালাল চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
যশোরের মনিরামপুর এলাকার দালাল শফির মাধ্যমে জীবননগরের বেনীপুর গ্রামের স্থানীয় দালাল ফারুক হোসেন ও ইসরাফিল হোসেনের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ হয়। ভারতে “কার্টুন তৈরির ভালো কাজ” দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মোট ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায় চুক্তি করা হয়।
গত ৫ এপ্রিল রাত আনুমানিক ৩টার দিকে সীমান্তবর্তী এলাকায় নিয়ে গিয়ে দালালরা ভিকটিমদের ভারতে পার না করিয়ে কৌশলে তাদের কাছ থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এ সময় রাকিব মোল্লা নামে এক ভিকটিমকে মারধর করা হয়। পরে দালালরা পালিয়ে যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত অভিযান চালিয়ে জীবননগর থানা পুলিশ ইসরাফিল (৩২) ও মোঃ উজ্জ্বল হোসেন (৪০) নামে দুই আসামিকে গ্রেফতার করে। তারা উভয়েই জীবননগর উপজেলার বেনীপুর গ্রামের বাসিন্দা।
উদ্ধার হওয়া ভিকটিমদের মধ্যে রয়েছেন রাকিব মোল্লা, নাইস মিনা খানম, লিমন মোল্লা, সাথী খাতুনসহ মোট ৮ জন, যার মধ্যে ৪ জন শিশু। তাদের জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার আবুল নাসের বলেন, “এই ঘটনার সঙ্গে যত বড় প্রভাবশালী মহলই জড়িত থাকুক না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে জেলা পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে।”
পুলিশ আরও জানিয়েছে, দালাল চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।