শিরোনাম
◈ এআই ও প্রযুক্তিনির্ভর যুগে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত হতে হবে: তারেক রহমান ◈ বালুবোঝাই ট্রাক উঠতেই ভেঙে পড়ল সেতু, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ ◈ ভালো ব্যাংকও রক্ষা পায়নি, ৬১ ব্যাংকের মধ্যে ৪৪টির অবস্থার অবনতি, বেড়েই চলেছে খেলাপি ঋণের পাহাড় ◈ ভারতে ডেটা সেন্টার খাতে ৩০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল বিনিয়োগ করবেন বাংলাদেশি-অস্ট্রেলীয় ব্যবসায়ী রবিন খুদা! ◈ জেল থেকে ফিরে নানা আলোচনার কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভী, সরগরম চুনকা কুঠির ◈ মাদকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ নাকি আইন হাতে তুলে নেওয়া? ভাইরাল গণপিটুনির ঘটনায় বিতর্ক ◈ ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় সেই ‘ডলার’কে নিয়ে ভিন্ন কথা বললেন রামিসার বাবা ◈ আদালতের ঐতিহাসিক রায়: ১৬ দিনে বিচার সম্পন্ন, রামিসা হত্যা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড ◈ অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কড়াকড়ি, ১৭ মাসে ৪৬০০ ভারতীয়কে ফেরাল যুক্তরাষ্ট্র ◈ বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ম্যাচে মিশরকে হারালো ব্রাজিল

প্রকাশিত : ০৬ মার্চ, ২০২৬, ১০:৩৯ রাত
আপডেট : ৩০ মে, ২০২৬, ০৩:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সিসিটিভি ফুটেজ থাকার পরও অগ্রগতি নেই তদন্তে

বেনাপোলে গরু ব্যবসায়ী মিজান হত্যার ৬ মাসেও রহস্য উদ্ঘাটন হয়নি

মো. আজিজুল হক, বেনাপোল (যশোর): যশোরের বেনাপোলে গরু ব্যবসায়ী মিজানুর রহমানকে গলা কেটে হত্যার ঘটনার ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত বা গ্রেপ্তারেও নেই কোনো অগ্রগতি। এতে স্থানীয়দের মধ্যে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং অপরাধীদের আড়াল করার সন্দেহও তৈরি হয়েছে।

গত বছরের ২৮ আগস্ট গভীর রাতে বেনাপোলের ছোটআঁচড়া গ্রামে নিজ বাড়ির উঠানে নৃশংসভাবে জবাই করে হত্যা করা হয় মিজানুর রহমানকে। ঘটনার সময় বাড়িতে ছিলেন তার স্ত্রী ফিরোজা খাতুন (৪২), মেয়ে ফাতেমা খাতুন বৃষ্টি (২৪) এবং ছেলে ওমর ফারুক মুরসালিন (২০)।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বাড়ির নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে কোনো বহিরাগত ব্যক্তির প্রবেশের দৃশ্য দেখা যায়নি। ফলে প্রশ্ন উঠেছে— এত নিরাপত্তাবেষ্টিত বাড়ির ভেতরে মিজানুর রহমানকে কে বা কারা হত্যা করল।

নিহতের স্ত্রী ফিরোজা খাতুন জানান, ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ১১টার দিকে মিজান বাড়িতে ফিরে গেট ও ঘরের দরজা বন্ধ করে ঘুমাতে যান। প্রতি শুক্রবার ভোররাত আড়াইটার দিকে তিনি পাশের বড়আঁচড়া গ্রামের মাংস ব্যবসায়ী আহমেদ আলীর দোকানে মাংস কাটার কাজে যেতেন।

পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজে দেখতে পায়, রাত আনুমানিক ৩টা ৩০ মিনিটে আহমেদ আলীর ভ্যানচালক রহমত আলী মিজানুর রহমানকে ডাকতে বাড়িতে আসেন। তখন বাড়ির মূল ফটক ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। পরে মিজানুরের স্ত্রী ফিরোজা খাতুন ঘরের ক্লপসিবল গেটের তালা খুলে বাইরে এসে মূল গেট খুলে দিলে রহমত আলী বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করেন।

নিহতের মেয়ে ফাতেমা খাতুন বৃষ্টি পুলিশের উপস্থিতিতে জানান, ভ্যানচালকের ডাক শুনে তার মা বাইরে গিয়ে দেখতে পান, ঘরের ক্লপসিবল গেটের সামনে গোয়ালঘরের দরজার পাশে তার বাবার মরদেহ পড়ে আছে।

স্থানীয়দের দাবি, এত সুরক্ষিত বাড়িতে বাইরের কারো প্রবেশ না থাকলে হত্যাকাণ্ড কীভাবে ঘটল— এ প্রশ্ন এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। অনেকের ধারণা, হত্যার আগে মিজানুর রহমানকে কোনো চেতনানাশক পদার্থ খাইয়ে অচেতন করা হয়ে থাকতে পারে।

এদিকে পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, হত্যার কিছুক্ষণ আগে রাত ২টা ২৯ মিনিটে ব্যবসায়িক অংশীদার আহমেদ আলীর সঙ্গে মিজানুর রহমানের ফোনে কথা হয়েছিল। সিসিটিভির শব্দ বিশ্লেষণে দেখা যায়, ওই কথোপকথনের মাত্র ৬–৭ মিনিট পরই তার গলা কেটে হত্যা করা হয়।

ঘটনাস্থলটি সিসিটিভি ক্যামেরার সরাসরি দৃশ্যের বাইরে থাকায় হত্যাকাণ্ড নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন ছড়িয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে। হত্যার পেছনে পারিবারিক দ্বন্দ্ব বা অন্য কোনো সম্পর্কজনিত ঘটনারও সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের স্ত্রী বা সন্তান কেউই মামলার বাদী হতে রাজি হননি। পরে নিহতের বড় ভাই ভাই হত্যার বিচার চেয়ে মামলা দায়ের করেন।

এদিকে তদন্তে অগ্রগতি না হওয়ায় তৎকালীন ওসি রাসেল মিয়াকে বেনাপোল পোর্ট থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। এরপর নতুন দুইজন ওসি দায়িত্ব নিলেও এখনো হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন হয়নি। এতে এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

এ বিষয়ে বেনাপোল পোর্ট থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মানিক সাহা বলেন,
“মিজান হত্যা মামলার রহস্য এখনো উদ্ঘাটন হয়নি। তবে আমরা সাধ্যমতো তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি।”

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়