শিরোনাম
◈ ভালো ব্যাংকও রক্ষা পায়নি, ৬১ ব্যাংকের মধ্যে ৪৪টির অবস্থার অবনতি, বেড়েই চলেছে খেলাপি ঋণের পাহাড় ◈ ভারতে ডেটা সেন্টার খাতে ৩০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল বিনিয়োগ করবেন বাংলাদেশি-অস্ট্রেলীয় ব্যবসায়ী রবিন খুদা! ◈ জেল থেকে ফিরে নানা আলোচনার কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভী, সরগরম চুনকা কুঠির ◈ মাদকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ নাকি আইন হাতে তুলে নেওয়া? ভাইরাল গণপিটুনির ঘটনায় বিতর্ক ◈ ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় সেই ‘ডলার’কে নিয়ে ভিন্ন কথা বললেন রামিসার বাবা ◈ আদালতের ঐতিহাসিক রায়: ১৬ দিনে বিচার সম্পন্ন, রামিসা হত্যা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড ◈ অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কড়াকড়ি, ১৭ মাসে ৪৬০০ ভারতীয়কে ফেরাল যুক্তরাষ্ট্র ◈ বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ম্যাচে মিশরকে হারালো ব্রাজিল ◈ ডিজিটাল উদ্যোক্তাদের জন্য সুখবর: রেমিট্যান্স হিসেবে গণ্য হবে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের বৈদেশিক আয়, থাকছে না উৎসে কর ◈ ১৬০ অর্থনীতিবিদের জরিপ: স্পেনকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতবে ফ্রান্স

প্রকাশিত : ০৬ মার্চ, ২০২৬, ০৬:৫০ বিকাল
আপডেট : ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ০১:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে এক্স-রে সেবা ব্যাহত, চরম ভোগান্তিতে রোগীরা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে রেডিও টেকনোলজিস্ট (রেডিওগ্রাফার) না থাকায় নিয়মিত এক্স-রে সেবা ব্যাহত হচ্ছে। সপ্তাহে মাত্র দুই দিন এক্স-রে করা হলেও সেসব পরীক্ষার রিপোর্ট না পাওয়ায় রোগীদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে। ফলে অনেক রোগী বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত খরচ করে শহরের বিভিন্ন বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এক্স-রে করাতে বাধ্য হচ্ছেন।

বর্তমানে হাসপাতালটিতে সপ্তাহে মাত্র দুই দিন—শনিবার ও মঙ্গলবার—এক্স-রে করা হচ্ছে। বাকি দিনগুলোতে এ সেবা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। এতে প্রতিদিন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা বহু রোগী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে না পেরে বিপাকে পড়ছেন।

ফরিদপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে, ফরিদপুর পৌরসভার পাশেই অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল। ১৯১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ধরে শহরবাসীর প্রাথমিক চিকিৎসাসেবার অন্যতম ভরসাস্থল হিসেবে পরিচিত। যদিও শহরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল রয়েছে, তবে সেটি শহর থেকে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে হওয়ায় অনেকেই প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য জেনারেল হাসপাতালেই আসেন।

কিন্তু হাসপাতালে এসে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করতে পারায় অনেক রোগীকেই পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে। এক্স-রে সেবা সীমিত হয়ে পড়ায় এ সুযোগে সক্রিয় হয়ে উঠেছে কিছু দালালচক্র। তারা অসহায় রোগীদের বিভিন্ন বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে গিয়ে এক্স-রে করাতে প্রলুব্ধ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী রোগীরা জানান, সপ্তাহে দুই দিন এক্স-রে করা হলেও হাসপাতাল থেকে কোনো রিপোর্ট দেওয়া হয় না। ফলে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী আবারও বাইরে থেকে এক্স-রে করাতে হচ্ছে।

শহরের টেপাখোলা এলাকার বাসিন্দা সঞ্জয় কর্মকার বলেন, “গত সপ্তাহে রিকশা থেকে পড়ে গিয়ে আমার হাত ভেঙে যায়। তখন জেনারেল হাসপাতালে এসে চিকিৎসকের পরামর্শে এক্স-রে করতে বলা হয়। কিন্তু সেদিন এখানে এক্স-রে করা সম্ভব হয়নি। আজ আবার হাতের অবস্থা দেখানোর জন্য এক্স-রে করতে বলা হয়েছে, কিন্তু আজও এখানে করা গেল না। বাধ্য হয়ে বাইরে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বাড়তি টাকা দিয়ে এক্স-রে করাতে হলো।”

আরেক ভুক্তভোগী রোগী মোছা. সালমা বেগম বলেন, “সরকারি হাসপাতালে কম খরচে চিকিৎসা পাবো এই আশায় এখানে এসেছিলাম। কিন্তু এক্স-রে না হওয়ায় বাইরে গিয়ে করতে হয়েছে। এতে আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য চিকিৎসা ব্যয় অনেক বেড়ে যাচ্ছে।”

হাসপাতালের ভেতরে কিছু দালাল সক্রিয় রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন রোগী ও তাদের স্বজনরা। তারা বলেন, হাসপাতালে এক্স-রে না হওয়ায় অনেক সময় কিছু লোক এসে রোগীদের নির্দিষ্ট কিছু বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

এ বিষয়ে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, “বর্তমানে হাসপাতালে রেডিওগ্রাফারের পদটি শূন্য রয়েছে। তাই নিয়মিত এক্স-রে সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আপাতত চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন রেডিওগ্রাফারকে সপ্তাহে দুই দিন এনে এক্স-রে করানো হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, শূন্য পদ পূরণের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে অনেক আগেই চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। দ্রুত পদটি পূরণ হলে আবারও নিয়মিত এক্স-রে সেবা চালু করা সম্ভব হবে।

স্থানীয়দের দাবি, শহরের গুরুত্বপূর্ণ এই হাসপাতালে দ্রুত রেডিওগ্রাফার নিয়োগ দিয়ে পূর্ণাঙ্গ এক্স-রে সেবা চালু করা হলে রোগীদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়