শিরোনাম
◈ বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৩৫ লাখ টন খাদ্য অপচয় হচ্ছে : সংসদে খাদ্যমন্ত্রী ◈ বজ্রপাত ও দুর্যোগ ঝুঁকি কমাতে আধুনিক প্রযুক্তির দিকে যাচ্ছে সরকার : সংসদে ত্রাণমন্ত্রী ◈ আফগা‌নিস্তান নাজেহাল, একদিনেই দু’বার অলআউট করে ৩০০ রা‌নে টেস্ট জিতলো ভারত ◈ ‘অনেক হয়েছে, এবার শেষ করা যাক’: সরাসরি সম্প্রচারে মেজাজ হারালেন ট্রাম্প, সাক্ষাৎকার ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন ◈ বাজেট ২০২৬-২৭: উচ্চক্ষমতার মোটরসাইকেলে টিআইএন, করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব ◈ বাংলাদেশে ৪৮০০ জনকে প্রত্যাবাসনের দাবি, নতুন তথ্য দিলেন শুভেন্দু ◈ অবহেলা, প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে ড. ইউনূসসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন ◈ ইসলামী ব্যাংকে আস্থার সংকট: পাঁচ দিনে ইসলামী ব্যাংক থেকে উত্তোলন ৩৫০০ কোটি টাকা ◈ মামলা দায়েরের জন্য ১০ হাজার টাকা দাবি, লাশ নিয়ে থানা ঘেরাওয়ের পর এসআই প্রত্যাহার ◈ অস্ট্রেলিয়ার ভিসা ও চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে লাখো টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক চক্র, আবেদনকারীদের সতর্কবার্তা

প্রকাশিত : ৩১ জানুয়ারী, ২০২৬, ০২:৩৩ রাত
আপডেট : ০৭ এপ্রিল, ২০২৬, ০৬:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মা-মেয়ে জোড়া হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর রহস্য উদঘাটন করল পুলিশ

মা-মেয়ের জোড়া হত্যাকাণ্ড নিয়ে মুন্সিগঞ্জে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হওয়া ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। মোবাইল ফোনের উচ্চ শব্দ নিয়ে বিরক্তি থেকেই সিরাজদীখানে আমেনা বেগম ও তার আট বছর বয়সী মেয়ে মরিয়মকে খুন করেছে একই বাড়ির ভাড়াটিয়া, মাদকাসক্ত মোহাম্মদ আলী হোসেন। গ্রেপ্তারের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ১৬১ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আলী হোসেন বলেছেন, মোবাইলের শব্দ কমাতে বলাকে কেন্দ্র করেই তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়, আর ক্রোধের বশে তিনি দুজনকে হত্যা করেন।

পুলিশ জানায়, গত ১৯ জানুয়ারি সকালে দক্ষিণ রাজানগর এলাকার একটি ভাড়া বাসার কক্ষের ভেতর মোবাইলে ভিডিও দেখছিলেন আমেনা বেগম। এ সময় শব্দ কমাতে বলার পর প্রতিবেশী ভাড়াটিয়া আলী হোসেনের সঙ্গে তার তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। এক পর্যায়ে আলী হোসেন কাঠের ডাসা দিয়ে আমেনা বেগমের মাথায় আঘাত করে হত্যা করেন। মাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে একইভাবে ছোট্ট মরিয়মকেও তিনি আঘাত করেন, ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় মেয়েটির।

ঘটনার দিনই আমেনা বেগম ও মরিয়মের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নিহত আমেনার মা মনোয়ারা বেগম অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে সিরাজদীখান থানায় হত্যা মামলা করেন। এরপর সেখানকার শেখরনগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ সনজিৎ কুমার ঘোষের নেতৃত্বে একটি দল টানা দশ দিন তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও বিভিন্ন সূত্রে অনুসন্ধান চালায়। তদন্তে প্রমাণ মেলে যে আমেনা বেগমের পাশের কক্ষে থাকা ভাড়াটিয়া আলী হোসেনই ঘটনার পর হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যান। তার প্রকৃত পরিচয়ও বাড়ির মালিক জানতেন না।

তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করার পর পুলিশ জানতে পারে, হত্যা করার পর পালিয়ে আলী হোসেন মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া ও কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন। কখনো ফলের বাগানে, কখনো স্কুলের বারান্দায় রাত কাটিয়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে অবস্থান বদল করছিলেন তিনি। টানা তিন দিনের অভিযানে গত বুধবার রাত পৌনে ১০টার দিকে গজারিয়ার মেঘনা-গোমতী সেতুর সংলগ্ন পাখির মোড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের সময় হত্যায় ব্যবহৃত কাঠের ডাসাটিও উদ্ধার করা হয়।

শুক্রবার বিকেলে মুন্সিগঞ্জ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মেনহাজুল আলম এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানিয়ে বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আলী হোসেন নিয়মিত মাদক সেবন করতেন এবং ভবঘুরে ধরনের জীবনযাপন করতেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার সহিংস আচরণের প্রমাণ মিলেছে। মোবাইল ফোনের উচ্চ শব্দ নিয়ে বিরক্তি ও সামান্য বাকবিতণ্ডাই যে পরিণত হয়েছিল এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডে তা তদন্তে স্পষ্ট হয়েছে।

পুলিশ সুপার আরও জানান, ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, কিংবা আসামির বিরুদ্ধে আগেও কোনো অভিযোগ ছিল কি না এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত এখনো চলমান। শুক্রবার প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আলী হোসেনকে আদালতে পাঠানো হয় এবং সেখান থেকে তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। উৎস: চ্যানেল24

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়