বিএনপিকে উদ্দেশ করে জামায়াতের আমির বলেন, ‘যারা নিজেদের দলকে সামলে রাখতে পারে না, কর্মীদের জীবনের নিরাপত্তা দিতে পারে না, সেই দল যত বড় দলই হোক, তাদের কাছে বাংলাদেশ নিরাপদ নয়। আপনারা দেশ গড়ার আগে নিজের দলকে গড়েন ভালো করে। এতে দেশ লাভবান হবে; আপনারাও লাভবান হবেন। এই ক্ষেত্রে আমাদের সহযোগিতা দরকার হলে সেটাও আমরা করব। তারপরেও আল্লাহর ওয়াস্তে শৃঙ্খলার দিকে আসেন। দল হিসাবে জামায়াত সহকর্মীদের সামলিয়ে রাখতে পারে, সেই দলই বাংলাদেশকে সামলে রাখতে পারবে।’
বিএনপিকে উদ্দেশ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘একদিকে ফ্যামিলি কার্ড, অন্যদিকে মহিলাদের গায়ে হাত, দুটো একসাথে চলতে পারে না। এটিই বার্তা, তারা জিতলে কেউ নিরাপদ থাকবে না।’ আজ মঙ্গলবার সকালে যশোর ঈদগাহ ময়দানে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে এই জনসভা হয়।
জুলাই আন্দোলনের পরে মামলা-বাণিজ্য করে মানুষকে হয়রানি-নির্যাতন করা হয়েছে মন্তব্য করে জামায়াতের আমির বলেন, ‘আমরা হাজার হাজার মামলা করিনি। আমাদের মামলার সর্বোচ্চ আসামি ৯৮ জন। কিন্তু আমাদের কিছু ভাই মামলা করেছে হাজারে হাজার। আরও আছে অজ্ঞাত। এগুলো দিয়ে মানুষকে হয়রানি করা হয়েছে। মানুষের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে। এটার আমরা নিন্দা জানাই। এটা বিচারকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এ ধরনের মামলা-বাণিজ্য করতেও চাই না, দেখতেও চাই না। এসব থেকে মুক্তির জন্য দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেবেন।’
গণভোট নিয়ে বাহ্যিকভাবে যা-ই হোক, ভেতরে ভেতরে একটি দল নাখোশ বলে মন্তব্য করেন শফিকুর রহমান। জামায়াতের আমির বলেন, ‘এই গণভোট হলে ফ্যাসিবাদ কায়েম হবে না। গণভোট হলে কারও সম্পদের ওপর হাত দেওয়া যাবে না। এই গণভোট হলে দলীয় চাঁদাবাজির রমরমা ব্যবসা চলবে না। সেই জন্য কেউ কেউ গণভোটে সন্তুষ্ট না। বাহ্যিকভাবে যা-ই হোক, ভেতরে ভেতরে তারা নাখোশ। কিন্তু তারা মুখ খুলে বলতে পারছে না। কারণ, ১৮ কোটি মানুষ গণভোটের পক্ষে। ১৮ কোটি মানুষ পরিবর্তন দেখতে চায়। গণভোটে ‘‘হ্যাঁ’’ মানেই আজাদি, গণভোটে ‘‘না’’ মানে গোলামি।’ ১২ তারিখ প্রথম ভোটটা পড়বে গণভোটের ‘‘হ্যা’’ পক্ষে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দল হিসেবে একমাত্র মজলুম দল জামায়াতে ইসলামী মন্তব্য করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘মজলুম দল হিসাবে আর একটি নাই জামায়াতের মতো। যে যত চিৎকার দিক না কেন, লাভ হবে না। ক্রমান্বয়ে শীর্ষ ১১ জনকে হত্যা করা হয়েছে। অনেকেই ফ্যাসিস্টের অনুমতি নিয়ে মিটিং করেছে। আমরা অনুমতিও নিইনিও। মজলুম অবস্থায় যেখানেই পেরেছি, সেখানে প্রতিবাদ করেছি।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘সিন্ডিকেটমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলব। সিন্ডিকেট গোটা বাংলাদেশকে অবশ করে দিয়েছে। এই সিন্ডিকেটের হাত গুঁড়িয়ে দেব। চাঁদাবাজি করা লাগবে না; চাঁদাবাজদের বুকে টেনে নিয়ে তাঁদের হাতে কাজ দিয়ে দেব। যারা এসব চাঁদাবাজদের বিপথে নিয়েছে, তাদেরকেও সুপথে নিয়ে আসব। সুপথে এসে সবাই দল করুক।’
যশোরের বিভিন্ন দাবি প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির বলেন, ‘আমাদের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা, পাল্লার মাপে কোনো কমবেশি করব না, যার যা প্রাপ্য, তা বুঝিয়ে দেব।’ এ সময় তিনি ক্ষমতায় গেলে যশোরকে সিটি করপোরেশন ঘোষণার প্রতিশ্রুতি দেন।