শিরোনাম
◈ কোরআ‌নে চুমু দি‌য়ে যাত্রা শুরু, মেক্সিকোতে ইরানের বিশ্বকাপ দল‌কে উষ্ণ অভ্যর্থনা ◈ নাহিদ রানাকে নিয়ে আতং‌কে আ‌ছি, বললেন অ‌স্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক ◈ মোবাইলের স্ক্রিন থেকে মাঠে ফিরুক শিশুরা, খেলার মাঠ ও পার্ক দখলমুক্তের ঘোষণা সংসদে ◈ ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নেই, তবু বলছি’— আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সংসদে রুমিন ফারহানার তোপ ◈ যুক্তরা‌স্ট্রে ইংল্যান্ড দ‌লের ক‌্যা‌ম্পের কা‌ছেই বন্দুক হামলা, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বিশ্বকাপের অ‌নেকগুলো দল ◈ এলডিসি উত্তরণের প্রভাব: ঝুঁকিতে সাড়ে ১৭ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি: বাণিজ্যমন্ত্রী ◈ উত্তরবঙ্গের আকাশপথে নতুন দিগন্ত, ৩ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে বদলে যাচ্ছে বগুড়া বিমানবন্দর ◈ বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৩৫ লাখ টন খাদ্য অপচয় হচ্ছে : সংসদে খাদ্যমন্ত্রী ◈ বজ্রপাত ও দুর্যোগ ঝুঁকি কমাতে আধুনিক প্রযুক্তির দিকে যাচ্ছে সরকার : সংসদে ত্রাণমন্ত্রী ◈ আফগা‌নিস্তান নাজেহাল, একদিনেই দু’বার অলআউট করে ৩০০ রা‌নে টেস্ট জিতলো ভারত

প্রকাশিত : ০৯ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৭:২২ বিকাল
আপডেট : ১৩ মে, ২০২৬, ০৪:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ফরিদপুরে হেলে থাকা নারকেল গাছ আতঙ্ক, ঝড়-বৃষ্টিতে মৃত্যুভয়ে দুটি পরিবার

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: মাঝে মধ্যেই বিকট শব্দে ভেঙে পড়ছে ডালপালা, ঝরে পড়ছে পচা নারকেল। প্রতিদিনের এমন ঘটনায় চরম আতঙ্ক আর মৃত্যুভয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে দুটি পরিবার। বসতঘরের ওপর হেলে থাকা একটি বিশাল নারকেল গাছ সামান্য ঝড়-বৃষ্টি হলেই যে কোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে—এই আশঙ্কায় দিন-রাত কাটছে তাদের।

প্রবাসী টিটুন মাতুব্বর তার পরিবারের আট সদস্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই এই ভয়াবহ ঝুঁকির মধ্যেই বসবাস করছেন। রাত নামলেই উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়। কখন কী ঘটে—এই শঙ্কায় নির্ঘুম রাত কাটছে পরিবারের সবার।

ঘটনাটি ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার তালমা ইউনিয়নের বিবিরকান্দী গ্রামের। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমি ও সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে প্রতিবেশী কোরবান মাতুব্বর ইচ্ছাকৃতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় গাছটি রেখে ভুক্তভোগী পরিবারকে ভয় ও চাপের মধ্যে রাখছেন বলে অভিযোগ।

ভুক্তভোগীরা একাধিকবার গাছটি অপসারণের অনুরোধ জানালেও কোনো সাড়া মেলেনি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে গিয়েও কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত উপায় না পেয়ে তারা গ্রাম আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এ বিষয়ে টিটুন মাতুব্বর অভিযোগ করে বলেন, “আমরা বহুবার অনুরোধ করেছি গাছটা কাটতে বা সরাতে। কিন্তু সে আমাদের কথা শোনে না। পেশিশক্তির জোরে আমাদের জন্য মৃত্যুর ফাঁদ তৈরি করে রেখেছে। দ্রুত সমাধান না হলে আমাদের পরিবার নিয়ে পথে রাত কাটাতে হতে পারে।”

ভুক্তভোগী পরিবারের আরেক সদস্য, এসএসসি পরীক্ষার্থী মৌ আক্তার বলেন, “রাতে পড়াশোনার সময় হঠাৎ হঠাৎ জোরে নারকেল আর ডালপালা পড়ে। একদিন দেখি টিনের চাল ফুটো হয়ে গেছে। খুব ভয় লাগে—কখন যে গাছটা ভেঙে পড়বে!”

অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে কোরবান মাতুব্বরের স্ত্রী আম্বিয়া বেগম বলেন, “ওরা যা বলছে সব মিথ্যা। আমাদের সঙ্গে সীমানা নিয়ে মামলা চলছে। গাছটা আমাদের জায়গার মধ্যেই আছে। মামলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমরা গাছ কাটবো না।” কোরবান মাতুব্বরের বোন জিরা খাতুনও একই দাবি করেন।

এ বিষয়ে তালমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন মিয়া বলেন, “দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি ও সীমানা সংক্রান্ত বিরোধ চলছে। স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা সমাধানের চেষ্টা করা হলেও সফল হওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে, দ্রুত দুই পক্ষকে ডেকে বিষয়টি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত প্রশাসনিক ও সামাজিক উদ্যোগ না নেওয়া হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা কিংবা সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে। তাই স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপই এখন ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর একমাত্র ভরসা।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়