শিরোনাম
◈ ‘অনেক হয়েছে, এবার শেষ করা যাক’: সরাসরি সম্প্রচারে মেজাজ হারালেন ট্রাম্প, সাক্ষাৎকার ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন ◈ বাজেট ২০২৬-২৭: উচ্চক্ষমতার মোটরসাইকেলে টিআইএন, করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব ◈ বাংলাদেশে ৪৮০০ জনকে প্রত্যাবাসনের দাবি, নতুন তথ্য দিলেন শুভেন্দু ◈ অবহেলা, প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে ড. ইউনূসসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন ◈ ইসলামী ব্যাংকে আস্থার সংকট: পাঁচ দিনে ইসলামী ব্যাংক থেকে উত্তোলন ৩৫০০ কোটি টাকা ◈ মামলা দায়েরের জন্য ১০ হাজার টাকা দাবি, লাশ নিয়ে থানা ঘেরাওয়ের পর এসআই প্রত্যাহার ◈ অস্ট্রেলিয়ার ভিসা ও চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে লাখো টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক চক্র, আবেদনকারীদের সতর্কবার্তা ◈ ব্যাংকিং খাতে নতুন শর্ত: নতুন ও পুরোনো হিসাবেও লাগবে টিআইএন, আসছে বাজেটে প্রস্তাব ◈ দেশের বিভিন্ন জেলায় ভুয়া কমিটি গঠন ও প্রচারের অভিযোগ, বিএনপির মিডিয়া সেলের সতর্কবার্তা ◈ ঘোড়ার মাংস খাওয়া নিয়ে জয়া আহসানের রিট, যে নির্দেশ দিলেন হাইকোর্ট

প্রকাশিত : ০৪ জানুয়ারী, ২০২৬, ১২:৪০ দুপুর
আপডেট : ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

চাচা-ভাতিজার ধর্ষণে দুই বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বোন অন্তঃসত্ত্বা

প্রতিবন্ধী মেয়ের মা বাড়িতে না থাকার সুযোগে রান্না ঘরে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে চাচা-ভাতিজার ধর্ষণে দুই বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বোন অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সূত্র জানায়, ওই গ্রামে দুই বোন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। দু’জনই ভাতা পান। তাদের মাও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। বাবা মারা গেছেন আনুমানিক ৪ মাস আগে। দিনানিপাত করে চলে তাদের সংসার। ২০২২ সালের জুন মাসে বড় বোনকে একই গ্রামের খাইরুল নামে এক যুবক ধর্ষণ করে। এতে ভুক্তভোগী ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়। পরে খাইরুল তার সহযোগীদের নিয়ে অপহরণ করে গর্ভপাত করে। তৎকালীন এ ঘটনায় মামলার পর র‌্যাব-১৪ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে পুলিশ তাকে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠায়।

ওই মামলায় খাইরুল জামিনে আছেন এবং মামলা চলমান আছে। এবার চলতি বছরের ডিসেম্বরে ছোট বোনের ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ধরা পড়ে। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রতিবন্ধী মেয়ে জানায় খাইরুলের চাচা হেলিম তাকে ৫ দিন ধর্ষণ করে। এতে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা সালিশ করে মীমাংসার চেষ্টা করেন। তবে, হেলিম মিয়া অস্বীকার করায় মীমাংসা হয়নি। পরে ওই প্রতিবন্ধী তরুণীর মা বাদী হয়ে গৌরীপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।

এ ঘটনায় গত ১৮ই ডিসেম্বর ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে হেলিমকে আসামি করে গৌরীপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। তবে, মামলা হওয়ার ১২ দিন পার হলেও আসামি গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। আসামি আব্দুল হেলিম মিয়া একই গ্রামের মৃত আব্দুল লতিফের ছেলে। মামলায় উল্লেখ করা হয়, আসামি আব্দুল হেলিম চলতি বছরের জুলাই মাসের ৫ তারিখে ওই প্রতিবন্ধী মেয়ের মা বাড়িতে না থাকার সুযোগে রান্না ঘরে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

কাউকে কিছু বললে হত্যার পর মরদেহ গুম করারও হুমকি দেয়। পরে নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে মেয়ের শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন হলে মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে মায়ের কাছে সবকিছু খুলে বলে। এমতাবস্থায় গত মাসের ২২ তারিখে শম্ভুগঞ্জ বাজারের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ওই মেয়ের আল্ট্রাসনোগ্রাফি করালে ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ধরা পড়ে। পরে আব্দুল হেলিমকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে উল্টো মেয়ের পরিবারকে বিভিন্ন হুমকি দেয়।

এদিকে, বিষয়টি জানাজানি হলে মেয়ের পরিবার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে জানায়। পরে স্থানীয়রা গত ১৩ই ডিসেম্বর  একটি বিদ্যালয়ের মাঠে সালিশ করেন। সালিশে মেয়ের পরিবার ও আসামি হেলিমের পরিবারসহ স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য আহম্মদ আলী, সিরাজুল হক, রজব আলী, সাবেক চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম শিকদারসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। তবে, সালিশে আব্দুল হেলিম ধর্ষণের বিষয়টি অস্বীকার করে। পরে সালিশে আর কোনো সিদ্ধান্ত না দেয়ায় ওই মেয়ের মা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য আহম্মদ আলী বলেন, আমরা বিষয়টি মীমাংসার জন্য সালিশ করেছিলাম। তবে, হেলিম ধর্ষণের বিষয়টি অস্বীকার করে। যেহেতু মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে গেছে। তাই চেয়েছিলাম, বাচ্চার একটি পরিচয় হোক। কিন্তু, তা হয়নি। সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম শিকদার বলেন, মেয়ের মা আমাদের কাছে বিচারপ্রার্থী হয়েছিল। এ কারণে, ২-৩ গ্রামের মানুষ নিয়ে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের মাঠে সালিশ করেছিলাম।

সালিশের উদ্দেশ্য ছিল অনাগত বাচ্চাটার একটা পরিচয় হোক, মেয়েটাও সুখে শান্তিতে থাকুক। তবে, হেলিম ধর্ষণের বিষয়টি অস্বীকার করে। পরে আর কোনো সমাধান হয়নি। ভুক্তভোগী ছোট বোন বলেন, মা বাড়িতে না থাকার সুযোগে হেলিম আমাকে ৫ দিন রান্না ঘরে নিয়ে জোর করে ধর্ষণ করে। এ ঘটনা কাউকে কিছু বলতে নিষেধ করে এবং আমাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার হুমকি দেয়। এ কারণে ভয়ে আমি কাউকে কিছু বলিনি।

মা বলেন, মামলা করার ১১ দিন পার হলেও আসামি পুলিশ ধরছে না। এ বিষয়ে আসামি হেলিমের স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, আমার স্বামী এমন অপরাধ করতে পারে না। দরবারে জোর করে ওই মেয়েকে আমার স্বামীর ঘাড়ে চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল। আমার স্বামী যদি অপরাধ করে, তাহলে দেশের আইনে তার বিচার হবে। গৌরীপুর থানার ওসি মো. কামরুল হাসান বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামি গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মামলা কপি বা বাদি-বিবাদীর নাম দেন। আমি বিষয়টি দেখছি। সূত্র: মানবজমিন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়