শিরোনাম
◈ ১৫ দিনের ব্যবধানে জেট ফুয়েলের দাম লিটারে আরও ১৫ টাকা কমল ◈ পুলিশের দ্রুততম তদন্ত, আদালতের ছুটি বাতিল এই দৃষ্টান্তমূলক রায় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে ◈ ঢাকাকে যানজটমুক্ত করতে ‘জিরো সিগন্যাল’ মহাপরিকল্পনা, ব্যয় আড়াই হাজার কোটি টাকা ◈ পরিচালক‌দের ‌ভো‌টে তা‌মিম ইকবাল বিসিবির সভাপতি  ◈ সংসদে প্রতিশ্রুতি দিলে স্ট্যাডি করেই দেবেন: জ্বালানিমন্ত্রীকে স্পিকার (ভিডিও) ◈ ব্রাজিলের জার্সির রঙ সাদা থেকে যেভাবে হলুদ হয়ে উঠলো  ◈ ৬ শিশুর প্রত্যেকের পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা করে দেবে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল ◈ জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশন শুরু, প্রশ্নোত্তর পর্ব চলছে ◈ পাঁচ সদস্যের সভাপতি মন্ডলীর নাম ঘোষণা ◈ বিশ্বকাপ প্রস্তু‌তি ম‌্যাচ, মে‌সি‌কে ছাড়াই হন্ডুরাসকে ২-০ গো‌লে হারালো আর্জেন্টিনা 

প্রকাশিত : ০২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১১:৪১ দুপুর
আপডেট : ২৫ মে, ২০২৬, ০৫:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

উখিয়া–টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে আবারও ২৪ রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ, বাড়ছে স্থানীয়দের উদ্বেগ

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে আবারও নতুন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় দফায় দফায় সীমান্ত পেরিয়ে নতুন রোহিঙ্গা ঢুকে পড়ায় সীমান্ত এলাকার স্থানীয়দের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া।

সীমান্ত এলাকা ঘুরে জানা যায়, রোববার (১ ডিসেম্বর) ভোর ৬টা থেকে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের আঞ্জুমানপাড়া সীমান্ত এবং টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উলুবনিয়া সীমান্ত দিয়ে নতুন করে সাতটি পরিবারের মোট ২৪ জন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এদের মধ্যে রয়েছে—৭ জন পুরুষ, ৫ জন নারী ও ১২ জন শিশু।

নতুন অনুপ্রবেশে স্থানীয় দালালচক্র সহযোগিতা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সীমান্তে ওত পেতে থাকা এসব দালাল রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে সীমান্ত পার করে দিচ্ছে। এ কাজে কিছু সীমান্তরক্ষীদেরও যোগসাজশ রয়েছে বলে জানান সীমান্তসংলগ্ন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা।

অনুপ্রবেশের পর পরই এসব রোহিঙ্গা বিনা বাধায় ক্যাম্প–১৩–এর জি/৩ ব্লকে এবং ক্যাম্প–১৯–এর এ/১৬, বি/১৩ ও ৬ নম্বর ব্লকে অবস্থানরত তাদের স্বজনদের কাছে আশ্রয় নিয়েছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।

অনবরত রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে নজরদারি বাড়ানোর দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের মতে, আট বছর ধরে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এগোয়নি, অথচ নতুন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকেনি। এতে উখিয়া–টেকনাফের জনজীবন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জননিরাপত্তা, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

একজন স্থানীয় স্কুলশিক্ষক বলেন, নতুন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে আরও তৎপর হতে হবে। না হলে দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বালুখালীর বাসিন্দা ওসমান গণি বলেন, ‘আট বছরে একজন রোহিঙ্গাকেও ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি, কিন্তু প্রতিদিনই নতুন রোহিঙ্গা ঢুকে পড়ছে। মিয়ানমারের সমস্যা দেখা দিলেই তারা সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহল জানলেও দ্রুত কোনো পদক্ষেপ নেই।’

অন্য বাসিন্দা বেদার উদ্দিনের মন্তব্য, শোনা যাচ্ছে রোহিঙ্গাদের জন্য স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এই খবর রোহিঙ্গাদের আরও আশান্বিত করছে। এতে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আরও পিছিয়ে যাবে।

পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ গফুর উদ্দিন বলেন, রোহিঙ্গারা শুধু আসতেই আছে, কিন্তু দেশে ফেরার কোনো লক্ষণ নেই। আট বছরে স্বেচ্ছায় একজনও ফেরত যায়নি। এ অবস্থার নেতিবাচক প্রভাব স্থানীয়দেরই বহন করতে হচ্ছে। সীমান্ত নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ের ১৩ ও ১৯ নম্বর ক্যাম্পের ইনচার্জ (সিনিয়র সহকারী সচিব) আল ইমরান বলেন, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের বিষয়টি আমিও শুনেছি এবং এ–সম্পর্কে মেসেজ পেয়েছি।

তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ‘নবাগত রোহিঙ্গারা ঠিক কোথায় অবস্থান করছে—এটা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুত সব তথ্য পাওয়া যাবে,’ বলেন তিনি। সূত্র: ইনকিলাব

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়