মো: আদনান হোসেন,ধামরাই (ঢাকা) : ঢাকার ধামরাই উপজেলার ঈশাননগর দেলধা শাহকুরী ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচন–২০২৫ ঘিরে বড় ধরনের অনিয়ম, হুমকি ও ক্ষমতার অপ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
আজ রবিবার (৫অক্টোবর) এ ঘটনায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও প্রিজাইডিং অফিসার মো: দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন প্রার্থী মো: শাহীনুর রহমান (শাহীন)-এর পক্ষের আইনজীবী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রিজাইডিং অফিসার দায়িত্বে থেকে নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে রেখে স্বেচ্ছাচারিতা ও আইন বহির্ভূত আচরণ করেছেন। তফসিল ঘোষণার পর বৈধ প্রার্থী যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া বন্ধ রাখা, ভোটার দের ওপর চাপ সৃষ্টির অভিযোগ তোলা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়,
১)তফসিল জারি ও প্রক্রিয়া বন্ধ: ১২ আগস্ট ২০২৫ তারিখে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলেও, যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি।
২)প্রার্থীর সরে দাঁড়ানো: অপর প্রার্থী হারুন-অর-রশীদ প্রকাশ্যে নির্বাচনে অংশ না নেয়ার ঘোষণা দেন, তবুও প্রিজাইডিং অফিসার বেআইনিভাবে সমঝোতার আহ্বান জানান।
৩️) চাপ ও হুমকি: অভিভাবক ও শিক্ষক প্রতিনিধিদের হুমকি দেয়া হয় যে, “যদি হারুন-অর-রশীদকে সভাপতি করা না হয়, তাহলে ১০ লক্ষ টাকার বরাদ্দ বাতিল এবং বেতন বন্ধ করে দেয়া হবে।”৪️)ফলাফল আটকে রাখা: বৈধ প্রার্থী শাহীনুর রহমানকে সভাপতি ঘোষণা না করে নির্বাচন স্থগিতরেখে নির্বাচনী প্রক্রিয়া ইচ্ছাকৃত ভাবে বিলম্বিত করা হয়।নোটিশে বলা হয়েছে “অত্র নোটিশ প্রাপ্তির সাত(৭)দিনের মধ্যে মো: শাহীনুর রহমানকে সভাপতি ঘোষণা করতে হবে, অন্যথায় উপজেলা শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।”নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয় যে,“অপর প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ানোয় মো: শাহীনুর রহমান একমাত্র বৈধ প্রার্থী। তাঁকে সভাপতি ঘোষণা না করা আইনবহির্ভূত এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার।”
স্থানীয় শিক্ষাপ্রেমী ও অভিভাবকদের একাংশ জানিয়েছেন, নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তারা প্রশাসনের দ্রুত তদন্ত দাবি করেছেন।
এই অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো: দেলোয়ার হোসেনের বলেন, যেহেতু দুজনেই আমার পরিচিত এজন্য আমি বিষয়টি মিলিয়ে দিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু বিষয়টি অতদূর গড়াবে এটা ভাবতে পারিনি।
এই বিষয়ে ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামনুন আহমেদ অনিক বলেন, দেলধা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার ব্যাপারে একটা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে অতিসত্বর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।