শিরোনাম
◈ এমপিদের সরাসরি তহবিল বরাদ্দ বাতিল, প্রকল্প অনুমোদন দেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ◈ পুলিশের দ্রুততম তদন্ত, আদালতের ছুটি বাতিল এই দৃষ্টান্তমূলক রায় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে ◈ ঢাকাকে যানজটমুক্ত করতে ‘জিরো সিগন্যাল’ মহাপরিকল্পনা, ব্যয় আড়াই হাজার কোটি টাকা ◈ পরিচালক‌দের ‌ভো‌টে তা‌মিম ইকবাল বিসিবির সভাপতি  ◈ সংসদে প্রতিশ্রুতি দিলে স্ট্যাডি করেই দেবেন: জ্বালানিমন্ত্রীকে স্পিকার (ভিডিও) ◈ ব্রাজিলের জার্সির রঙ সাদা থেকে যেভাবে হলুদ হয়ে উঠলো  ◈ ৬ শিশুর প্রত্যেকের পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা করে দেবে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল ◈ জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশন শুরু, প্রশ্নোত্তর পর্ব চলছে ◈ পাঁচ সদস্যের সভাপতি মন্ডলীর নাম ঘোষণা ◈ বিশ্বকাপ প্রস্তু‌তি ম‌্যাচ, মে‌সি‌কে ছাড়াই হন্ডুরাসকে ২-০ গো‌লে হারালো আর্জেন্টিনা 

প্রকাশিত : ০৭ জুন, ২০২৬, ০৬:২৪ বিকাল
আপডেট : ০৭ জুন, ২০২৬, ০৯:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

হাত হারানো মানুষের মুখে হাসি ফিরিয়ে দিচ্ছে জয় বড়ুয়ার বায়োনিক হাত

'রাস্তায় বের হলে মানুষজন অন্য কারও দিকে তাকায় না। আমার হাত নাই, খালি আমার দিকেই তাকায়। তখন প্রচুর খারাপ লাগে,' একরাশ আক্ষেপ নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন মোহাম্মদ আসিফ। শৈশবে কাজ করতে গিয়ে নিজের একটি হাত হারিয়েছেন তিনি।

পরিবারের হাল ধরতে এক হাত নিয়েই নেমেছিলেন জীবনসংগ্রামে। কাজ করতেন একটি ফুড ডেলিভারি প্রতিষ্ঠানে। 'ভালো কাজের হোটেল'-এ এক দুপুরে খাবার খাওয়ার সময় ক্যামেরার ফ্রেমে বন্দি হয় তার সেই সংগ্রামের দৃশ্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তেই ভাইরাল হয় এক হাতে খাবার খেতে বসা আসিফের সেই ছবি। তার এই লড়াই ছুঁয়ে যায় হাজারো মানুষের হৃদয়। আসিফের জীবনে কিছুটা স্বস্তি ফেরাতে এগিয়ে আসে হোটেল পরিচালনাকারী সংগঠন 'ইউথ ফর বাংলাদেশ'। তারা আসিফকে একটি কৃত্রিম হাত উপহার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। আর এই লক্ষ্যেই তারা শরণাপন্ন হন দেশে বায়োনিক হাত তৈরির অন্যতম পথিকৃৎ এক তরুণ উদ্ভাবকের।

এরপর আসিফের শরীরে যুক্ত হয় আধুনিক প্রযুক্তির রোবোটিক হাত। কৃত্রিম হলেও সেই হাত যেন আসিফকে ফিরিয়ে দেয় নতুন এক জীবন। হাতটি পাওয়ার পর উচ্ছ্বসিত আসিফের মন্তব্য ছিল, 'আমি ছোটবেলা থেকে হাত ছাড়া বড় হইছি। জীবনে এমন খুশি আমি কোনোদিন হইনাই!'

আসিফের এই বাঁধভাঙা খুশির নেপথ্যের কারিগরের নাম জয় বড়ুয়া লাভলু। জীবনের আকস্মিক ঝড়ে যারা হাত হারান, সমাজের চোখে যারা মুহূর্তেই 'অসহায়' হয়ে পড়েন, তাদের আত্মবিশ্বাসকে সচল করার এক জাদুকর তিনি। তার গড়ে তোলা স্বপ্নের প্রতিষ্ঠানের নাম 'রোবোলাইফ টেকনোলজিস'। লাভলুর এই প্রতিষ্ঠান দেখিয়েছে, প্রযুক্তি নিছক বিলাসিতা না হয়ে মানুষের মর্যাদাপূর্ণ বেঁচে থাকার প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে।

শখ থেকে শেখা

লাভলুর বেড়ে ওঠা চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির এক প্রত্যন্ত গ্রামে। পড়াশোনার প্রয়োজনে শৈশবে চলে আসেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের গ্রাম জোবরায়। স্কুলে অনেকটা বাধ্য হয়েই ভর্তি হয়েছিলেন বাণিজ্য বিভাগে। তবে শৈশব থেকেই তার ঝোঁক ছিল যন্ত্রপাতির প্রতি। রোবোটিক্সের প্রতি আগ্রহের বীজটি বপন হয়েছিল তার বাবাকে দেখে। বাবা পেশায় ছিলেন একজন ইলেকট্রিশিয়ান। ক্লাস ফাইভেই একদিন দেখলেন এক বৃদ্ধ অনেক কষ্টে ঘর ঝাড়ু দিচ্ছেন। সেই দৃশ্য দেখে রাস্তা থেকে কুড়িয়ে আনা পুরনো বয়াম আর বাতিল রিমোট কন্ট্রোল গাড়ির সার্কিট দিয়েই বানিয়ে ফেললেন একটি 'হোম ক্লিনিং' রোবট!

এসএসসির পর ভর্তি হন চট্টগ্রামের ডিপ্লোমা ইন ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে। পরবর্তীতে বিএসসি সম্পন্ন করেন। তবে পড়াশোনার পাশাপাশি রোবট তৈরির কাজ থেমে থাকেনি কখনো। একটির পর একটি প্রজেক্ট করেছেন। হোম ক্লিনিং রোবট থেকে শুরু করে উভচর রোবট, কথা বলা রোবট, ড্রোন ক্যামেরা, রোবোটিক থার্ড হ্যান্ড—এমন একাধিক সফল কাজ করেছেন তিনি। এসব কাজে পরিবারের উৎসাহ ছিল সবসময়। বড় ভাই আর এক বন্ধুর কাছ থেকে পেয়েছেন নিরন্তর সমর্থন।

'রোবোলাইফ' প্রতিষ্ঠার আগেই রোবোটিক হাত নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন লাভলু। ২০১৮ সালে তার 'রোবোটিক থার্ড হ্যান্ড' প্রজেক্টটি ব্যাপক সাড়া ফেলে। এমন সব উদ্ভাবনই তাকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করে তোলে। সে বছরই বড় ভাই ও বন্ধুদের নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন 'রোবোলাইফ টেকনোলজিস'।

লাভলু বলেন, 'আমরা ভাবলাম একটি নির্দিষ্ট কাজে আর আটকে থাকব না। সবাই মিলে কাজ করতে হলে একটি প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন। মানুষকে সেবা দিতে বা অন্যদের থেকে ধারণা নিতেও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো দরকার। সেই চিন্তাভাবনা থেকেই রোবোলাইফ শুরু করি।'

বায়োনিক বা প্রস্থেটিক হাত তৈরি করা সহজ ছিল না। প্রয়োজন ছিল উচ্চ প্রযুক্তির কাঁচামাল আর দীর্ঘ গবেষণা। আর সবকিছুর জন্যই প্রয়োজন ছিল বড় অঙ্কের অর্থ। এ সময় তিনি সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগে একটি প্রজেক্ট প্রপোজাল জমা দেন। সেখান থেকে পান প্রায় ১৫ লাখ টাকার সরকারি অনুদান। অনুদান পাওয়ার পর হাত হারানো এক ব্যক্তির জন্য একটি কার্যকর রোবোটিক হাত তৈরি করেন তিনি। সেই হাতটি পরীক্ষার একটি ভিডিও ফেসবুকে প্রকাশের পর তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।

দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য মানুষ কৃত্রিম হাত প্রতিস্থাপনের জন্য যোগাযোগ শুরু করেন। চাহিদা দ্রুত বাড়তে থাকায় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ঢাকার যাত্রাবাড়ী হয়ে উত্তরার বড় পরিসরে নিয়ে আসা হয়। ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠানটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়। সেই থেকে হাতহীন মানুষদের সম্মান আর কর্মক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে কাজ করছেন লাভলু ও তার প্রতিষ্ঠান।

জীবন বদলে দিচ্ছে রোবট হাত

হাফেজ মো. হোসাইন আহমেদ (২০) ছোটবেলা থেকেই আরবি আর বাংলা হরফ সুন্দর করে লেখার জন্য পরিচিত ছিলেন। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শেষ দিনে যাত্রাবাড়ীতে পুলিশের গুলি তার হাতে বিদ্ধ হয়। মুহূর্তেই রক্তে ভিজে যায় জামা। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা জানান, হাতটি রাখা সম্ভব নয়। পরদিন কেটে ফেলতে হয় তার হাত।

হোসাইনসহ ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে আহত পাঁচজনকে কৃত্রিম হাত দিয়েছে লাভলুর প্রতিষ্ঠান। এতে হাতের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্ষমতা না ফিরলেও হাতহীন জীবনের গ্লানি কিছুটা হলেও লাঘব হয়েছে তাদের।

তাদেরই একজন ভৈরবের মামুন মিয়া। ট্রাক্টর চালিয়ে সংসার চলত তার। ঐ বছরের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হামলার শিকার হয়ে তিনি হাত হারান। যে হাত দিয়ে তিনি স্টিয়ারিং ধরতেন, সেটি হারানোর পর অনিশ্চিত হয়ে পড়ে পুরো পরিবার। কৃত্রিম হাত দিয়ে হয়তো তিনি ট্রাক্টর চালাতে পারবেন না, তবে নতুন হাতের স্পর্শে সেদিন তার মুখেও ছিল তৃপ্তির হাসি।

এ পর্যন্ত দেশ-বিদেশের প্রায় ১০০ জনেরও বেশি মানুষের কৃত্রিম হাত সফলভাবে প্রতিস্থাপন করেছে রোবোলাইফ। তালিকায় রয়েছে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, তুরস্ক, ভারত, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মতো দেশ। এমনকি আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ এবং মধ্য এশিয়ার উজবেকিস্তান ও কাজাখস্তান থেকেও অনেক ভুক্তভোগী কৃত্রিম হাতের জন্য লাভলুর সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।

লাভলু জানালেন, তার তৈরি কৃত্রিম হাত স্বাভাবিক হাতের মতো শতভাগ কাজ করবে না। তবে অন্য হাত না থাকার যে বিড়ম্বনা, তা অনেকটা দূর হবে। তার ভাষ্যে, 'এই হাতের কার্যকারিতা মানুষের দৈনন্দিন চাহিদার হয়তো ৫০ শতাংশ পূরণ করতে পারবে। তবে আউটলুকের দিক থেকে এটি ১০০ তে ১০০। স্পর্শ করা ছাড়া কেউ বুঝতেই পারবে না যে এটি কৃত্রিম হাত।'

উন্নত প্রযুক্তি, হাতের নাগালে খরচ

রোবোলাইফ তিন ধরনের বায়োনিক হাত তৈরি করে। ক্লায়েন্টের শারীরিক সক্ষমতা ও স্নায়ুর কার্যকারিতা বিবেচনা করে প্রযুক্তি নির্ধারণ করা হয়।

সবচেয়ে আধুনিক প্রযুক্তি হলো 'নার্ভ কন্ট্রোল' বা মাসল কন্ট্রোল বায়োনিক হ্যান্ড। এটি সরাসরি মস্তিষ্কের সংকেতে কাজ করে। মানুষের অবশিষ্টাংশের পেশির নাড়াচড়া থেকে তৈরি হওয়া সূক্ষ্ম বৈদ্যুতিক তরঙ্গ বা নার্ভ সিগন্যালকে এই হাতের ভেতরের সেন্সরগুলো পড়তে পারে। ফলে ব্যবহারকারী যখনই হাতটি খোলার বা বন্ধ করার কথা ভাবেন, হাতটি অবিকল সুস্থ মানুষের হাতের মতোই সাড়া দেয়।

দ্বিতীয়টি হলো 'অটো কন্ট্রোল' বায়োনিক হাত। যাদের স্নায়ু বা নার্ভ সিগন্যাল ড্যামেজ হয়ে যায়, তাদের জন্য এটি প্রযোজ্য। এক্ষেত্রে হাতের সঙ্গে একটি রিমোট-সদৃশ ডিভাইস থাকে, যা দিয়ে ব্যবহারকারী আঙুল নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।

সবশেষে রয়েছে 'লেগ কন্ট্রোল' হাত। যাদের হাতে কোনো নার্ভ সিগন্যাল অবশিষ্ট থাকে না, তাদের পায়ে একটি ছোট্ট ও আরামদায়ক পুশ বাটন সেটআপ করে দেওয়া হয়। পা দিয়ে সেই বাটনে চাপ দিলে কৃত্রিম হাতটি কোনো কিছু আঁকড়ে ধরে, আবার পুনরায় চাপে ছেড়ে দেয়।

লাভলু জানালেন, বিদেশ থেকে আমদানি করতে যেখানে আকাশচুম্বী খরচ হয়, রোবোলাইফ তা সাধারণের নাগালের মধ্যে এনেছে। তাদের কৃত্রিম হাতের সর্বনিম্ন দাম ৩০ হাজার টাকা এবং জটিলতা ভেদে তা সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। লাভলু বলেন, 'বিদেশে যে হাত নিতে ৩০-৪০ লাখ টাকা খরচ হয়, আমরা সেই মানের প্রযুক্তি অনেক কম খরচে দেওয়ার চেষ্টা করছি।'

রোবোলাইফ প্রতিটি হাতের সঙ্গে আজীবনের জন্য ফ্রি সার্ভিস ওয়ারেন্টি প্রদান করে। এছাড়া যারা কেবল বাহ্যিক সৌন্দর্য ফিরে পেতে চান, তাদের জন্য রয়েছে সাশ্রয়ী মূল্যের সিলিকন গ্লাভসযুক্ত 'শো হ্যান্ড'।

প্রতিষ্ঠানের প্রস্থেটিকস ও অর্থোটিকস বিষয়ক উপদেষ্টা আবু সাঈদ বলেন, 'রোবোলাইফ যে সেবাটা দেয়, সেটা বাইরের দেশে অনেক ব্যয়বহুল। বাংলাদেশে এমন অনেক প্রতিষ্ঠান আছে। তাদের থেকে নিতে গেলেও অনেক খরচ করতে হয়। তবে এরা খুব কম খরচে, অনেকটা চ্যারিটির মতই কাজ করে। জয় বড়ুয়া লাভলু সামনে আরও দক্ষতার সাথে বিষয়গুলো এগিয়ে নিয়ে যাবেন বলে আমি আশাবাদী।'

স্বীকৃতি ও সাফল্য

জয় বড়ুয়া লাভলুর এই মানবিক উদ্ভাবন দেশে-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে। ২০১৮ সালে ইএসএসএবি আয়োজিত 'আবিষ্কারের খোঁজে' প্রতিযোগিতায় ফার্স্ট রানার-আপ হয়ে তিনি পাদপ্রদীপে আসেন। ২০১৯ সালে চ্যানেল আই-এর 'এসো রোবট বানাই'-এ রানার-আপ হন। এরপর সরকারের আইসিটি বিভাগ থেকে পান বিশেষ স্বীকৃতি ও অনুদান।

২০২২ সালে লাভ করেন মর্যাদাপূর্ণ 'জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড'। ২০২৩ সালে পান 'ডিজিটাল মিডিয়া এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড'। 'স্টার্টআপ ওয়ার্ল্ড কাপ বাংলাদেশ ২০২৫'-এ চ্যাম্পিয়ন হয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে গ্লোবাল গ্র্যান্ড ফিনালেতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পান। এছাড়া 'প্রথম আলো/স্টারশিপ ইনস্পায়ারিং ১০ হিরো' অ্যাওয়ার্ডসহ অসংখ্য সম্মাননা তার ঝুলিতে যুক্ত হয়েছে।

সবচেয়ে বড় চমকটি আসে গুগল সার্চে। আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান 'অ্যানালিটিক্স ইনসাইটের' মূল্যায়নে বিশ্বের সেরা ১০ তরুণ রোবটিক গবেষকের তালিকায় নাসার বিজ্ঞানীদের পাশে চতুর্থ স্থানে উঠে আসে জয় বড়ুয়া লাভলুর নাম। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডসের মতো দেশগুলো থেকে লাভলুর টিমকে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে গ্লোবাল শাখা খোলার জন্য।

লক্ষ্য এখন দেশের সীমানা ছাড়িয়ে

রোবোলাইফ নিয়ে লাভলুর স্বপ্ন বিশাল। সামনে তিনি পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগীদের জন্য 'রোবটিক বডি সুট' তৈরি করতে চান। যারা প্যারালাইসিসের কারণে শরীর নাড়াতে পারেন না, তাদের চলাফেরা নিশ্চিত করাই তার আগামী দিনের লক্ষ্য।

লাভলু মনে করেন, বিজ্ঞানের কাজই হলো মানুষের কষ্ট লাঘব করা। রোবোলাইফের ল্যাবে ইতিমধ্যে এই বডি সুটের নকশা ও ডেমো প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে বড় উদ্যোগের ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত দেশীয় সহযোগিতার অভাব বোধ করেন তিনি। লাভলু আক্ষেপ করে বলেন, 'বিদেশের অনেক অফার পাই, অথচ দেশের মেডিকেল কলেজগুলো আমাদের গুরুত্ব বুঝতে চায় না। আমাদের দেশেও যে এমন কিছু তৈরি সম্ভব, সেটি নিয়ে অনেকেরই ধারণা নেই।'

দেশে বড় পরিসরে কাজ করার সুযোগ থাকলেও সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে নিজের দেশকেই সবার আগে রাখতে চান লাভলু। কারণ তিনি বিশ্বাস করেন, হাত হারানো মানে কেবল শারীরিক সক্ষমতা হারানো নয়, বরং আত্মসম্মান ও জীবিকার ওপর বড় আঘাত। সেই হারানো হাসি ফিরিয়ে দিতেই আজীবন কাজ করে যেতে চায় 'রোবোলাইফ টেকনোলজিস'।

সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড বাংলা

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়