মহাকাশে একটি স্টারলিংক স্যাটেলাইট বিস্ফোরিত হয়েছে, যা সম্ভবত কোনো যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ঘটেছে।
এক এক্স পোস্টে ইলন মাস্কের মহাকাশ কোম্পানি স্পেসএক্স বলেছে, “এ ত্রুটির ফলে স্যাটেলাইটটির প্রোপালশন ট্যাংক বা জ্বালানি আধার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কক্ষপথ থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার নিচে নেমে গিয়েছে স্যাটেলাইটটি। ফলে স্যাটেলাইট থেকে কিছু ছোট ছোট টুকরা মহাকাশে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এসব টুকরার গতি তুলনামূলক কম।”
কক্ষপথ পর্যবেক্ষক কোম্পানি ‘লিওল্যাবস’ বলেছে, “অন্য কোনো মহাকাশ বর্জ্য বা বস্তুর সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে এমনটি ঘটেনি, বরং স্যাটেলাইটের ভেতরে থাকা কোনো শক্তির উৎসের কারণে ঘটেছে”।
স্পেসএক্স বলেছে, স্যাটেলাইটের অবশিষ্টাংশ পর্যবেক্ষণ করতে নাসা ও ইউএস স্পেস ফোর্সের সঙ্গে কাজ করছে তারা।
“স্যাটেলাইটটি অক্ষত থাকলেও মহাকাশে ডিগবাজি খাচ্ছে এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যাবে।”
এগুলোর গতিপথ আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের অনেক নিচে। ফলে এগুলো মহাকাশ স্টেশন বা এর কর্মীদের জন্য কোনো ঝুঁকি তৈরি করবে না। তবে স্যাটেলাইটের ঠিক কতগুলো টুকরা ট্র্যাক হয়েছে সে সেম্পর্কে এখনও কিছু জানায়নি স্টারলিংক।
কয়েকদিন আগেই প্রতিদ্বন্দ্বী চীনা কোম্পানি ‘সিএএস স্পেস’-এর এক স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংঘর্ষ থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে একটি স্টারলিংক স্যাটেলাইট। এখন এই নতুন ঘটনা ঘটল।
এ বিষয়ে স্টারলিংক-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইকেল নিকোলস বলেছেন, দুই কোম্পানির মধ্যে সমন্বয়ের অভাবের কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।
এক এক্স পোস্টে তিনি লিখেছেন, “অনেক সময় স্যাটেলাইট কোম্পানিগুলো নিজেদের স্যাটেলাইটের সঠিক অবস্থান অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করে না। ফলে মহাকাশে থাকা বিভিন্ন স্যাটেলাইট একে অপরের খুব কাছে চলে আসে এবং সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি হয়।”
বর্তমানে প্রায় নয় হাজার ৩০০টি সচল স্যাটেলাইট নিয়ে গঠিত স্টারলিংকের নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা, যা অকেজো ইউনিটগুলো বাদে কক্ষপথে থাকা মোট স্যাটেলাইটের প্রায় ৬৫ শতাংশ।
এক বছরেই এই সংখ্যা তিন হাজারের বেশি বেড়েছে, যা স্পেসএক্স-এর ১২১টি আলাদা মিশনের মাধ্যমে উৎক্ষেপিত হয়েছে, অর্থাৎ গড়ে প্রতি তিন দিনে একটি করে মিশন পরিচালনা করেছে কোম্পানিটি।