স্পোর্টস ডেস্ক : বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র দুই দিন বাকি। এর মধ্যেই বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ফিফা। এবার ইরান ফুটবল ফেডারেশন (এফএফআইআরআই) অভিযোগ করেছে, বিশ্বকাপে তাদের জন্য বরাদ্দ থাকা টিকিট হঠাৎ করে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
যে কারণে আগেভাগেই বিশ্বকাপ দেখার জন্য ভ্রমণ পরিকল্পনা করে রাখা অনেক ইরানি সমর্থক এখন ম্যাচ দেখার সুযোগ হারানোর শঙ্কায় পড়েছেন।
কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রে ৪৮ দেশের অংশগ্রহণে বৃহস্পতিবার শুরু হচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপের নতুন আসর। ‘জি’ গ্রুপে থাকা ইরান প্রথম দুই ম্যাচ খেলবে লস অ্যাঞ্জেলেসে- ১৫ জুন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ও ২১ জুন বেলজিয়ামের বিপক্ষে। এরপর ২৬ জুন সিয়াটলে তাদের প্রতিপক্ষ মিসর।
এক বিবৃতিতে ইরানের ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, ম্যাচগুলোর জন্য টিকিট বিক্রির প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তারা সমর্থকদের কাছে সেই টিকিট সরবরাহ করতে পারছে না।
সরকারি প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা রেখে অনেক ইরানি সমর্থক এরই মধ্যে ম্যাচ দেখতে যাওয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে তাদের জন্য নির্ধারিত ও বৈধ টিকিটের সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার চেতনা ও অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর সমতার নীতির পরিপন্থী। টি স্পোর্টস
বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর ফেডারেশন সাধারণত মোট টিকিটের ৮ শতাংশ নিজেদের সমর্থকদের মধ্যে বিতরণের সুযোগ পায়। এখন সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ করছে ইরান।
তবে কারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা স্পষ্ট করেনি এফএফআইআরআই। একই সঙ্গে ফিফার প্রতি ‘নিরপেক্ষতা, ন্যায়বিচার ও প্রতিষ্ঠিত নিয়মনীতি’ অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে তারা।
ফেডারেশনের ভাষ্য, মাঠের বাইরের রাজনৈতিক বা অন্য কোনো বিষয় যেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল আসরের ওপর প্রভাব না ফেলে, সেটি নিশ্চিত করা উচিত ফিফার।
এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি ফিফা।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার পর ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানকে ঘিরে যে আঞ্চলিক সংঘাত শুরু হয়, তার পর থেকেই বিশ্বকাপে দেশটির অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।
ভিসা জটিলতার আশঙ্কায় নিজেদের বেস ক্যাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা থেকে মেক্সিকোতে সরিয়ে নেয় ইরান। দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর গত সপ্তাহে ইরানের সব খেলোয়াড়কে ভিসা দেয় যুক্তরাষ্ট্র, প্রথম ম্যাচের মাত্র ১০ দিন আগে। তবে দলের কয়েকজন কর্মকর্তা এখনও ভিসা পাননি। গত শুক্রবার এক মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন, ‘বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় ভিসা ইরানকে দেওয়া হয়েছে।