শিরোনাম
◈ গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন সীমান্তে বিএসএফের ১০টি পুশইন অপচেষ্টা রুখে দিয়েছে বিজিবি ◈ অবশেষে পদত্যাগ করেছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান ◈ তাপপ্রবাহে পুড়ছে দেশ, দিনাজপুরে সর্বোচ্চ ৩৮.৫° সেলসিয়াস, আজও ঝড়-বৃষ্টির আভাস ◈ মার্কিন অবরোধের প্রভাব: ভিসা-মাস্টারকার্ড লেনদেন স্থগিতের ঘোষণা কিউবার ◈ মেডিকেলের ছাত্রীরা বছরের পর বছর যৌন হয়রানির শিকার, কমপক্ষে ৩০ জনের অভিযোগ ◈ দ‌ক্ষিণ আ‌ফ্রিকার টি-টোয়েন্টিতে খেল‌বেন রিশাদ হো‌সেন! ◈ ১৩ বছর পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের মা‌টি‌তে ওয়ান‌ডে জ‌য়ের স্বাদ পে‌লো  শ্রীলঙ্কা ◈ নতুন-পুরনো সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা: এনআইডি ব্লকের প্রস্তুতি, নতুন তালিকা হচ্ছে, নজরদারিতে স্বজনরাও ◈ বিদ্যুৎ দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে আজ সারা দেশে জামায়াতের বিক্ষোভ ◈ বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ডিসেম্বরে নিউজিল্যান্ড সফ‌রে যাচ্ছে

প্রকাশিত : ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:৫৫ দুপুর
আপডেট : ০১ জুন, ২০২৬, ০৩:০০ রাত

প্রতিবেদক : মহসিন কবির

বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় কেমন হবে আগামীর রাজনীতি

মহসিন কবির: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট ছিল তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ হয়েছে। বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। এ জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে হলে রাজনীতিতে পরিবর্তন আনতে হবে। নতুন প্রজন্মের পালস বুঝতে হবে এবং সেভাবে দেশ পরিচালনা করতে হবে। তাহলে সামনের দিকে আগানো সম্ভব হবে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। 

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর তার দলটি বার বার জনরোষানলে পড়েছে। লাখ লাখ মামলার কাঁদে দিয়ে বেরিয়েছে নেতাকর্মীরা। এখন মামলা চলামান আচে। ভোটের রাজনীতিতে বিএনপি ২০০৯ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত জনপ্রিয়তা করতে পারেনি। 

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও লক্ষ্য সুসংহত করতে হলে বিতাড়িত গণবিরোধী শক্তিকে আইনের মুখোমুখি করার পাশাপাশি জনগণের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা জরুরি। জনগণের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রধান হাতিয়ার হচ্ছে প্রতিটি নাগরিকের ভোট প্রয়োগের অধিকার নিশ্চিত করা। 

তারেক রহমান বলেছেন, গণহত্যাকারী হাসিনার পলায়নের মধ্য দিয়ে ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পথ উন্মুক্ত হয়েছে। তাই, দেশে জবাবদিহিতামূলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার এখনই সময়। লাঞ্চিত বঞ্চিত অধিকারহারা মানুষ একটি স্বাধীন, নিরাপদ এবং মর্যাদাকর জীবনের প্রত্যাশায় উন্মুখ হয়ে রয়েছেন। জনপ্রত্যাশা পূরণের জন্য একটি নিরাপদ এবং মানবিক বাংলাদেশ গড়ার এখনই সময়।

আগে রাজনীতিতে গুণগত কোনো পরিবর্তন আসেনি, এ কারণেই নতুন প্রজন্ম এটা মানতে পারেনি। যার জন্য সংঘাত হয়েছে, ঝড়ছে রক্ত। ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেও রাজনীতিতে মার খায় বিএনপি। ২০২৪ সালের নির্বাচনে ২০১৪ সালের মতোই বর্জন করছে তারা। সামান্য পার্থক্য হচ্ছে, তখন তারা নির্বাচন প্রতিরোধের ডাক দিয়েছিল, এবার বর্জনের ডাক দিয়েছে।

বাংলাদেশ সৃষ্টির পর ১৯৭৫-এর রক্তাক্ত সামরিক অভ্যুত্থান, ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান, ২০০৭ সালের সেনাসমর্থিত জরুরি সরকার এবং ২০২৪ সালের আগস্ট বিপ্লব-এ দেশের রাজনীতিতে বিশেষ ঘটনা এবং এ চারটি ঘটনা কেবল প্রবল ক্ষমতাধর শাসকদের গদিচ্যুতই করেনি, বরং এ চারটি রাজনৈতিক পরিবর্তন আমাদের রাজনীতিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক-চিন্তক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের জন্য নানা শিক্ষার উপকরণ রেখে গেছে।

১৯৭১ সালে যুদ্ধশেষে আওয়ামী লীগ নতুন দেশে একটি সরকার গঠন এবং গঠিত সরকার পরিচালনায় সক্ষম ছিল। তখন কয়েকটি রাজনৈতিক দল ছিল, কিন্তু সরকার চালানোর মতো না ছিল যোগ্যতাসম্পন্ন একটি রাজনৈতিক দল।
স্বাধীন বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর সরকার যে খুব দ্রুত মানুষের বিরাগভাজন হয়ে পড়েছিল, তার প্রমাণ ’৭৫-এর পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগের দুরবস্থা এবং বঙ্গবন্ধুর মতো বিশাল মাপের মানুষকে ওই রকমের নির্মম হত্যার পর কোনো প্রতিবাদ না হওয়া। 

আওয়ামীবিরোধী চেতনা জিয়ার দলকে শক্তি জুগিয়েছে। বিএনপির সঙ্গে অনেক ছোট দলও যুক্ত হয়েছিল-অবশ্য চুয়াত্তরেও বাকশালের সঙ্গেও কয়েকটি দল যুক্ত হয়েছিল। তবে এ দুইয়ের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য হচ্ছে, চুয়াত্তরে দেশকে অন্য দলবিলীন করায় অন্যদের বাকশালে শামিল না হয়ে উপায় ছিল না, কিন্তু বিএনপিকে আওয়ামীবিরোধী শক্তি বিবেচনা করেই একাধিক দল বিএনপিতে লীন হয়েছিল। 

১৯৯১ সালে ভোটের দিক বিবেচনায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের পার্থক্য মাত্র ০.৮০। আসন বিএনপি ১৪০ এবং আওয়ামী লীগ ৮৮। ১৯৭৫-এর সরকার বদলের পর আওয়ামী লীগের অবস্থা এবং ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর বিএনপির অবস্থা এক রকমের ছিল না। এরশা মন্ত্রিসভায় বিএনপির একাধিক নেতা যোগ দিলেও দলটির শক্তি ও জনপ্রিয়তা ’৭৫-পরবর্তী আওয়ামী লীগের পর্যায়ে নেমে যায়নি।

এ দেশের মানুষ বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের শাসন দেখেছে, দেখেছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একই দলের শাসন-অনুরূপ কথা খাটে বিএনপির ওপর; জিয়ার বিএনপি এবং বেগম জিয়ার বিএনপি। এরশাদের শাসনও মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে। মানুষ প্রতিবারই বিকল্প চেয়েছে, নতুন করে আশায় বুক বেঁধেছে। ফলাফল কী? ১৯৯১ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে জিতে এসে বিএনপি সরকার এবং ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালে জিতে আওয়ামী লীগ সরকারের জনআকাঙ্ক্ষা পূরণের ব্যর্থতায় কোনো মৌলিক পার্থক্য নেই।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়