কদিন ধরেই জল্পনা ছিল বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনসম্মুখে হাজির হবেন। বিশেষ করে সাংবাদিকদের সামনে। ২৩ সেপ্টেম্বর সেটা হলো। কিন্তু ভিন্ন মাধ্যমে। সরাসরি নয়, এক অডিওবার্তা নিয়ে। দিল্লির ফরেন করেসপনডেন্ট ক্লাবে তার অডিওবার্তাটি নতুন কিছু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিপুলসংখ্যক সাংবাদিকের উপস্থিতিতে শেখ হাসিনা তার সরকারের কোনো ভুল, কোনো ভ্রান্তির প্রসঙ্গ টেনে আনেননি।
ক্ষমা নয়, দুঃখও প্রকাশ করেননি। তবে নতুন কিছু প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন। যা রাজনীতিতে আলোচনার খোরাক হতে পারে। তিনি দেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে অত্যন্ত ভয়াবহ বলে বর্ণনা করেছেন। দেশটি ধংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছে এমন অভিযোগ করেছেন। তার অভিযোগের নিশানা হচ্ছেন প্রফেসর ইউনূস । হাসিনা পাঁচ দফা দাবি পেশ করেছেন এই অডিও বার্তায়। সূত্র: মানবজমিন
এক, বাংলাদেশের সামনে অন্ধকার সময়। গণতন্ত্র ধংস হয়ে গেছে। অবিলম্বে গণতন্ত্র পুণরুদ্ধার করতে হবে। আর এজন্য অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। তবে তার ভাষায়- ইউনূস সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ হতে পারে না।
দুই, সহিংসতা ও নৈরাজ্য বন্ধ করতে হবে। বন্ধ করতে হবে রক্তপাত। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চালু করতে হবে।
তিনি, সংখ্যালঘুসহ নারী ও শিশুর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
চার, সাংবাদিকসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।
পাঁচ, জাতিসংঘকে আনুষ্ঠানিকভাবে ’২৪-এর ঘটনাবলীর নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। কীভাবে এই ঘটনা ঘটলো তা জনগণকে জানাতে হবে।
অডিওবার্তায় শেখ হাসিনা আরো বলেন, বাংলাদেশ ইতিহাসের এক দুঃসময় পার করছে। পরিণত হয়েছে এক বিশাল কারাগারে। এছাড়া তিনি দেশি-বিদেশি চরমপন্থী গোষ্ঠীর হাত থেকে দেশকে উদ্ধার করারও আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য যে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এরইমধ্যে একটি মামলায় তাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।