শিরোনাম
◈ বাড়তি মার্কিন শুল্ক কার্যকর হলে রপ্তানিতে বড় ধাক্কার আশঙ্কা ◈ শেখ হাসিনার পক্ষের দাবি নাকচ, জুলাই অভ্যুত্থান প্রতিবেদনের পাশে জাতিসংঘ ◈ কারামুক্ত হলেন সাবেক মেয়র আইভী ◈ দিল্লির আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত ২১; আহতদের মধ্যে ৫ বাংলাদেশি ◈ ‘আসল’ তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণ ঋতব্রতের হাতে, মমতাকে উপদেষ্টা হওয়ার প্রস্তাব ◈ অস্ট্রেলিয়ার বিরু‌দ্ধে বাংলা‌দে‌শের ওয়ান‌ডে দল ঘোষণা, মিরাজ অ‌ধিনায়ক ◈ বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ তুলে নিল সরকার ◈ হাজিদের লাগেজ চুরি রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস ধর্মমন্ত্রীর ◈ ৩০০ দিনে ১৭ দেশ পেরিয়ে আর্জেন্টিনার ক্যাম্পে ৩ ভক্ত সাইক্লিস্ট  ◈ হাদি ইস্যুতে মমতার মন্তব্য; যা বললেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী (ভিডিও)

প্রকাশিত : ০৩ জুন, ২০২৬, ০৬:৪৭ বিকাল
আপডেট : ০৪ জুন, ২০২৬, ০৫:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ধর্ষণ, মাদক, ডাকাতি এবং ছিনতাই প্রতিরোধে সরকারের আরও কঠোর হওয়া উচিত 

হোসাইন মোহাম্মদ দিদার : অপরাধ জগতের পা বাড়ানোর প্রথম ধাপ হলো মাদক। মাদকের টাকা হাতে না মিললেই যত্রতত্রে অপরাধ প্রবণতার ঘটনা ঘটায় মাদকাসক্তরা।

মাদকে ছেয়ে গেছে গোটা দেশ। ঘরের দুয়ার খোলে হাত বাড়ালেই মাদক। বলা যায়, মরণব্যাধি  মাদকের স্পর্শে অকালেই ঝরে যাচ্ছে তরুণ প্রাণ। সম্প্রতি তরুণদের সঙ্গে -তরুণীরাও মাদক সেবনে ঝুঁকে পড়ছে। বিশেষ করে ক্রেজি টেবলেট ইয়াবার নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছে এই সমাজের উঠতি বয়সের ছেলে-মেয়েরা। এছাড়া নেশা জাতীয় নানা রকম মাদকদ্রব্য পাওয়া যাচ্ছে হাতের নাগালেই। এই নেশার ছোবল থেকে 

বাদ যায় না মধ্যবয়সীরাও। বিশেষ করে ইয়াবা টেবলেট  বহনে সহজলভ্য হওয়ায় খুব সহজে বহন করে হাত বদলের পথ নিয়ে চিন্তামুক্ত মাদকাসক্ত ও মাদককারবারীরা তাই এই টেবলেট এখন একটি মোবাইলের কলের বিনিময়ে চলে আসে হাতের মুঠোয়। 

এখন এই মাদকের বিষয়টি ওপেন-সিক্রেট। মাদক কারবারি ও ক্রেতারা থোড়াই কেয়ার, কোনো পরোয়া নেই, ভয় নেই। এভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে এই দেশের আগামীর মানবসম্পদ টিকে থাকবে কী? আমার তো মন হয়ে টিকে থাকবে না। শিক্ষার্থীরাও ঝুঁকে পড়ছে বিভিন্ন নেশার টোপে।

নেশার টাকা সঠিক সময়ে যোগাড় করতে না পেরে নেশায় আসক্ত ব্যক্তিরা ঢুকে পড়ছে ভয়াবহ অপরাধ জগতে। নেশার টাকার জন্য সামান্য চুন থেকে পান খসলেই খুনখারাবিতে জড়িয়ে পড়ছে মাদকাসক্তরা। ঘরে -বাইরে খুনখারাবি করছে। এছাড়াও চুরি, ছিনতাই, ডাকাতিসহ নানা ধরনের অপরাধপ্রবণতা দিনদিন বেড়েই চলছে।

মাকে ছেলে নেশার টাকার জন্য খুন করছে,বাবাকে ছেলে নেশার টাকার জন্য খুন করছে,স্ত্রীকে নেশার টাকার জন্য স্বামী খুন করছে। অর্থাৎ ভয়াবহ এক মানচিত্র হয়ে হয়ে ওঠছে  আমাদের এই দেশ। শহর নগর,মফস্বল ও পাড়া-মহল্লায় মাদকের ভয়াবহ বিস্তার। তাই মাদক নির্মূলে সরকার বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়,মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ প্রতিটি থানা এবং সংশ্লিষ্ট সকল দায়িত্ববানকে  আরও কঠোর হওয়া উচিত। এবং মাদক প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কঠিন থেকে কঠিনতর ভূমিকা নেওয়া উচিত। 

সম্প্রতি সারাদেশে  ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে গেছে, ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে অনেকেই প্রাণ হারাচ্ছে। রাত্রে নিশুতে এখন নির্ভয়ে পথ চলা বা ভ্রমণ করা মুশকিল। দিনের বেলায়ও ঘটে রাজধানীর অনেক লেনে ছিনতাইয়ের ঘটনা। 

সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ও নৃশংস ঘটনাটি ঘটেছে ঢাকায়।

৭–৮ বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তার ঢাকার মিরপুরের পল্লবী এলাকায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করত। ১৯ মে ২০২৬ সকালে তাকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে প্রতিবেশী এক ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, শিশুটিকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। 

পুলিশ প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করে। এরে থানায় মামলা হলে দ্রুত সময়ে পুলিশ আসামীদ্বয়কে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। বর্তমানে মামলাটির বিচার কাজ চলমান। হয়তে আগামী সপ্তাহের মধ্যে মামলার রায় হতে পারে। এসব ঘটনার মূলেও নেশাজাতদ্রব্যের প্রভাব রয়েছে। কারণ এই নৃশংস ঘটনা ঘটনা কেবল বিকৃত ও বিকারগস্ত মানুষের পক্ষেই সম্ভব।

এর আগে ২৪ এপ্রিল শুক্রবার  রাত ১১টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লায় ফেরার পথে নিখোঁজ হন বিসিএস (নন-ক্যাডার) কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর ২৫  এপ্রিল শনিবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় একটি হোটেলের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নামতি হাইওয়ে থানা পুলিশ। মরদেহে আঘাতের একাধিক চিহ্ন ছিল।

পরে র‍্যাবের জালে আটক হয় এই ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত ও কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীকে ছিনতাই পরবর্তী ঘটনায় খুনে জড়িত  ৫ সদস্য।  এই যে, ছিনতাইয়ের কারণে একটি পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেল। বাবা তার সন্তানকে হারাল, ছেলে তার বাবাকে হারাল,মা তার সন্তান হারাল,কম বয়সে কেবল ১১ মাস বয়সী পুত্র সন্তান নিয়ে বুলেট বৈরাগীর স্ত্রী বিধবা হলো। এছাড়াও ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়ক, দেশের বিভিন্ন মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কগুলোতে দৈনন্দিন ভয়ানক রুপে ডাকাতি ও ছিনতাই হচ্ছে। মহাসড়ক এলাকার থানাগুলোর অভিযানে ডাকাত ও ছিনতাইকারী,মাদককারবারীরা ধরা পড়লেও আইনের ফাঁকফোকর গলে খুব সহজে জামিন নিয়ে বের পুনরায় অপরাধ জগতে জড়িয়ে যায় এসব অপরাধীরা।

তাই এসব ভয়ংকর অপরাধীরা জামিনে যেন দ্রুত বের না হয়ে; নানা ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়েন সে বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে। অপরাধীরা পুনরায় যাতে অপরাধ জগতে জড়িয়ে না পড়ে ; সে বিষয় আইনের শাসন আরও কঠোর হওয়া উচিত বলে মনে করি। সহজে যেন কোনো জামিন অযোগ্য মামলায় জামিন না দেওয়া হয়। সেসব বিষয়াবলি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইনমন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে প্রয়োজনে মনিটরিং সেল করা উচিত। 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়