শিরোনাম
◈ আমদানি নিরুৎসাহিত করতে নতুন বাজেটে যেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে! ◈ দে‌শের বিপর্যস্ত জনগণ ফে‌লে রাজনী‌তি থে‌কে বিশ্রা‌মে যা‌বো না: 'এই সময়' অনলাইনে শেখ হা‌সিনার সাক্ষাৎকার ◈ ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক: আস্থার সংকট কতটা গভীর? ◈ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার ঘোষণা ইরানের, টোল নির্ধারণে ওমানের সঙ্গে যৌথ সিদ্ধান্ত ◈ এবা‌রের বিশ্বকা‌পে আ‌র্জেন্টিনা মেসিনির্ভর দল নয়: কোচ ◈ ‘৪,৮০০ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়নি’, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দাবির জবাবে বিজিবি ◈ প্রস্তু‌তি ম‌্যা‌চে ওলিসের হ্যাটট্রিক, আয়ারল‌্যান্ড‌কে ৩-১ গো‌লে হারা‌লো ফ্রান্স ◈ শিক্ষাক্রমে বড় পরিবর্তন: বাংলা-ইতিহাসসহ কয়েকটি বিষয় বাদ, যুক্ত হচ্ছে এআই, বিদেশি ভাষা, ফ্রিল্যান্সিং ও কারিগরি শিক্ষা ◈ বিশ্বকাপে রোনালদো না মেসি, কে করবেন বেশি গোল? ভবিষ্যদ্বাণী এমবাপের ◈ ‌ফিফার ঘোষণা, বিশ্বকাপে চোটের অভিনয় করলেই শাস্তি

প্রকাশিত : ০৯ জুন, ২০২৬, ১১:৩৫ দুপুর
আপডেট : ০৯ জুন, ২০২৬, ১২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : আর রিয়াজ

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক: আস্থার সংকট কতটা গভীর?

দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন: অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যেসব পদক্ষেপ নিয়েছিল তা এখনো রয়ে গেছে। ফলে বিএনপি সরকার প্রতিবেশী দেশের ওপর খুশি নয়। 

মঙ্গলবার (৯ জুন) ভারতীয় সংবাদপত্র দ্য হিন্দুর এক প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করা হয়েছে।

দ্য হিন্দু বলেছে, তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগেই ভারত দুইবার তার দারস্থ হয়েছিল। প্রথমবার এসেছিলেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক জানাতে গত ৩১ ডিসেম্বর ঢাকায় এসে তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেন।

আর দ্বিতীয়বার তার দারস্থ হন পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি। তিনি ভারত সফরে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণ পত্র নিয়ে তারেক রহমানের কাছে গিয়েছিলেন।

অপরদিকে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ভারতের স্পিকার ওম বিরলা তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

কিন্তু একটি সূত্র জানিয়েছে, এসব বিষয় বিএনপির কাছে পর্যাপ্ত মনে হয়নি। বিএনপির একটি প্রভাবশালী অংশ মনে করে, নতুন সরকারের প্রতি নিজেদের সদিচ্ছার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে মোদি সরকারের কিছু পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল। যারমধ্যে আছে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দেওয়া বিভিন্ন বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া।

বিএনপির প্রভাবশালী অংশটির মতে সদিচ্ছার অংশ হিসেবে ভারতের উচিত বাংলাদেশি পণ্যের জন্য ট্রান্সশিপমেন্ট পুনরায় চালু করা, ব্যবসা ও চিকিৎসাসহ সব ধরনের ভিসা পূর্ণমাত্রায় চালু করা এবং বাংলাদেশি পণ্যের ক্ষেত্রে ভারত তাদের বাজারে যেসব বিধিনিষেধ দিয়ে রেখেছে সেগুলো তুলে নেওয়া।

সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ভারত এর কিছুই করেনি এবং এমন সদিচ্ছা দেখায়নি যারমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সন্তুষ্ট হয়ে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন করবেন।

দ্য হিন্দু আরও বলেছে, বিএনপির দিক থেকে তাদের সিনিয়র নেতারা চেয়েছিলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে এমন একটি সমর্থন তৈরি করা, যেখানে সাবেক স্বৈরাচার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে থাকলেও দুই দেশের সম্পর্কে কোনো প্রভাব পড়বে না। যেখানে এক্ষেত্রে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের কঠোর অবস্থান ছিল। ওই সরকারের দাবি ছিল সম্পর্ক ভালো করতে চাইলে হাসিনাকে ফেরত দিতে হবে।

বিএনপির সিনিয়র নেতারা এমন উদ্যোগ নিলেও ভারত এটির ক্ষেত্রে ইতিবাচক মনোভাব দেখায়নি বলেও মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

এক্ষেত্রে তারা উদাহরণ হিসেবে দেখাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার গঠনের পর ‘অবৈধ অভিবাসী’ শব্দের ব্যাপক ব্যবহারটিকে। ভারতের এ দুটি রাজ্যেই কথিত বাংলাদেশিদের পুশ-ইন করার কথা ব্যাপকভাবে বলা হচ্ছে।

বাংলাদেশি কূটনীতিকরা বলেছেন, ঢাকার এই ‘অবৈধ অভিবাসীর’ মতো বিষয় নিয়ে খুব বেশি কথা বলার আগ্রহ নেই। ঢাকা এর বদলে ১৯৯৬ সালে গঙ্গা চুক্তি নবায়ন এবং ভিসা ইস্যুর দিকে বেশি মনোযোগ দিতে চায়।

এসবের মধ্যে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান গত ৭ ও ৮ এপ্রিল ভারত সফরে যান। ওই সময় তিনি দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে দেখা করেন। তার সফরের লক্ষ্য ছিল দুই দেশের সম্পর্ক পরীক্ষা করা।

দ্য হিন্দু বলেছে- কিন্তু তখন আসাম ও পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের প্রচারের সময় বাংলাদেশ নিয়ে উস্কানিকমূলক মন্তব্য এবং স্বৈরাচার হাসিনার বিভিন্ন বক্তব্য প্রচার দেখায়, বিএনপি ভূমিধস জয় জয় অর্জন করেও ভারতকে প্রভাবিত করতে পারেনি।

তবে ঢাকাস্থ বাংলাদেশের এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক দ্য হিন্দুকে বলেছেন, ভারতের রাজ্য সরকার নির্বাচনের সময় যেসব উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে সেগুলোর প্রভাব ভারতের পররাষ্ট্রনীতিতে পড়বে না বলে ওই সময় বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল।

কিন্তু ভারত সরকার কথা রাখেনি। কথিত অবৈধ অভিবাসী নিয়ে তারা যা করছে সেটিকে ‘বেঈমানি’ হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ— জানিয়েছেন এ কূটনীতিক।

আর ভারতের কাছ থেকে প্রত্যাশিত বিষয়গুলো না পাওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতের বদলে মালয়েশিয়া ও চীন সফরের পরিকল্পনা করছেন বলে হিন্দুর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়