শিরোনাম
◈ গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন সীমান্তে বিএসএফের ১০টি পুশইন অপচেষ্টা রুখে দিয়েছে বিজিবি ◈ অবশেষে পদত্যাগ করেছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান ◈ তাপপ্রবাহে পুড়ছে দেশ, দিনাজপুরে সর্বোচ্চ ৩৮.৫° সেলসিয়াস, আজও ঝড়-বৃষ্টির আভাস ◈ মার্কিন অবরোধের প্রভাব: ভিসা-মাস্টারকার্ড লেনদেন স্থগিতের ঘোষণা কিউবার ◈ মেডিকেলের ছাত্রীরা বছরের পর বছর যৌন হয়রানির শিকার, কমপক্ষে ৩০ জনের অভিযোগ ◈ দ‌ক্ষিণ আ‌ফ্রিকার টি-টোয়েন্টিতে খেল‌বেন রিশাদ হো‌সেন! ◈ ১৩ বছর পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের মা‌টি‌তে ওয়ান‌ডে জ‌য়ের স্বাদ পে‌লো  শ্রীলঙ্কা ◈ নতুন-পুরনো সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা: এনআইডি ব্লকের প্রস্তুতি, নতুন তালিকা হচ্ছে, নজরদারিতে স্বজনরাও ◈ বিদ্যুৎ দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে আজ সারা দেশে জামায়াতের বিক্ষোভ ◈ বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ডিসেম্বরে নিউজিল্যান্ড সফ‌রে যাচ্ছে

প্রকাশিত : ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০০ রাত
আপডেট : ২৬ মে, ২০২৬, ০৪:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : মনিরুল ইসলাম

বিরোধী দলের ওয়াকআউট: জুলাই স্মৃতি জাদুঘর বিলে সংশোধনীতে ঘোরতর আপত্তি

‎মনিরুল ইসলাম: অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারিকরা অধ্যাদেশগুলো আইনে পরিণত করতে সময়সীমার (১২এপ্রিল) বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তাই সরকারকে তড়িঘড়ি করে একের পর এক বিল পাস করতে হয়েছে। এজন্য একদিনে ৩১টি বিল পাসের ঘটনাও ঘটেছে। আর সে কারণে সকল বিলের কপি ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র সংসদ সদস্যদের হাতে পৌছায়নি। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিরোধী দল। এমনকি ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬’সহ একাধিক বিলে সংশোধনী নিয়ে ঘোরতর আপত্তি জানায় বিরোধী দলীয় সদস্যরা। এ নিয়ে সারাদিনই ছিলো উত্তেজনা। সর্বশেষ আবারো তারা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন।

শুক্রবার সকালে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। পরে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিষ্টার কায়সার কামালও সভাপতিত্ব করেন। বিল পাসের বাধ্যবাধকতা থাকায় দিনের কার্যসূচি স্থগিত রেখে একের পর এক বিল পাস করা হয়। এ পর্যন্ত ৯১টি কিল পাস হয়েছে। ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬’ পাসের পর ফ্লোর নেন বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বিল পাসের প্রক্রিয়া, বিলের সংশোধনী ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন তুলতে থাকেন।

আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জবাব দিতে থাকেন। বিরোধী দলের অভিযোগের জবাবে আইনমন্ত্রী জানান, অধ্যাদেশগুলো বিল আকারে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে সরকার সংবিধান ও কার্যপ্রণালী বিধির কোনো ব্যত্যয় ঘটায়নি। এ সময় স্পিকারও সার্বিক অবস্থা ব্যাখ্যা করেন। সর্বশেষ সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিটে সরকারি দলের বিরুদ্ধে বিশ্বাস ভঙ্গের অভিযোগ তুলে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন বিরোধী দলীয় সদস্যরা। এ নিয়ে চলতি অধিবেশনে চারবারের মতো ওয়াকআউটের ঘটনা ঘটলো। এর আগে, গত বৃহস্পতিবার ‘গণবিরোধী’ বিল পাসের অভিযোগ তুলে সংসদ থেকে ওয়াক আউট করেছিল বিরোধী দল।
এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদকে উদ্দেশ্য করে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, এখানে ট্রাস্ট মেইনটেইন (আস্থা বজায় রাখা) করা হয় না। এটা আমাদের দুঃখ।

স্পিকার আপনি বলেছেন, জাস্টিস মেইনটেইন (ন্যায়বিচার বজায় রাখবেন) করবেন। আজকের দিনে আমরা জাস্টিস পেলাম না। সরকারিদল ট্রাস্টের জায়গা রাখলেন না। আমরা সহযোগিতা করেই যাচ্ছিলাম, কিন্ত আমাদের ব্ল্যাক আউট (বাধা দেওয়া) করা হলো। তিনি বলেন, বিশেষ কমিটির বৈঠকের সমঝোতার ব্যত্যয় ঘটিয়ে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর বিল সংশোধিত আকারে পাস করা হয়েছে। অধিকাংশ অধ্যাদেশ পাস করা হলেও জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিলগুলো সংসদে উত্থাপন করা হয়নি। তাই আমরা দুঃখ নিয়ে সংস থেকে ওয়াকআউট করছি। ইনশাআল্লাহ আবারো এই সংসদে দেখা হবে।

বিরোধী দলের সদস্যদের ওয়াকআউটের পর ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) বিল, ২০২৬ পাস হয়। এরপর স্পিকার আগামী ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত সংসদ অধিবেমন মূলতবি করেন। ওয়াকআউটের আগে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসের গণঅভ্যুত্থান ও স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের ইতিহাস, নিদর্শন ও দলিলাদি সংরক্ষণ, গবেষণা ও প্রদর্শনের জন্য জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার উদ্দেশ্যে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী সংসদ অধিবেশনে বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। বিলটি পাসের বিষয়ে বিরোধী দলীয় সদস্যরা আপত্তি জানালেও তা বিধিসম্মত না হওয়ায় তা গ্রহণ করেননি স্পিকার।

এ সময় বিলের উপর আপত্তি জানানোর জন্য ফ্লোর নিয়ে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় করা ৯৮টি অধ্যাদেশ সংশোধনী ছাড়াই পাসের রাজনৈতিক সমঝোতা ভেঙে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬’ পাস করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়াকে ‘দিনদুপুরে রাজনৈতিক জোচ্চুরি’ ও ‘প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণের মহোৎসব’ বলে অভিহিত করেন তিনি। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশগুলো নিয়ে একটি বিশেষ কমিটি করা হয়েছিল। সেখানে ৯৮টি অধ্যাদেশ সম্পর্কে আমরা ঐকমত্য পোষণ করেছিলাম যে, সেগুলো ‘অ্যাজ ইট ইজ’ (যেভাবে আছে) সংসদে বিল আকারে আসবে এবং পাস হবে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিলটিও সেই তালিকার অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু বিলটি উত্থাপনের মাত্র আধা ঘণ্টা আগে একটি সংশোধনী দেওয়া হলো। এর মাধ্যমে রাজনৈতিক সমঝোতা ও ‘কনসেনসাস’ ভঙ্গ করা হলো। তিনি বলেন, সরকারি দল চাইলে যেকোনো বিল পাস করতে পারে, তাদের সেই মেজরিটি আছে। কিন্তু এই বিশেষ কমিটি করার তবে প্রয়োজন কী ছিল? যদি আমাদের কথা বলার সুযোগই না দেওয়া হয়, তবে এই সংসদ আর জনস্বার্থ রক্ষা করবে কীভাবে? দিনদুপুরে একটা ছলচাতুরি ও জোচ্চুরির মাধ্যমে এই বিলের সংশোধনী পাস করে নেওয়া হয়েছে।

বিলের সংশোধনীতে বিশেষজ্ঞের বদলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীকে জাদুঘর পর্ষদের সভাপতি করার তীব্র সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, আগের বিলে ছিল সরকার কর্তৃক নিয়োজিত একজন ‘বিশেষজ্ঞ’ পর্ষদের প্রধান হবেন। কিন্তু নতুন সংশোধনীতে সংস্কৃতি মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীকে সভাপতি করা হয়েছে। বাংলা একাডেমি, শিল্পকলা বা জাতীয় জাদুঘরের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোতে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের এক্সপার্টদের দায়িত্ব দেওয়া হয়, এটাই রেওয়াজ। জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাদুঘর কোনো শাখা জাদুঘর নয়, এটি একটি স্বতন্ত্র বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান।

এখানে মন্ত্রীকে কেন সভাপতি হতে হবে? তিনি আরো বলেন, আমরা দেখছি বাংলাদেশের সকল প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক দখল করে দলীয়করণ করা হয়েছে, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করা হচ্ছে। এমনকি ক্রিকেট বোর্ডেও দলীয়করণ ও পরিবারকরণ সম্পন্ন হয়ে গেছে। আমাদের মাননীয় মন্ত্রীদের সন্তানরা এখন ক্রিকেট বোর্ডের সদস্য। এখন জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাদুঘরকেও কি ছাড় দেওয়া হবে না?

এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সব পক্ষের অংশীদারিত্ব ছিল। কিন্তু এই বিল পাসের মাধ্যমে সরকার এখন জাদুঘরটি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে। সরকার চাইলে এখন যে কাউকে বোর্ড থেকে বাদ দিয়ে দিতে পারবে। এভাবে সব কিছু নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখার যে প্রবণতা, এতে দেশের কোনো প্রতিষ্ঠানই দাঁড়াবে না। সরকারের নজিরবিহীন এই দলীয়করণের প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের এখানে (সংসদে) থাকার কোনো দরকার নেই। আমি আহ্বান জানাব, এই সংশোধনী বাদ দিয়ে বিশেষ কমিটিতে যে ঐকমত্য হয়েছিল, সেই অনুযায়ী বিলটি পাসের ব্যবস্থা করা হোক। সব কিছু সরকারের গুন্ডাবাহিনী বা রাজনীতির নিয়ন্ত্রণে কেন থাকতে হবে?

সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার ক্ষোভ ॥ বিল পাসের সময় প্রয়োজনীয় নথিপত্র বা বিলের কপি সময়মতো হাতে না পাওয়ায় স্পিকারের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ও ক্ষোভ জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। সংসদ থেকে ওয়াকআউটের আগে তিনি বলেন, বিলের বিষয়বস্তু না বুঝে সংসদ সদস্য হিসেবে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দেওয়া অপরাধের শামিল। একই কথা বলেন ‘ব্যাংক রেজল্যুশন বিল’ পাসের সময়।

বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, নিয়ম অনুযায়ী তিন দিন আগে আমাদের ডকুমেন্টসগুলো দেওয়ার কথা ছিল। বাস্তবতা বিবেচনা করে ন্যূনতম এক দিন আগে দেওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিলটি যখন পাস হচ্ছে, তখন টেবিলে আমাদের কাগজ দেওয়া হয়েছে। একদিকে সংসদ চলছে, অন্যদিকে ডকুমেন্টস টেবিলে রাখা। আমরা তো অর্থনীতির ছাত্র নই, তাই এত দ্রুত এগুলো বুঝে ওঠা সম্ভব নয়।

দুর্বল ছাত্র হওয়ার কারণে হাত উপরে তুলব না নিচে নামাব, সেটা বুঝতে পারিনি। না বুঝে ‘হ্যাঁ’ বলা যেমন অপরাধ, না বুঝে ‘না’ বলাও অপরাধ। এই অপরাধবোধ থেকেই আমরা চুপ থেকেছি। তিনি বলেন, সরকারি দলের সদস্যরা হয়তো সবাই অর্থনীতির ছাত্র এবং অত্যন্ত মেধাবী। তারা কাগজ দেখা মাত্রই বুঝে ফেলেছেন ভেতরে কী আছে। কিন্তু আমরা বুঝতে পারিনি, এটা আমাদের অক্ষমতা। এখন আমরা কী করব, আমাদের একটু পরামর্শ দিন।

বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংসদীয় বিশেষ কমিটিতে এই বিলগুলো পর্যালোচনার সময় বিরোধী দলের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। সেখানে সর্বসম্মতিক্রমে অধ্যাদেশগুলো বিল আকারে পাসের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। বিল পাস হয়ে যাওয়ার পর এখন কিছু বুঝলাম না বলা সাজে না। তবে আলোচনার জন্য স্পিকার যথেষ্ট সময় দিয়েছেন এবং সহযোগিতার জন্য তিনি বিরোধী দলকে ধন্যবাদ জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বিশেষ কমিটিতে এমন কোনো কথা হয়নি যে সংসদ চলাকালীন টেবিলে বিলের কপি দেওয়া হবে। বিলের কপি অন্তত তিন দিন আগে দেওয়ার নিয়ম ছিল। সংসদে বিল নিয়ে কথা বলা তাদের অধিকার এবং সেই সুযোগ থাকা উচিত ছিল। আপত্তি থাকলে আগেই বলুন ॥ বিধি না মেনে সংসদে একের পর এক আপত্তি তোলায় জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতাকে উদ্দেশ্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিল পাস হয়ে যাওয়ার পর যদি বলেন আমি কিছু বুঝিলাম না।

যদি আপত্তি দিতে হতো তা উত্থাপনের পর, তারপরে সেকেন্ড রিডিংয়ে বিবেচনার সময়। তিনি বলেন, ধন্যবাদ জানাই বিরোধীদলীয় নেতাকে, সব বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যকে; আপনারা যথেষ্ট সহযোগিতা করেছেন। ‘হ্যাঁ’ও বুঝে দিয়েছেন, ‘না’ও বুঝে দিয়েছেন। এই অপরিসীম সহযোগিতার জন্য সরকারি দলের পক্ষ থেকে আপনাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।  তিনি আরো বলেন, কার্য উপদেষ্টা কমিটি এসব কর্ম নির্ধারণ করছে। বিশেষ কমিটি যেটা আপনি (স্পিকার) করে দিয়েছেন এই আইনগুলো পর্যালোচনা করার জন্য সংসদে বিশেষ এই কমিটিতে আমাদের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদিন সভাপতি ছিলেন। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকজন সদস্য ছিলেন। আইনমন্ত্রীসহ সবাই এটা আলোচনা পর্যালোচনা করে যেসব অধ্যাদেশ সর্বসম্মতিক্রমে পাস করার জন্য সিদ্ধান্ত হয় তার মধ্যে এই বিলটাও ছিল।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অর্থবিলসহ আরও কিছু বিলে নোট অব ডিসেন্ট ছিল, আলোচনার দাবি রেখেছিলেন বিরোধীদলীয় সদস্য- সেটি এরই মধ্যে আপনি দুই মিনিটের জায়গায় ১০ মিনিট ১৫ মিনিট, যেভাবে আপনি উপযুক্ত মনে করেছেন আলোচনার জন্য দিয়েছেন। এখানে আইনের কোন ব্যাত্যয় ঘটেনি।

বিধি মেনে আইন পাস হয়েছে ॥ বিরোধী দলের অভিযোগের জবাবে অধ্যাদেশগুলো বিল আকারে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে সরকার সংবিধান ও কার্যপ্রণালী বিধির কোনো ব্যত্যয় ঘটায়নি। বিধি মেনেই বিলগুলো পাস হয়েছে। যে বিলগুলো বাকী রয়েছে, সেগুলো আরো যাচাই-বাছাই ও প্রয়োজনীয় সংশোধনী শেষে সংসদে উত্থাপন করা হবে। তিনি বলেন, সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তিনটি বিষয় স্পষ্ট। প্রথমত, সংসদ শুরু হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে অধ্যাদেশগুলো বিল আকারে উপস্থাপন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, যা আমরা যথাযথভাবে পালন করেছি। দ্বিতীয়ত, আমরা কোনগুলো উপস্থাপন করব এবং কোনগুলো করব না, সেই এখতিয়ার সরকারের রয়েছে। যেগুলো উপস্থাপন করা হয়নি, সেগুলো নিয়ম অনুযায়ী বাতিল বা ল্যাপস হয়ে যাবে।

মন্ত্রী আরো স্পষ্ট করেন, সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ ও সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী, যে অধ্যাদেশগুলো উপস্থাপিত হয় না, সেগুলোর ওপর আলোচনার কোনো সুযোগ নেই। অন্যদিকে, যেগুলো উপস্থাপন করা হয়েছে, সেগুলো বিল আকারে অনুমোদিত হয়েছে। যদি কোনো বিল পাস না হতো, তবে তা ‘অনুনমোদন’ হিসেবে গণ্য হয়ে বাতিল হয়ে যেত। বিশেষ কমিটির সিদ্ধান্তর অনুযায়ী নির্ধারিত প্রক্রিয়া মেনেই সবগুলো বিল উত্থাপন ও পাস করা হয়েছে এবং এতে আইনি কোনো ত্রুটি নেই।

হাসনাতকে সতর্ক করলেন স্পিকার ॥ কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহকে সংসদ অধিবেশনে অসহিষ্ণু না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, এটা শাহবাগ মোড় নয়, এটা সংসদ। এত অসহিষ্ণু হলে চলবে না মি. আবদুল্লাহ। দিস ইজ নট শাহবাগ স্কয়ার, দিস ইজ পার্লামেন্ট। এখানে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে, শুনতে হবে। আর মৌখিক কথাবার্তার স্কোপ (সুযোগ) এখানে খুবই কম। নোটিশ দেবেন। তিনি বলেন, আইনমন্ত্রীর কথা পূর্ণ বিবেচনা করা যেতে পারে। প্রয়োজনে নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে পরবর্তী অধিবেশনে একটি সংশোধনী বিল আনেন। সেটি নিশ্চয়ই সরকারি দল বিবেচনা করবে।

সংসদের পরিবেশ ভালো রাখার আহ্বান জানিয়ে স্পিকার বলেন, এত বড় জুলাই অভ্যুত্থানের পর এই সংসদ হয়েছে। ইলেকশনের মাধ্যমে আমরা সবাই এখানে এসেছি। এত বড় বিরোধীদল খুব কমই এসেছে সংসদে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়