মহসিন কবির: দেশের কয়েক জেলায় হাম মাহামারি আকার ধারন করছে। প্রতিদিন এতে শিশুর মৃত্যু হচ্ছে। সরকারও নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। এছাড়া জ্বানানি নিয়ে বেকায়দায় পড়েছে সরকার। প্রতিদিন পেট্রোল পাম্পের সানে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। তেলের কালোবাজারি ঠেকাতেও সরকার হিমশিম খাচ্ছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ২০২০ সালের পর সাড়ে পাঁচ বছর কোনো হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন না হওয়ায় টিকাবঞ্চিত শিশুর সংখ্যা বেড়েছে। তারাই এখন বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। টিকা সরবরাহ ব্যবস্থাপনার দুর্বলতায় সংকট তৈরি হয়।
আজ সোমবার রংপুর-৪ আসনে এনসিপির দলীয় সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের আওতায় দেওয়া নোটিশের জবাবে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হামের রোগীদের চিকিৎসার জন্য সারাদেশে হাসপাতালগুলোতে আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং যেখানে প্রয়োজন সেখানে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে আইসোলেশন সুবিধা না থাকার যে অভিযোগ উঠেছে, তা সঠিক নয়। কোনো হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডের অভাব নেই।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আইসিইউ তাৎক্ষণিকভাবে তৈরি করা সহজ নয়, তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইনফেকশাস ডিজিজ সেন্টারে মাত্র ১৮ ঘণ্টার মধ্যে একটি আইসিইউ ইউনিট চালু করা হয়েছে।
তিনি জানান, প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর যে আইসিইউ ইউনিটটি অচল ছিল, সেটিকে পুনরায় চালু করে সেখানে চিকিৎসক, নার্স, আয়া ও অ্যানেস্থেশিয়া কর্মী নিয়োগ দিয়ে পূর্ণাঙ্গভাবে সচল করা হয়েছে।
রাজশাহীতে হামের পরিস্থিতির প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সেখানে ১১ দিনে ৩৩ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরপরই জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরদিনই ভেন্টিলেটর পাঠানো হয়েছে, আইসিইউ ইউনিট চালু করা হয়েছে এবং সার্বক্ষণিক তদারকি নিশ্চিত করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ভেন্টিলেটরসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রস্তুত রয়েছে এবং যেখানেই প্রয়োজন হচ্ছে, দ্রুত সরবরাহ করা হচ্ছে।
বাজেটের বিষয়ে তিনি বলেন, এখনো নতুন বাজেট উপস্থাপন করা হয়নি। তবে সরকার স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ স্বচ্ছতা ও প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যয় করবে। বাজেটই বরাদ্দ বাস্তব প্রয়োজন অনুযায়ী সৎ ও স্বচ্ছভাবে ব্যয় করা হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা এবং শিশুদের জীবন রক্ষা করা। এই পরিস্থিতিতে ৫ এপ্রিল থেকে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে ১৮ জেলা ও ৩০ উপজেলায় ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়া হচ্ছে, যার লক্ষ্য ১২ লাখ শিশু। প্রথম দিনেই প্রায় ৯৬ শতাংশ অর্জন হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, আক্রান্ত শিশুদের ভিটামিন-এ দেওয়া হচ্ছে এবং হাসপাতালগুলোতে আইসোলেশন, আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ ও বিশ্ব ব্যাংক-এর সহায়তায় টিকা সংগ্রহ ও কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। সমন্বিত উদ্যোগে দ্রুত হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সরকার ২০২৬ সালের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং হামজনিত শিশুমৃত্যু শূন্যে নামিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর।
রবিবার বেলা ১১টায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ঢাকা থেকে ভার্চুয়ালি হাম-রুবেলা প্রতিরোধে জরুরি টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, হাম-রুবেলা প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে হবে, যাতে এ রোগ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে না পড়ে। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে সারাদেশের ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় এ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে এটি সব জেলায় সম্প্রসারণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ব্যর্থতা কিংবা অন্যান্য কারণে হাম-রুবেলা প্রতিরোধে প্রচারণা ও নিয়ন্ত্রণে যথাযথ মনোযোগ দেওয়া হয়নি। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, কক্সবাজারের দুটি উপজেলায় প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হবে।
এদিকে, কক্সবাজারে গতকাল একদিনেই হামে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে ২৫ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ৪২ জন শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় রামু উপজেলার রাজিয়া নামের এক শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। এ পর্যন্ত জেলায় হামে আক্রান্ত হয়ে মোট ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।
জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে বর্তমানে হামে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি রয়েছে ৭৫ শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ২৫ জন এবং ভর্তি হয়েছে ২১ জন। গত এক সপ্তাহে জেলায় হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩২ জনে।
এছাড়া, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত জেলা সদর হাসপাতালে মোট ৯৩ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে। এ সময়ে জেলায় হাম-রুবেলায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১৮৫ জন।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, জেলার কয়েকটি এলাকায় এ সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কোনো শিশু আক্রান্ত হয়নি। আক্রান্ত এলাকায় জরিপের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ এবং শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে জরুরি ভিত্তিতে পৃথক ‘আইসোলেশন ওয়ার্ড’ চালু করা হয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. শহিদুল আলম।
এদিকে বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশে চলমান জ্বালানি সংকট এবং এর ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে মহলটি কৃত্রিম সংকট তৈরির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক ও পরিবহন খাতে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে।
একাধিক সূত্র থেকে জানা যায়, পেট্রোল পাম্প মালিকদের একটি অংশ যারা বিগত সরকারের সুবিধাভোগী ছিল এবং তাদের সঙ্গে যুক্ত সরকার বিরোধী কয়েকটি মহল কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার পাঁয়তারা করছে। একটি অসাধু সিন্ডিকেট বিদেশি জাহাজ থেকে অবৈধভাবে তেল নামিয়ে এবং খুচরা বাজারে কারসাজি করে তেল সংকট তৈরি করছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। দেশ দুটির যৌথ হামলায় তেহরানসহ বিভিন্ন ইরানি শহরে জান-মালের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। এতে ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইসহ জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা ও বেসামরিক নাগরিক নিহত হন বলে দাবি করা হয়। এরপর ইরান পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে। যা এখনো চলমান রয়েছে।
এরপর থেকে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেল নিয়ে তৈরি হয়েছে সংকট। এর আঁচ বাংলাদেশের গায়ে এসেও লেগেছে। সেই আঁচে পুড়ছে ব্যক্তি মালিকানার দুই চাকার বাইক থেকে শুরু করে প্রাইভেট কার, গণপরিবহন, মালবাহি বাহন, গ্রামীণ কৃষিজমিতে ব্যবহৃত শ্যালো মেশিন-পাওয়ারটিলার পর্যন্ত। যার বাস্তব চিত্রের দেখা মিলছে বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে। যেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে পেট্রাল-অকটেন-ডিজেলের জন্য। তবুও মিলছে না কাক্সিক্ষত জ¦ালানি। যদিও কিছু কিছু পাম্পে মিলছে তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। এ নিয়ে গ্রাহক এবং পাম্প মালিক-কর্মচারিদের সঙ্গে বাঁধছে ঝগড়া-ফ্যাসাদ। যা অনেক সময় হাতিহাতি-মারামারিতে রূপ নিচ্ছে। এ অবস্থায় দেশের সর্বত্র এখন একটাই আলোচনা জ¦ালানি তেলের সংকট।
সরকারি তরফ থেকে বার বার বলা হচ্ছে দেশে জ¦ালানি তেলের কোনো সংকট নেই। পর্যাপ্ত তেল মজুদ আছে। শুধু তাই নয়, সপ্তাহখানেক আগে দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই বলে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। সম্প্রতি সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে তিনি জানান, বর্তমানে পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার তিন মাসের বিশেষ মজুত বা বাফার স্টক গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
পাশাপাশি বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেছেন, বিশ্ব পরিস্থিতির অস্থিরতাকে পুঁজি করে দেশে একটি অসাধু চক্র মজুতদারি ও কালোবাজারির পাঁয়তারা করছে। তবে সরকার বসে নেই; এসব অপতৎপরতা রুখতে ইতোমধ্যে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশে প্রায় এক মাসের জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে। আগে যেখানে ১৫ দিনের মজুত রাখা হতো, সেখানে বর্তমান মজুতকে তিনি সন্তোষজনক বলে উল্লেখ করেন। তবে তেলের সুনির্দিষ্ট পরিমান নিয়ে কোনো তথ্য দেননি তিনি। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের মতে, মানুষের মনে আস্থা ফিরে এলে প্যানিক বায়িং দ্রুতই বন্ধ হয়ে যাবে।
এদিকে গতকাল রোববার দুপুরে সচিবালয়ের নিজ মন্ত্রণালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, দেশে তিন মাসের পেট্রোল ও অকটেনের মজুত রয়েছে। তিন মাসের চাহিদা মেটানোর জ্বালানি তেল আমদানির উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, এপ্রিল মাসে জ্বালানি তেলের যে চাহিদা রয়েছে, তা পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় মজুত আছে। প্রায় তিনমাসের পেট্রোল ও অকটেন সংরক্ষণ করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, তিনমাসের পেট্রোল ও অকটেনের মজুত রয়েছে। আগামী তিনমাসের চাহিদা মেটানোর মতো জ্বালানি তেল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
রাশিয়ার তেল আমদানির বিষয়ে স্যাংশন ওয়েভার দেওয়ার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র ইতিবাচকভাবে দেখছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রীর সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রীর বৈঠক হয়েছে। সরকার আশাবাদী ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়া থেকে বাংলাদেশকে তেল আমদানির সুযোগ দিবে।
এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এখন পর্যন্ত চার লাখ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। কৃষকদের তেল পেতে কোনো সমস্যা হলে তাৎক্ষণিক ভাবে তা সমাধানে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, মন্ত্রী পরিষদের কেউ কেউ বলেছেন, রাজধানীসহ সারাদেশের পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ¦ালানি তেল পাওয়া না পাওয়া নিয়ে যে চিত্র দেখা যাচ্ছে তা অনেকটা প্যানিক বায়িংয়ের কারণে। মানুষ একটা আশঙ্কা থেকে এমনটা করছেন। তাদের মতে, যার পাঁচ লিটার তেলের প্রয়োজন ছিল তিনি নিচ্ছেন পনের লিটার কিংবা যে বাইক রাইডার ভাইটি দিনে তিনশ’ টাকার তেল দিয়ে পার করতেন এখন তার চাহিদা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার টাকায়। এসবই প্যানিক বায়িং। যার ফলে সরকার রেশনিং চালু করেছিল জ¦ালানি তেল ক্রয়-বিক্রয়ে। পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় সেটাও তুলে দেওয়া হয়।
জ¦ালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে শিল্প-কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দেশজুড়ে ভয়াবহ লোডশেডিং এবং মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা রয়েছে। সরবরাহ ব্যবস্থার অনিশ্চয়তা কাজে লাগিয়ে বাজারে কালোবাজারি ও সিন্ডিকেটের তৎপরতাও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সাধারণ মানুষের আতঙ্ককে আরো উস্কে দিচ্ছে। বিদ্যমান পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে দ্রুত রূপান্তর এবং জ্বালানি ব্যবহারে সর্বোচ্চ মিতব্যয়ী হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।
অন্যথায়, বৈশ্বিক এই সংকট দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে স্থবির করে দিতে পারে। তাদের মতে, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন দেশ থেকে জ্বালানি আমদানির তৎপরতা বাড়ালেও, দীর্ঘমেয়াদী এই সংকট দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তবে আশার কথা, সরকারের পক্ষ থেকে সাশ্রয়ী নীতি, তেল রেশনিং এবং বিকল্প উৎসের সন্ধানের মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা করা হচ্ছে।