এল আর বাদল : সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছাত্রনেতা শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে বাংলাদেশ আবারও সহিংসতার ঢেউয়ে কেঁপে উঠেছে। নিহত হাদি গত বছরের গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ। ওই আন্দোলনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদের শাসনের অবসান ঘটে।
ইনকিলাব মঞ্চের রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের মুখপাত্র ছিলেন হাদি এবং আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের একজন প্রার্থীও ছিলেন।
বৃহস্পতিবার তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। উত্তেজিত জনতা সহিংসতা ও অগ্নিসংযোগে জড়িয়ে পড়ে। হামলার লক্ষ্যবস্তু হয় দেশের শীর্ষস্থানীয় দুটি সংবাদপত্র- প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার।
উত্তেজিত জনতা ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়ার পর দ্য ডেইলি স্টারের কর্মীরা এক ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। পরে নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাদের উদ্ধার করেন।
পাকিস্তানের প্রভাবশালী পত্রিকা ডনের এক সম্পাদকীয়তে এসব কথা বলা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়- স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, শনিবার হাদির জানাজায় কয়েক লাখ মানুষ অংশ নেন।
এতে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসও উপস্থিত ছিলেন। ইনকিলাব মঞ্চ নিহত এই নেতাকে ‘ভারতীয় আধিপত্যবিরোধী শহীদ’ হিসেবে অভিহিত করেছে। এদিকে সন্দেহভাজন হত্যাকারী ভারতে পালিয়ে গেছে বলেও খবর পাওয়া যাচ্ছে।
বাংলাদেশে নির্বাচন আর মাত্র অল্প কিছুদিনের দূরে। এ অবস্থায় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী কর্তৃপক্ষের জন্য এখন সবচেয়ে জরুরি হলো দেশকে নৈরাজ্যের দিকে গড়িয়ে পড়া থেকে রক্ষা করা। রাজনৈতিক সহিংসতা ও জনতার বিচার (মব রুল)-এর কোনো জায়গা থাকতে পারে না। হাদির হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনতেই হবে।
একই সঙ্গে সব রাজনৈতিক শক্তিকে বিক্ষোভের সময়ও গণতান্ত্রিক আচরণবিধি মেনে চলতে হবে। বিশেষ করে গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলোকে উগ্রপন্থী হামলা থেকে রক্ষা করা জরুরি। যারা সহিংসতা উসকে দিচ্ছে, তাদের অবশ্যই শাস্তি দিতে হবে।
শেখ হাসিনার শাসনামল বাংলাদেশের অস্থির ইতিহাসের অন্যতম অন্ধকার অধ্যায় ছিল। নির্বাচিত নেতা থেকে নির্মম স্বৈরশাসকে পরিণত হওয়ার তার রূপান্তর ছিল স্পষ্ট, আর গত বছরের গণঅভ্যুত্থান ছিল তার দমনমূলক শাসনেরই প্রতিক্রিয়া।
বাংলাদেশের সামনে এখন নতুন পথ রচনার সুযোগ। আর তা সম্ভব হবে কেবল পূর্ণ গণতান্ত্রিক শাসনের দিকে একটি শান্তিপূর্ণ রূপান্তরের মাধ্যমে। অন্যথায়, জনগণের দেয়া ত্যাগ ও আত্মবলিদান সবই ব্যর্থ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। --- দ্য ডন/ এমজমিন