বাতাসে বয়ে আনা দুর্গন্ধ আপনাকে শুধু বিরক্তই করে না, শরীর ও মনকেও ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। তবুও এমন গন্ধদূষণের স্বাস্থ্য ও জীবনমানের প্রভাব নিয়ে আমরা খুব কমই ভাবি। দুর্গন্ধকে অনেক সময় ব্যক্তিগত অনুভূতি বা তুচ্ছ বিষয় হিসেবে দেখা হয়। বিবিসি এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন করেছে।
আইওপি জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষ সাধারণত ঘ্রাণশক্তিকে দৃষ্টি, শ্রবণ, স্পর্শ ও স্বাদের তুলনায় কম গুরুত্ব দেয়। যদিও মানুষের মুখের দুর্গন্ধ হোক কিংবা নাগরিক বর্জ্যের দুর্গন্ধ- মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব, শ্বাসকষ্ট বা ঘুমের ব্যাঘাতের মতো সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত। এগুলো দীর্ঘমেয়াদে মানসিক ও শারীরিক প্রভাব ফেলতে পারে।
গন্ধের অনুভূতি মূলত একটি প্রাথমিক সতর্কতা ব্যবস্থা হিসেবে বিবর্তিত হয়েছে, যা আমাদের অসুস্থতা বা সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।
পচা কোনো কিছুর গন্ধ মানেই সেখানে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থাকার সম্ভাবনা বেশি। এটি আমাদের তথাকথিত “আচরণগত প্রতিরোধ ব্যবস্থা”-এর অংশ। এটি সায়েন্টিফিক রিপোর্ট জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণা থেকে জানা গেছে।
নাক দিয়ে গন্ধ প্রবেশের প্রায় ৩০০ মিলিসেকেন্ডের মধ্যেই মস্তিষ্ক সেটি প্রক্রিয়াজাত করে এবং মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সেই উৎস থেকে দূরে সরে যায় বলেও জানা গেছে আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক জার্নাল পিএনএএস-এ প্রকাশিত এক গবেষণায়।
স্বাস্থ্যঝুঁকির বাস্তব প্রভাব :
গন্ধ সরাসরি স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। ভালো গন্ধ যেমন বনভূমির সুগন্ধ মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। কারণ এটি মস্তিষ্কের আবেগ ও স্মৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত অংশকে সক্রিয় করে।অন্যদিকে, দুর্গন্ধ স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে বলেও প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।
২০২১ সালে আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক জার্নাল পিএনএএস-এ প্রকাশিত এক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, দুর্গন্ধ মাথাব্যথা বা বমির মতো উপসর্গ তৈরি করতে পারে-এটির একটি জৈবিক ব্যাখ্যাও রয়েছে।
যেমন, বাজে গন্ধ ভেগাস নার্ভকে উদ্দীপ্ত করতে পারে, যা মস্তিষ্ক ও অন্ত্রের সংযোগ স্থাপন করে, ফলে বমি বমি ভাব তৈরি হয়।
জীবনযাপনেও পরিবর্তন এনে দেয় :
দীর্ঘদিন ধরে দুর্গন্ধের মধ্যে থাকলে জীবনযাপনে নেতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে বলে জানা গেছে আইওপি জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায়। সেখানে বলা হয়েছে, গরমের দিনে জানালা বন্ধ রাখা, বাইরে ব্যায়াম করতে না যাওয়া বা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো এড়িয়ে চলা- এসব আচরণ স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।