শিরোনাম
◈ দ‌ক্ষিণ আ‌ফ্রিকার টি-টোয়েন্টিতে খেল‌বেন রিশাদ হো‌সেন! ◈ ১৩ বছর পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের মা‌টি‌তে ওয়ান‌ডে জ‌য়ের স্বাদ পে‌লো  শ্রীলঙ্কা ◈ নতুন-পুরনো সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা: এনআইডি ব্লকের প্রস্তুতি, নতুন তালিকা হচ্ছে, নজরদারিতে স্বজনরাও ◈ বিদ্যুৎ দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে আজ সারা দেশে জামায়াতের বিক্ষোভ ◈ বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ডিসেম্বরে নিউজিল্যান্ড সফ‌রে যাচ্ছে ◈ লিও‌নেল মে‌সি স্পেনের মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার জিতলেন, বা‌র্সেলোনার অভিনন্দন ◈ রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলা: যুক্তিতর্ক শুনানি আজ ◈ মমতার বিস্ফোরক মন্তব্যেও নীরব দিল্লি, বক্তব্য নেই বিজেপির ◈ মরুভূমির দেশ হয়েও কেন বালু আমদানি করে সৌদি আরব? ◈ মাত্র ১৭০ টাকায় অনলাইনে এনআইডি বিক্রি!

প্রকাশিত : ২৫ মার্চ, ২০২৬, ০২:৪৬ দুপুর
আপডেট : ০২ জুন, ২০২৬, ০৮:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সুদ বা ঘুসখোর ব্যক্তির বাড়িতে দাওয়াত খাওয়া যাবে?

প্রশ্ন: আত্মীয়ের মধ্যে কেউ যদি সুদখোর থাকে তিনি যদি দাওয়াত খাওয়াতে চান, তাহলে খাওয়া যাবে কী?

উত্তর: উত্তম হলো সুদ বা ঘুসখোর ব্যক্তির বাড়িতে খাওয়া পরিহার করা। তাকওয়ার দাবি হচ্ছে, এগুলো থেকে নিজেকে বিরত রাখা। কিন্তু এ ধরনের খাওয়া হারাম বা নিষিদ্ধ নয়। আপনি হালাল খাবার খেতে পারেন। 

আপনি যদি জানেন যে, এই লোক সুদ, ঘুস বা খারাপ কাজের সঙ্গে জড়িত, তাহলে সেখানে খাওয়া মানে তাকে অনেকটা উৎসাহিত করার মতো। বিশেষ করে যদি প্রভাবশালী বা মর্যাদাশালী- এ ধরনের লোক যদি খায়, তাহলে বুঝতে হবে তাদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। 

এ ক্ষেত্রে উত্তম হচ্ছে, তাদের সতর্ক করার জন্য এগুলো পরিহার করা। তা না হলে আপরাধী আরও প্রশ্রয় পেয়ে যাবে।

জায়েয, কিন্তু সতর্কতামূলক

সুদখোর আত্মীয়ের বাড়িতে দাওয়াত বা সাধারণভাবে খাওয়া জায়েজ। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইহুদিদের বাড়িতে দাওয়াত খেয়েছেন এবং হাদিয়া গ্রহণ করেছেন, অথচ তারা সুদ ও হারাম উপার্জনে লিপ্ত ছিল।

শর্ত সাপেক্ষে খাওয়া যাবে

যদি সুদি ব্যক্তির আয়ের সিংহভাগ (অধিকাংশ) হালাল হয় (যেমন পৈতৃক সম্পত্তি, বৈধ ব্যবসা), তবে তার বাড়িতে খাওয়া বা উপহার গ্রহণ করা যাবে। 

বর্জন করা উত্তম (যদি আয় শুধুমাত্র সুদি হয়)

যদি নিশ্চিতভাবে জানা যায় যে, ওই ব্যক্তির আয়ের মূল উৎসই হলো সুদ বা হারাম, তবে তার বাড়িতে না খাওয়া এবং তার হাদিয়া না নেওয়া উত্তম।

আত্মীয়তার সম্পর্ক ও সংশোধন

আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার্থে বা তাকে সংশোধনের উদ্দেশ্যে, অথবা তাকে ইসলামের পথে আকৃষ্ট করার নিয়তে যদি তার বাড়িতে খাওয়া হয়, তবে এতে কোনো দোষ নেই। সেক্ষেত্রে নিয়ত করতে হবে যে, তার হালাল অংশ থেকে সামান্য নিচ্ছেন, হারাম থেকে নয়। 

সুদি ব্যক্তির উপার্জনের গুনাহ তার নিজেরই ওপর বর্তাবে। তার আত্মীয়-স্বজন বা মেহমান যদি তার হালাল উপার্জন সম্পর্কে নিশ্চিত না হন, তবে তারা তার বাড়িতে খেতে পারেন।

মূলকথা

সম্পর্ক বজায় রাখার খাতিরে তাদের বাড়িতে যাওয়া এবং খাবার গ্রহণ করা যেতে পারে, তবে হালাল-হারামের প্রতি সতর্ক থাকা এবং সুযোগ থাকলে তাদের সুদের ভয়াবহতা সম্পর্কে বুঝিয়ে সংশোধন করার চেষ্টা করা উত্তম। 

সাধারণভাবে উচিত হলো- এসব দাওয়াত বা হাদিয়া কৌশলে ফিরিয়ে দেবেন। আর তাকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করবেন। কেননা, আল্লাহতায়ালা কেবল হালাল খাবার গ্রহণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। 

আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের আমি যে রিজিক দিয়েছি, তা থেকে হালালগুলো ভক্ষণ করো।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৭২)

তবে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা যদি ভালো মনে না করেন; যেমন- আত্মীয়তার কারণে ও ওই আত্মীয়ের সাথে সুসম্পর্ক ধরে রাখার জন্য প্রয়োজন মনে করেন; তাহলে অতিসামান্য হাদিয়া-উপহার নেওয়া যাবে। তবে তখন নিয়ত করবেন যে, তার সম্পদের মধ্যে যেসব হালাল অংশ রয়েছে; সেখান থেকে আপনি সামান্য নিচ্ছেন। যেমন- হারাম উপার্জনের বাইরে তাদের পৈতৃক সম্পত্তি কিংবা হালাল আয় রয়েছে। সে হিসাবে অপারগতার কারণে এটি করার অনুমতি রয়েছে।

এর দলিল হলো- ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, ‘তার নিকটে জনৈক ব্যক্তি এসে বলল- আমার একজন প্রতিবেশী আছে, যে সুদ খায় এবং সর্বদা আমাকে তার বাড়িতে খাওয়ার জন্য দাওয়াত দেয়। এখন আমি তার দাওয়াত কবুল করব কি? 

জওয়াবে তিনি বললেন, ‘তোমার জন্য এটি বিনা কষ্টের অর্জন এবং এর গোনাহ তার উপরে’। (মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাক : ১৪৬৭৫)

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়