শিরোনাম
◈ গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন সীমান্তে বিএসএফের ১০টি পুশইন অপচেষ্টা রুখে দিয়েছে বিজিবি ◈ অবশেষে পদত্যাগ করেছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান ◈ তাপপ্রবাহে পুড়ছে দেশ, দিনাজপুরে সর্বোচ্চ ৩৮.৫° সেলসিয়াস, আজও ঝড়-বৃষ্টির আভাস ◈ মার্কিন অবরোধের প্রভাব: ভিসা-মাস্টারকার্ড লেনদেন স্থগিতের ঘোষণা কিউবার ◈ মেডিকেলের ছাত্রীরা বছরের পর বছর যৌন হয়রানির শিকার, কমপক্ষে ৩০ জনের অভিযোগ ◈ দ‌ক্ষিণ আ‌ফ্রিকার টি-টোয়েন্টিতে খেল‌বেন রিশাদ হো‌সেন! ◈ ১৩ বছর পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের মা‌টি‌তে ওয়ান‌ডে জ‌য়ের স্বাদ পে‌লো  শ্রীলঙ্কা ◈ নতুন-পুরনো সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা: এনআইডি ব্লকের প্রস্তুতি, নতুন তালিকা হচ্ছে, নজরদারিতে স্বজনরাও ◈ বিদ্যুৎ দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে আজ সারা দেশে জামায়াতের বিক্ষোভ ◈ বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ডিসেম্বরে নিউজিল্যান্ড সফ‌রে যাচ্ছে

প্রকাশিত : ০৪ জুন, ২০২৬, ০৯:৪৬ সকাল
আপডেট : ০৪ জুন, ২০২৬, ০১:০৬ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

দূর থেকে ইলেকট্রনিক আঘাতে শত্রুর প্রতিরক্ষা ভেঙে দেবে তুরস্কের 'জ্যামার' যুদ্ধবিমান

সামরিক প্রযুক্তিতে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে নিজস্ব সক্ষমতা বাড়াতে আরও একধাপ এগিয়ে গেল তুরস্ক। দীর্ঘদিন ধরে কঠোর গোপনীয়তায় নির্মাণাধীন থাকা দেশটির অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক যুদ্ধবিমান 'হাভা সোজ’ (এয়ারবোর্ন স্ট্যান্ডঅফ জ্যামার) এখন চূড়ান্ত সফলতার দ্বারপ্রান্তে। তুর্কি বিমান বাহিনীর বিশেষ একটি ভিডিওতে সম্প্রতি এই রহস্যময় বিমানটির সবচেয়ে স্পষ্ট ও নতুন কিছু দৃশ্য প্রকাশ্যে এসেছে, যা প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিমানটি পশ্চিমা দেশগুলোর ব্যবহৃত বিখ্যাত স্ট্যান্ডঅফ ইলেকট্রনিক অ্যাটাক প্ল্যাটফর্ম—যেমন আমেরিকার তৈরি ‘ইএ-৩৭বি কম্পাস কল’-এর সমকক্ষ।

ক্যানাডিয়ান কোম্পানি বোম্বারডিয়ার-এর তৈরি বিখ্যাত 'গ্লোবাল ৬০০০’ বিজনেস জেটের এয়ারফ্রেমের ওপর ভিত্তি করে এই বিশেষ বিমানটি তৈরি করা হচ্ছে। ক্যানাডা থেকে আনা এই এয়ারফ্রেমগুলোর ভেতর তুরস্কের নিজস্ব খ্যাতনামা প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘আসেলসান’ তাদের অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক মিশন পে-লোড ও জ্যামিং সিস্টেম যুক্ত করছে। বিমানটি মূলত তুরস্কের ল্যান্ড-বেসড বা স্থলভিত্তিক রাডার সিস্টেম ‘কোরাল’-এর আকাশ সংস্করণ।

কেমন দেখতে এই নতুন যুদ্ধবিমান?

ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে, বিমানটি এখনো আনপেইন্টেড বা রঙ না করা অবস্থায় রয়েছে এবং এর ফিউজেলেজ বা মূল বডিতে বিভিন্ন এক্সটার্নাল ফেয়ারিং (বাড়তি অংশ) ও অ্যান্টেনা যুক্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক ফ্লাইট টেস্ট বা উড্ডয়ন পরীক্ষার অংশ হিসেবে বিমানটির পেছনের লেজ (ভার্টিক্যাল স্ট্যাবিলাইজার) থেকে একটি দীর্ঘ ক্যাবল বা তার ঝুলতে দেখা গেছে, যা মূলত ট্রেইলিং কোন। এছাড়া এর নাকের ডগায় একটি বিশেষ এয়ার-ডেটা প্রোব (পরীক্ষামূলক সেন্সর) লাগানো রয়েছে।

তুরস্কের ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রি এজেন্সি বা প্রতিরক্ষা শিল্প সংস্থা জানিয়েছে, এই স্ট্যান্ডঅফ জ্যামিং প্ল্যাটফর্মগুলো আধুনিক যুদ্ধের সমীকরণ পুরোপুরি বদলে দিতে পারে। শত্রুভাবাপন্ন দেশের আকাশসীমায় বা এয়ার ডিফেন্স জোনে প্রবেশ না করেই, অনেক নিরাপদ দূরত্বে থেকে তাদের এয়ার ডিফেন্স রাডার এবং কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সাইকেল পুরোপুরি অচল করে দিতে পারে।

এটি শত্রুর রাডার ও যোগাযোগ ব্যবস্থা জ্যামিং বা স্পুফিং (প্রতারণামূলক সংকেত)-এর মাধ্যমে অন্ধ করে দিয়ে নিজেদের সাধারণ ফাইটার জেট বা বোমারু বিমানের জন্য নিরাপদ আক্রমণের পথ বা ‘করিডোর’ তৈরি করে। বিমানটিতে রয়েছে অত্যন্ত শক্তিশালী ‘এইসা’ (অ্যাক্টিভ ইলেকট্রনিক্যালি স্ক্যানড অ্যারে) অ্যান্টেনা। এর মাধ্যমে নিখুঁত ইলেকট্রনিক আক্রমণ চালানো এবং প্রয়োজনে শত্রুর ডেটা সিস্টেমে দূর থেকে সাইবার হামলা চালানো সম্ভব।

যুদ্ধের সময় ছাড়াও শান্তিকালীন সময়ে এটি শত্রুপক্ষের রেডিও-ফ্রিকোয়েন্সি নির্গমন ট্র্যাক করে ইলেকট্রনিক অর্ডার অফ ব্যাটল বা ইওবি তৈরিতে সাহায্য করবে, যা ন্যাটো জোটের জন্যও অত্যন্ত মূল্যবান।

২০০০ সালের শেষের দিকে এই প্রকল্পের পরিকল্পনা শুরু হলেও নানাবিধ আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও প্রযুক্তির জটিলতার কারণে এটি বেশ পিছিয়ে পড়ে। তবে ২০২৬ সালের এই নতুন চিত্র এবং সফল টেস্ট রানগুলো পরিষ্কার ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তুরস্কের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হাভা সোজ’ বিমানটি খুব দ্রুতই পূর্ণ অপারেশনাল স্ট্যাটাস বা যুদ্ধক্ষমতা পেতে যাচ্ছে।

আকাশযুদ্ধের এই বিশেষ ক্ষেত্রে তুরস্কের এই আত্মনির্ভরশীলতা বিশ্ব বাজারে তাদের সামরিক পণ্যের আধিপত্য আরও বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।

তথ্যসূত্র: টিডব্লিউজেড

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়