শিরোনাম
◈ বাড়তি মার্কিন শুল্ক কার্যকর হলে রপ্তানিতে বড় ধাক্কার আশঙ্কা ◈ শেখ হাসিনার পক্ষের দাবি নাকচ, জুলাই অভ্যুত্থান প্রতিবেদনের পাশে জাতিসংঘ ◈ কারামুক্ত হলেন সাবেক মেয়র আইভী ◈ দিল্লির আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত ২১; আহতদের মধ্যে ৫ বাংলাদেশি ◈ ‘আসল’ তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণ ঋতব্রতের হাতে, মমতাকে উপদেষ্টা হওয়ার প্রস্তাব ◈ অস্ট্রেলিয়ার বিরু‌দ্ধে বাংলা‌দে‌শের ওয়ান‌ডে দল ঘোষণা, মিরাজ অ‌ধিনায়ক ◈ বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ তুলে নিল সরকার ◈ হাজিদের লাগেজ চুরি রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস ধর্মমন্ত্রীর ◈ ৩০০ দিনে ১৭ দেশ পেরিয়ে আর্জেন্টিনার ক্যাম্পে ৩ ভক্ত সাইক্লিস্ট  ◈ হাদি ইস্যুতে মমতার মন্তব্য; যা বললেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী (ভিডিও)

প্রকাশিত : ০৩ জুন, ২০২৬, ০৫:১২ বিকাল
আপডেট : ০৪ জুন, ২০২৬, ০৫:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

অভিবাসী-শরণার্থীদের জন্য কি ইউরোপের দরজা বন্ধ হচ্ছে?: ডয়চে ভেলের বিশ্লেষণ

অভিবাসন বিষয়ক গবেষকরা চান, ইউরোপীয় সরকারগুলো বিচ্ছিন্ন করা বা দূরে রাখার নীতি থেকে সরে আসুক। কিন্তু অনেক রাজনীতিবিদই এতে পাত্তা দিচ্ছেন না। 

গত সোমবার প্রকাশ পেয়েছে 'গ্লোবাল রিফিউজি ক্রাইসিস ২০২৬' নামের একটি প্রতিবেদন। এটা মূলত এক ধরনের সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করেন প্রতিবেদনের সহ-সম্পাদক পেত্রা বেন্ডেল। 

প্রতিবেদনটি উপস্থাপনের সময় জার্মানির বাভারিয়ার এরলাঙ্গেন-নুরেমবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক পেত্রা 'কমন ইউরোপীয় অ্যাসাইলাম সিস্টেম' (সিইএএস)-এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। 

সিইএএস আইনি কাঠামোটি ২০২৪ সালে গ্রহণ করা হয়েছিল। আগামী ১২ জুন থেকে তা ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)-এর সব সদস্য রাষ্ট্রে বাধ্যতামূলক আইন হিসেবে কার্যকর হবে। 

সিইএএস কার্যকর হওয়ার আগে পেত্রা বেন্ডেলের আশঙ্কা, 'ইউরোপের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য বন্দিশিবিরের আদলে তৈরি করা আবাসনের পরিসর আরও বাড়তে পারে।'

যে শরণার্থীদের আশ্রয় পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে মনে হবে, তাদের ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের তৃতীয় কোনো দেশের 'রিটার্ন হাব' বা প্রত্যাবাসন কেন্দ্রে রাখার পরিকল্পনার কঠোর সমালোচনা করেন পেত্রা বেন্ডেল। 

তবে ইইউর অভিবাসনবিষয়ক কঠোরতর নীতির এ বৈশিষ্ট্যকে সম্প্রতি জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং রক্ষণশীল ক্রিশ্চিয়ান সোশ্যাল ইউনিয়ন (সিএসইউ) দলের নেতা আলেকজান্ডার ডোব্রিন্ট 'উদ্ভাবনী' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

তবে এ ধরনের প্রত্যাবাসন কেন্দ্র গড়ে তোলার বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে কয়েকটি সহযোগীসুলভ দেশের ওপর নির্ভর করতে হবে। এমন সহযোগিতা আফ্রিকাতেই বেশি পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। 

সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে রয়েছে তিউনিসিয়া ও মিশরের নাম, কারণ এসব দেশ আর ইউরোপের মাঝে শুধু ভূমধ্যসাগরের ব্যবধান। 

তবে ভৌগোলিকভাবে ইউরোপের চেয়ে আরও দূরের দেশ রুয়ান্ডা ও উগান্ডার মতো দেশেও অবশ্য প্রত্যাবাসন কেন্দ্র স্থাপনের কথা ভাবা হচ্ছে।

আফগানদের ক্ষেত্রে যা হয়েছে
পেত্রা বেন্ডেল মনে করেন, ইউরোপে সুরক্ষা চাইতে এসে এখন অনেকে যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন, ভবিষ্যতে তাদের তার চেয়ে অনেক বেশি কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। 'বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠী ও ব্যক্তিদের' জন্য সংকট আরও ঘনীভূত হবে বলে আশঙ্কা তার।

পেত্রা বেন্ডেলের মতে, আফগানিস্তান থেকে আসা মানুষদের পুনর্বাসন কর্মসূচিগুলো এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। জার্মান সরকার আফগানদের পুনর্বাসন কর্মসূচিগুলো স্থগিত করার পর থেকে আরও অনেক মানুষ কট্টর তালেবানে শাসকের নির্যাতনের শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছেন। এখনও অনেক আফগান অভিবাসনপ্রত্যাশী পাকিস্তানে আটকা পড়ে আছেন। 

পেত্রা বেন্ডেল বলেন, 'যখন বলি, জার্মানির, উচিত সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়ে নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা তখন ঠিক এই বিষয়টির কথাই বোঝাই আমি।'

জার্মানিতে অভিবাসনপ্রত্যাশী কমেছে
জার্মানির ওসনাব্রুক বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিবাসন বিষয়ক গবেষক ফ্রাঙ্ক ড্যুফেল ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নিয়ে নতুন এই পরিকল্পনাকে 'ত্রুটিপূর্ণভাবে প্রণীত' আখ্যা দিয়ে বলেন, এই সংস্কারের ফলে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি চলার সময় বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে অসামঞ্জস্যতা দেখা দিতে পারে এবং এর ফলে অভিবাসনপ্রত্যাশী শিশু, নারী এবং তাদের পরিবারের অধিকার সামগ্রিকভাবে খর্ব হতে পারে।

ফ্রাঙ্ক ড্যুফেল জানান, জার্মানিতে আসা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সংখ্যা ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য হারে কমছে। ২০২৩ সালে জার্মানিতে তিন লাখ ৩০ হাজার মানুষ রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছিলেন। দুই বছর পর সেই সংখ্যা কমে এক লাখ ১৩ হাজারে নেমে আসে। এই প্রবণতা এখনও অব্যাহত।

২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) প্রায় ২২ হাজার রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন নথিবদ্ধ করা হয়। এই হার অনুযায়ী পুরো বছরের হিসাব করলে বছর শেষে মোট আবেদনের সংখ্যা ৯০ হাজারেরও কম হতে পারে।

২০২৬ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সারা বিশ্বে বর্তমানে ১১ কোটি ৭০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত। গত এক দশকে এমন মানুষের সংখ্যা বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে।

তাদের অধিকাংশই অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তি(আইডিপি), অর্থাৎ তারা নিজেদের অঞ্চলেই যুদ্ধ বা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে (যেমন খরা ও বন্যা) থেকে বাঁচতে ঘরবাড়ি ছেড়েছেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সারা বিশ্বে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হওয়া এই মানুষদের খুব সামান্য অংশই শেষ পর্যন্ত ইউরোপ বা উত্তর আমেরিকায় পৌঁছাতে পেরেছেন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়