শিরোনাম
◈ নতুন-পুরনো সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা: এনআইডি ব্লকের প্রস্তুতি, নতুন তালিকা হচ্ছে, নজরদারিতে স্বজনরাও ◈ বিদ্যুৎ দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে আজ সারা দেশে জামায়াতের বিক্ষোভ ◈ বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ডিসেম্বরে নিউজিল্যান্ড সফ‌রে যাচ্ছে ◈ লিও‌নেল মে‌সি স্পেনের মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার জিতলেন, বা‌র্সেলোনার অভিনন্দন ◈ রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলা: যুক্তিতর্ক শুনানি আজ ◈ মমতার বিস্ফোরক মন্তব্যেও নীরব দিল্লি, বক্তব্য নেই বিজেপির ◈ মরুভূমির দেশ হয়েও কেন বালু আমদানি করে সৌদি আরব? ◈ মাত্র ১৭০ টাকায় অনলাইনে এনআইডি বিক্রি! ◈ বাড়তি মার্কিন শুল্ক কার্যকর হলে রপ্তানিতে বড় ধাক্কার আশঙ্কা ◈ শেখ হাসিনার পক্ষের দাবি নাকচ, জুলাই অভ্যুত্থান প্রতিবেদনের পাশে জাতিসংঘ

প্রকাশিত : ৩০ মে, ২০২৬, ১২:০৩ দুপুর
আপডেট : ০৩ জুন, ২০২৬, ০৩:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : আর রিয়াজ

ট্রাম্পের দেওয়া যে ২ শর্তে ঝুলে আছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি

প্রায় তিন মাস পেরিয়ে গেলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার দ্বন্দ্বের কোনো স্থায়ী সমাধান আসেনি। আলোচনা এখনও চলমান। গত এপ্রিলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে প্রায় দুই মাসের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিলেন। এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও বাড়ানো যায় কিনা, তা নিয়ে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রাম্পের দেওয়া দুটি মূল শর্তে এখনও একমত হতে পারেনি ইরান। ফলে শান্তিচুক্তি আটকে আছে। শিগগিরই হোয়াইট হাউসে বসে ইরানের প্রস্তাবগুলো নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ট্রাম্প।

শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, হোয়াইট হাউসের একটি নিরাপদ কক্ষে বৈঠক করে তিনি ইরানের প্রস্তাবের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। ইরান তার প্রস্তাবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও বাড়ানোর কথা বলেছে, যাতে স্থায়ী শান্তিচুক্তির জন্য কূটনীতিকরা আরও সময় পান।

হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, ট্রাম্প ‘সিচুয়েশন রুমে’ প্রায় দুই ঘণ্টা বৈঠক করেছেন, তবে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়। ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা হবে এমন চুক্তিই করবেন ট্রাম্প। ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে দেওয়া হবে না।’ ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, চুক্তির অনেকটা কাছাকাছি পৌঁছানো গেছে, তবে এখনও চূড়ান্ত সম্মতি মেলেনি।

ট্রাম্প ইরানকে দুটি শর্ত দিয়েছেন। প্রথমত, হরমুজ প্রণালীর ওপর থেকে ইরানের নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করতে হবে এবং সেখানে যুদ্ধের আগের পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে হবে। দ্বিতীয়ত, ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো সুযোগ রাখা যাবে না। তেহরান এখন পর্যন্ত কোনো শর্তেই রাজি হয়নি। ট্রাম্প বলেছেন, ‘ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র বা বোমা বানাতে পারবে না—এ বিষয়ে তাদের সম্মত হতেই হবে। হরমুজ প্রণালী অবিলম্বে উন্মুক্ত করতে হবে এবং সেখান দিয়ে চলাচলের জন্য কোনো শুল্ক আদায় করা যাবে না।’ এছাড়া ইরান থেকে মাটি খুঁড়ে পারমাণবিক সামগ্রী বের করে আনবে যুক্তরাষ্ট্র বলেও দাবি করেছেন ট্রাম্প।

ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স দাবি করেছে, ট্রাম্পের এ ধরনের বক্তব্য মূলত যুদ্ধে ‘জয়’ দেখানোর চেষ্টা। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী পণ্যবাহী জাহাজের নিয়ন্ত্রণ কেবল ইরান ও ওমানের হাতে থাকা উচিত। তারা আরও জানিয়েছে, হরমুজে ইরানি জাহাজের ওপর আরোপিত মার্কিন অবরোধ না উঠলে প্রণালী খুলে দেওয়া হবে না।

অন্যদিকে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, ইরান হরমুজ থেকে নিয়ন্ত্রণ সরিয়ে নিলে যুক্তরাষ্ট্রও ধীরে ধীরে ইরানি জাহাজের ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করবে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কোন পক্ষ কতটা ছাড় দিতে রাজি, সেই চিত্র স্পষ্ট হয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়