দেশজুড়ে মোট ৪০টি শহরে তাপপ্রবাহ বা তীব্র তাপপ্রবাহ পরিস্থিতি দেখা গেছে, যার মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ (১৪টি) ছিল উত্তর প্রদেশে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, রোববার ও সোমবারেও স্বস্তির কোনো সম্ভাবনা নেই। পূর্ব উত্তর প্রদেশের বেশিরভাগ অংশ এবং পশ্চিম উত্তর প্রদেশের কিছু এলাকায় সোমবার পর্যন্ত গরম ও শুষ্ক পশ্চিমা বাতাস (লু) বয়ে যাবে। বান্দায় শনিবার তীব্র তাপপ্রবাহ দেখা যায়। সেখানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪৭.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ৬.২ ডিগ্রি বেশি।
শনিবার তাপমাত্রা আরও বেড়ে যাওয়ায় উত্তর প্রদেশের বিভিন্ন অংশ তীব্র তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ভারতে এদিন সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড হয় বান্দায়। সেখানে পারদ স্তম্ভ ৪৭.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে যায়। রাজ্যের বেশির ভাগ জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রির ওপরে ছিল। ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তরের (আইএমডি) তথ্য অনুযায়ী, শনিবার লখনউতেও তাপমাত্রা বেড়ে মৌসুমের সবচেয়ে উষ্ণ দিন হিসেবে রেকর্ড হয়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া।
আইএমডির তথ্য অনুযায়ী, ১৯৫১ সাল থেকে রেকর্ড রাখা শুরু হওয়ার পর এপ্রিল মাসে বান্দায় এটি সর্বোচ্চ তাপমাত্রার সমান রেকর্ড। এর আগে ২০২২ সালের ২৯ এপ্রিলও বান্দায় ৪৭.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়। এ বছরে গত ১০ দিনের মধ্যে চারবার দেশের সবচেয়ে উষ্ণ শহর ছিল বান্দা। পাশাপাশি বুন্দেলখণ্ড অঞ্চলের অন্যান্য জেলাতেও শুষ্ক ও পাথুরে ভৌগোলিক অবস্থার কারণে তাপমাত্রা বেশি ছিল। লখনউতে শনিবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪২.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ৩.৮ ডিগ্রি বেশি। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শহরটিতে প্রতিদিনই তাপমাত্রা বাড়ছে এবং নতুন রেকর্ড তৈরি হচ্ছে। শনিবার ছিল এই মৌসুমের এ পর্যন্ত সবচেয়ে গরম দিন।
রোববার লখনউতে আরও তাপমাত্রা বাড়তে পারে। আকাশ পরিষ্কার থাকবে এবং সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা যথাক্রমে ৪৪ ও ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে থাকতে পারে। রাজ্যে বান্দার পর সবচেয়ে গরম শহর ছিল প্রয়াগরাজ। সেখানে তাপমাত্রা ৪৫.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়। এরপর রয়েছে বারাণসী (৪৫), ঝাঁসি (৪৪.৮) এবং আগ্রা (৪৪.৫)। আলিগড়, মেরঠ, বারাবাঙ্কি, রায়বেরেলি, বলিয়া, কানপুর, হারদোই, ওরাই, শাহজাহানপুর, বেরেলি ও মুজাফফরনগরসহ আরও কয়েকটি শহর তাপপ্রবাহে আক্রান্ত হয়েছে।
আইএমডির লখনউ কেন্দ্রের সিনিয়র বিজ্ঞানী মোহাম্মদ দানিশ বলেন, রাজ্যে তাপমাত্রা বৃদ্ধির পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পরিষ্কার আকাশ, যার কারণে সূর্যের রশ্মি সরাসরি পড়ছে; রাজস্থানের মরুভূমি অঞ্চল থেকে আসা গরম পশ্চিমা বাতাস এবং মহারাষ্ট্রের ওপর তৈরি অ্যান্টি-সাইক্লোন, যা গরম বাতাসকে উত্তর প্রদেশের দিকে ঠেলে দিচ্ছে এবং মেঘ তৈরি হতে দিচ্ছে না। তিনি বলেন, সোমবার পর্যন্ত রাজ্যের অধিকাংশ এলাকায় তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। রাতেও তাপমাত্রা বেশি থাকবে। তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার থেকে কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে, যখন পশ্চিমি ঝঞ্ঝা (ওয়েস্টার্ন ডিস্টার্ব্যান্স) ভারতে প্রবেশ করবে।
এতে পশ্চিম উত্তর প্রদেশের কিছু এলাকায় হালকা বৃষ্টি হতে পারে এবং ধীরে ধীরে পূর্বদিকে ছড়িয়ে পড়বে। এতে তাপমাত্রা ৩-৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে। ফলে তাপপ্রবাহ কমে যাবে। তবে আর্দ্রতা বাড়ায় অস্বস্তি বৃদ্ধি পেতে পারে।
আবহাওয়া দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, সমতল এলাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি বা তার বেশি হলে এবং স্বাভাবিকের চেয়ে ৪.৫-৬.৪ ডিগ্রি বেশি হলে তা তাপপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়। আর ৪৭ ডিগ্রির বেশি বা স্বাভাবিকের চেয়ে ৬.৪ ডিগ্রি বা তার বেশি হলে সেটি তীব্র তাপপ্রবাহ হিসেবে বিবেচিত হয়।