শিরোনাম
◈ নতুন বিদ্যুৎ ট্যারিফে অসন্তোষ, বিইআরসিকে পুনর্বিবেচনার অনুরোধ মন্ত্রণালয়ের ◈ ‘আমরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত’, মায়ের মৃত্যু নিয়ে প্রথমবারের মতো মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বুয়েট অধ্যাপক ◈ কুমির সরিয়ে নেওয়া ঠিক হয়নি, মাজারের দিঘিতে ফেরত চাইলেন খাদেম ◈ ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ বিশ্বকাপ মোবাইলে খেলা দেখবেন যেভাবে ◈ ইরান অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা, আর ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র: রুবিও ◈ স্বামী-সন্তান কানাডা প্রবাসী, সেই মিরপুরেই মিলল আরেক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ ◈ গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন সীমান্তে বিএসএফের ১০টি পুশইন অপচেষ্টা রুখে দিয়েছে বিজিবি ◈ অবশেষে পদত্যাগ করেছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান ◈ তাপপ্রবাহে পুড়ছে দেশ, দিনাজপুরে সর্বোচ্চ ৩৮.৫° সেলসিয়াস, আজও ঝড়-বৃষ্টির আভাস ◈ মার্কিন অবরোধের প্রভাব: ভিসা-মাস্টারকার্ড লেনদেন স্থগিতের ঘোষণা কিউবার

প্রকাশিত : ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৫০ রাত
আপডেট : ০৪ জুন, ২০২৬, ০৫:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ডাকাতির নাটকের আড়ালে ভয়ংকর সত্য: প্রেমিকের সঙ্গে মিলে স্বামীকে খুন

ভারতের মধ্যপ্রদেশের ধার এলাকার এক মসলা ব্যবসায়ীকে খুনের ঘটনায় বেরিয়ে এসেছে এক সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক কাহিনি। শুরুতে ডাকাতির ঘটনা বলে মনে করা হলেও পুলিশের তদন্তে উন্মোচিত হয়েছে—নিহত ব্যক্তির স্ত্রী ও তাঁর প্রেমিক মিলে এই হত্যাকাণ্ডের ছক কষেছিলেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ৭ এপ্রিল রাতে ২৮ বছর বয়সী পুরোহিত দেবকৃষ্ণকে তাঁর নিজ বাড়িতে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। দেবকৃষ্ণের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা (২৫) শুরুতে পুলিশকে জানিয়েছিলেন, অজ্ঞাতনামা ডাকাত দল বাড়িতে ঢুকে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকার মালপত্র লুট করেছে এবং বাধা দেওয়ায় তাঁর স্বামীকে খুন করা হয়েছে। নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে তিনি দাবি করেন, ডাকাতেরা তাঁকে বেঁধে জিম্মি করে রেখেছিল।

ঘটনার তদন্ত শুরু হলে প্রিয়াঙ্কার সাজানো গল্প দ্রুত ভেঙে পড়তে শুরু করে। পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে জানান, এই দম্পতির দাম্পত্যজীবন দীর্ঘ সময় ধরে অশান্ত ছিল। দেবকৃষ্ণের বোন জ্যোতি অভিযোগ করেন, প্রিয়াঙ্কা প্রায়ই তাঁর ভাইকে গায়ের রং নিয়ে অপমান করতেন। তিনি বলতেন, ‘তুমি কালো...তুমি আমার যোগ্য নও...আমি আরও ভালো কাউকে পেতাম।’

পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে আসে, রাজগড়ের বাসিন্দা কমলেশ পুরোহিত (৩২) নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে প্রিয়াঙ্কার পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। তাঁরা দুজনে মিলে দেবকৃষ্ণকে পথ থেকে সরিয়ে দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।

পুলিশ জানায়, প্রেমিক কমলেশ তাঁর সহযোগী সুরেন্দ্র ভাটির সঙ্গে দেবকৃষ্ণকে হত্যার জন্য এক লাখ টাকার চুক্তি করেন এবং অগ্রিম ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। হত্যার রাতে পরিকল্পিতভাবে ঘরের দরজা খোলা রাখা হয়েছিল। সুরেন্দ্র ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত দেবকৃষ্ণকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করেন। ঘটনাটিকে ডাকাতি হিসেবে সাজাতে রুমের ভেতর তছনছ করা হয় এবং অলংকার চুরির নাটক সাজানো হয়।

তদন্তে প্রিয়াঙ্কার বক্তব্যে বারবার অসংগতি পাওয়ায় পুলিশের সন্দেহ গভীর হয়। তল্লাশি চালিয়ে ঘরের ভেতর থেকে সেই অলংকারগুলো উদ্ধার করা হয়, যা প্রিয়াঙ্কা চুরি হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন। এ ছাড়া মোবাইল ফোনের কল রেকর্ডের সূত্র ধরে হত্যাকাণ্ডের সময় প্রিয়াঙ্কা ও কমলেশের মধ্যে যোগাযোগের অকাট্য প্রমাণ পায় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের মুখে প্রিয়াঙ্কা শেষ পর্যন্ত নিজের অপরাধ স্বীকার করেন।

এ ঘটনায় প্রিয়াঙ্কা ও কমলেশকে গ্রেপ্তার করা হলেও ভাড়াটে খুনি সুরেন্দ্র ভাটি এখনো পলাতক রয়েছেন। দেবকৃষ্ণের মা খেঞ্চি বাই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছেন। দেবকৃষ্ণের বোন জ্যোতি বলেন, ‘২০২০ সাল থেকে প্রিয়াঙ্কার ওপর আমার সন্দেহ ছিল। সে সব সময় ফোনে ব্যস্ত থাকত, কাজ এড়িয়ে চলত এবং ভাইকে গায়ের রং নিয়ে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করত। আমার ভাই পরিবারের শান্তির জন্য সব মুখ বুজে সহ্য করেছে।’

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়