শিরোনাম
◈ লিও‌নেল মে‌সি স্পেনের মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার জিতলেন, বা‌র্সেলোনার অভিনন্দন ◈ রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলা: যুক্তিতর্ক শুনানি আজ ◈ মমতার বিস্ফোরক মন্তব্যেও নীরব দিল্লি, বক্তব্য নেই বিজেপির ◈ মরুভূমির দেশ হয়েও কেন বালু আমদানি করে সৌদি আরব? ◈ মাত্র ১৭০ টাকায় অনলাইনে এনআইডি বিক্রি! ◈ বাড়তি মার্কিন শুল্ক কার্যকর হলে রপ্তানিতে বড় ধাক্কার আশঙ্কা ◈ শেখ হাসিনার পক্ষের দাবি নাকচ, জুলাই অভ্যুত্থান প্রতিবেদনের পাশে জাতিসংঘ ◈ কারামুক্ত হলেন সাবেক মেয়র আইভী ◈ দিল্লির আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত ২১; আহতদের মধ্যে ৫ বাংলাদেশি ◈ ‘আসল’ তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণ ঋতব্রতের হাতে, মমতাকে উপদেষ্টা হওয়ার প্রস্তাব

প্রকাশিত : ১২ মার্চ, ২০২৬, ০১:৪৪ রাত
আপডেট : ১১ মে, ২০২৬, ০৬:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ইসরায়েল ইস্যুতে বড় পদক্ষেপ নিল স্পেন

ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি এবং ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার তীব্র বিরোধিতা করে এবার তেল আবিব থেকে নিজেদের রাষ্ট্রদূত স্থায়ীভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছে স্পেন। 

বুধবার (১১ মার্চ) ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ভূমধ্যসাগরীয় দেশ স্পেনের সঙ্গে ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক টানাপোড়েন এখন চূড়ান্ত বিচ্ছেদের রূপ নিল।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) প্রকাশিত স্পেনের সরকারি গেজেটে জানানো হয়েছে , ইসরায়েলে নিযুক্ত স্প্যানিশ রাষ্ট্রদূতের পদটি আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত করা হয়েছে। 

দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে তেল আবিবে স্পেনের দূতাবাস কোনো পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রদূতের পরিবর্তে একজন ‘চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স’ বা অন্তর্বর্তীকালীন কর্মকর্তার মাধ্যমে পরিচালিত হবে। মূলত গাজা যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে মাদ্রিদ ও তেল আবিবের মধ্যে যে দেয়াল তৈরি হয়েছিল, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তা আরও প্রকট হলো।

গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই স্পেনের বামপন্থী সরকার ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের কড়া সমালোচনা করে আসছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে মাদ্রিদ সরকার এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে জানায়, গাজা যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য কোনো ইসরায়েলি অস্ত্র বহনকারী বিমান বা জাহাজ স্পেনের আকাশসীমা ও সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করতে পারবে না। এই সিদ্ধান্তকে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার ‘ইহুদিবিদ্বেষী’ পদক্ষেপ বলে আখ্যা দিলে দুই দেশের সম্পর্কের সুতা ছিঁড়তে শুরু করে।

বিরোধের মাত্রা আরও বেড়ে যায় গত মে মাসে, যখন স্পেন আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি প্রদান করে। এর প্রতিবাদে ইসরায়েলও তাৎক্ষণিকভাবে স্পেন থেকে নিজেদের রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে নিয়েছিল। ফলে গত কয়েক মাস ধরেই দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগ ছিল অত্যন্ত সীমিত। 

এরই মধ্যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলা শুরু হওয়ার পর স্পেন আন্তর্জাতিক মহলে এই সংঘাতের তীব্র নিন্দা জানায়। এই প্রতিবাদের প্রতিক্রিয়ায় চলতি মার্চের শুরুতে ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার স্পেনকে ‘স্বৈরশাসকদের সহযোগী’ বলে অভিযুক্ত করেন। 

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্পেনের এই পদক্ষেপ অন্যান্য ইউরোপীয় দেশগুলোকেও ইসরায়েল ইস্যুতে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে। বিশেষ করে আয়ারল্যান্ড ও নরওয়ের মতো দেশগুলো যারা ইতিপূর্বেই ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে, তারাও স্পেনের পথে হাঁটতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের ক্ষেত্রগুলোও হুমকির মুখে পড়েছে।

 

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়