শিরোনাম
◈ বাংলাদেশে ৪৮০০ জনকে প্রত্যাবাসনের দাবি, নতুন তথ্য দিলেন শুভেন্দু ◈ অবহেলা, প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে ড. ইউনূসসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন ◈ ইসলামী ব্যাংকে আস্থার সংকট: পাঁচ দিনে ইসলামী ব্যাংক থেকে উত্তোলন ৩৫০০ কোটি টাকা ◈ মামলা দায়েরের জন্য ১০ হাজার টাকা দাবি, লাশ নিয়ে থানা ঘেরাওয়ের পর এসআই প্রত্যাহার ◈ অস্ট্রেলিয়ার ভিসা ও চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে লাখো টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক চক্র, আবেদনকারীদের সতর্কবার্তা ◈ ব্যাংকিং খাতে নতুন শর্ত: নতুন ও পুরোনো হিসাবেও লাগবে টিআইএন, আসছে বাজেটে প্রস্তাব ◈ দেশের বিভিন্ন জেলায় ভুয়া কমিটি গঠন ও প্রচারের অভিযোগ, বিএনপির মিডিয়া সেলের সতর্কবার্তা ◈ ঘোড়ার মাংস খাওয়া নিয়ে জয়া আহসানের রিট, যে নির্দেশ দিলেন হাইকোর্ট ◈ প্রতি মাসেই কিছু কোম্পানি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, আমিই তো ১০ হাজার কর্মী ছাঁটাই করব : শিল্পোদ্যোক্তা একে আজাদ (ভিডিও) ◈ সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর, আসছে নতুন বেতন কাঠামো, বাজেটে বরাদ্দ ৩৫ হাজার কোটি!

প্রকাশিত : ৩০ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৬:২৬ বিকাল
আপডেট : ০৫ জুন, ২০২৬, ১২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

পাক সেনাদের হাতে ‘ভারতীয় প্রক্সি বাহিনীর’ ৪১ জন নিহত

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে পৃথক দুটি অভিযানে অন্তত ৪১ জন ‘সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) দেশটির সেনাবাহিনীর মিডিয়া শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) এ তথ্য জানিয়েছে।

দেশটির আইএসপিআর বিবৃতিতে জানায়, “ভারত-পৃষ্ঠপোষক খাওয়ারিজ” উপস্থিতির তথ্যের ভিত্তিতে হারনাই জেলার উপকণ্ঠে একটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। নিরাপত্তা বাহিনী ও সন্ত্রাসীদের মধ্যে তীব্র গোলাগুলির পর ৩০ জন সন্ত্রাসী নিহত হন। ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার করে ধ্বংস করা হয়েছে।

এদিকে, নিরাপত্তা বাহিনী পানজগুর জেলায় একটি সন্ত্রাসী আস্তানায় অভিযান চালায়, যেখানে “ফিতনা-ই-হিন্দুস্তান”-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১১ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়। আইএসপিআরের বিবৃতিতে বলা হয়, অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং ১৫ ডিসেম্বর পানজগুরে সংঘটিত একটি ব্যাংক ডাকাতির লুটের অর্থও উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি, নিহত সন্ত্রাসীরা অতীতে একাধিক হামলায় জড়িত ছিল বলেও উল্লেখ করা হয়। এলাকায় অবশিষ্ট কোনো সন্ত্রাসী থাকলে তাদের গ্রেপ্তারে তল্লাশি ও ঝাড়ু অভিযান চলমান রয়েছে। 

আইএসপিআর জানায়, ফেডারেল এপেক্স কমিটি কর্তৃক জাতীয় কর্মপরিকল্পনার আওতায় অনুমোদিত “আজম-ই-ইস্তেহকাম” উদ্যোগের অধীনে সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম নিরাপত্তা বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো অব্যাহত রেখেছে।

শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ হারনাই ও পানজগুরে সফল অভিযানের জন্য পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “আজম-ই-ইস্তেহকামের ভিশনের অধীনে আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করে চলেছে।” তিনি আরও বলেন, “এই চলমান সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে পুরো জাতি সশস্ত্র বাহিনীর পাশে রয়েছে।”

রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারিও বেলুচিস্তান ও বান্নুতে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানের জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশংসা করেন। রাষ্ট্রপতির মিডিয়া শাখা থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “ফিতনা আল-খাওয়ারিজ ও ফিতনা-ই-হিন্দুস্তানের মতো গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ রাষ্ট্রের অটল সংকল্পের প্রতিফলন।”

২৫ জানুয়ারি বেলুচিস্তানের পানজগুর জেলায় একটি অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনী তিন সন্ত্রাসীকে হত্যা করে বলে সেনাবাহিনী জানিয়েছিল। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, ওই সন্ত্রাসীরা এলাকায় একাধিক হামলায় জড়িত ছিল। অঞ্চলটিতে আর কোনো সন্ত্রাসী যাতে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা বাহিনী তল্লাশি ও পরিষ্কার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

চলতি মাসের শুরুতে আইএসপিআরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী ২০২৫ সালে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের একটি বিস্তৃত পর্যালোচনা উপস্থাপন করেন এবং পাকিস্তানের সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে বছরটিকে ঐতিহাসিক ও ফলপ্রসূ বলে বর্ণনা করেন।

তিনি বলেন, গত বছরে দেশজুড়ে অস্বাভাবিক সংখ্যক আইবিও পরিচালিত হয়েছে, যা হুমকির ব্যাপ্তি ও তা মোকাবিলায় রাষ্ট্রের দৃঢ় সংকল্পকে প্রতিফলিত করে। “২০২৫ সালে সন্ত্রাসবাদের প্রশ্নে পাকিস্তান রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে পূর্ণ ঐক্য অর্জিত হয়েছে,” তিনি বলেন।

পরিসংখ্যান তুলে ধরে লেফটেন্যান্ট জেনারেল শরিফ জানান, ২০২৫ সালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো সারা দেশে মোট ৭৫ হাজার ১৭৫টি আইবিও পরিচালনা করেছে।  অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ২০৬টি অভিযান। এর মধ্যে খাইবার পাখতুনখোয়ায় ১৪ হাজার ৬৫৮টি, বেলুচিস্তানে ৫৮ হাজার ৭৭৮টি এবং দেশের অন্যান্য অংশে ১ হাজার ৭৩৯টি অভিযান চালানো হয়।

এই সব অভিযানের পরও দেশে ২০২৫ সালে ৫ হাজার ৩৯৭টি সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে খাইবার পাখতুনখোয়ায় সর্বাধিক ৩ হাজার ৮১১টি, বেলুচিস্তানে ১ হাজার ৫৫৭টি এবং দেশের বাকি অংশে মাত্র ২৯টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়। ওই বছরে মোট ২ হাজার ৫৯৭ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে জানান লেফটেন্যান্ট জেনারেল শরিফ।

সেনাবাহিনী আরও জানায়, বেলুচিস্তানের পানজগুর জেলায় একটি গোয়েন্দা-ভিত্তিক অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনী তিন সন্ত্রাসীকে হত্যা করেছে। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। ওই সন্ত্রাসীরা এলাকায় একাধিক হামলায় জড়িত ছিল বলে উল্লেখ করা হয়। অঞ্চলে আর কোনো সন্ত্রাসী অবশিষ্ট নেই—এটি নিশ্চিত করতে তল্লাশি ও পরিষ্কার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র: এক্সপ্রেস ট্রিবিউন

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়