শিরোনাম
◈ ‘আমরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত’, মায়ের মৃত্যু নিয়ে প্রথমবারের মতো মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বুয়েট অধ্যাপক ◈ কুমির সরিয়ে নেওয়া ঠিক হয়নি, মাজারের দিঘিতে ফেরত চাইলেন খাদেম ◈ ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ বিশ্বকাপ মোবাইলে খেলা দেখবেন যেভাবে ◈ ইরান অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা, আর ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র: রুবিও ◈ স্বামী-সন্তান কানাডা প্রবাসী, সেই মিরপুরেই মিলল আরেক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ ◈ গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন সীমান্তে বিএসএফের ১০টি পুশইন অপচেষ্টা রুখে দিয়েছে বিজিবি ◈ অবশেষে পদত্যাগ করেছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান ◈ তাপপ্রবাহে পুড়ছে দেশ, দিনাজপুরে সর্বোচ্চ ৩৮.৫° সেলসিয়াস, আজও ঝড়-বৃষ্টির আভাস ◈ মার্কিন অবরোধের প্রভাব: ভিসা-মাস্টারকার্ড লেনদেন স্থগিতের ঘোষণা কিউবার ◈ মেডিকেলের ছাত্রীরা বছরের পর বছর যৌন হয়রানির শিকার, কমপক্ষে ৩০ জনের অভিযোগ

প্রকাশিত : ১৩ নভেম্বর, ২০২৫, ০৯:২১ সকাল
আপডেট : ০২ জুন, ২০২৬, ০৩:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বিশ্বভ্রমণে ১২ দেশ পেরিয়ে ইন্দোনেশিয়াতেই খুঁজে পেলাম শান্তি

হেঁটে বিশ্ব দেখতে বের হওয়ার ৬০০ দিন পার করলাম সম্প্রতি। এই দীর্ঘ যাত্রায় বাংলাদেশ ছাড়া এখন পর্যন্ত আমি হেঁটে পেরিয়েছি ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, উজবেকিস্তান, তাজিকিস্তান, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, লাওস, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর এবং সর্বশেষ ইন্দোনেশিয়া। এত দেশ ঘোরার পর এখন যদি আমাকে জিজ্ঞেস করা হয়, প্রিয় দেশ কোনটি? নিঃসন্দেহে বলব, ইন্দোনেশিয়া।

ভিন্ন এক অনুভূতি এই দেশে

প্রতিটি দেশের নিজস্ব সৌন্দর্য আছে। কিন্তু ইন্দোনেশিয়া একেবারে আলাদা। এখানকার দ্বীপ, সংস্কৃতি, ভাষা, মাটি, আবহাওয়া এবং পরিবেশ—সব মিলিয়ে দারুণ লেগেছে। সবচেয়ে বড় কথা, এখানকার মানুষের আন্তরিকতা অসাধারণ। আমার ভ্রমণের অভিজ্ঞতায় ইন্দোনেশিয়ার মানুষই সবচেয়ে অতিথিপরায়ণ। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায় সহজে, যেকোনো সাহায্য চাইলে তারা আন্তরিকভাবে করে। অনেক জায়গায় শুধু ট্যুরিস্ট শুনে তারা খাবারের দাম পর্যন্ত নেয়নি। কেউ আমার যাত্রার গল্প শুনে উৎসাহ দিয়েছে। কেউ আবার বলেছে, ‘তুমি আমাদের দেশের সম্মান বাড়াচ্ছ।’ এই ভালোবাসা আমাকে সত্যিই ছুঁয়ে গেছে।

শহর নয়, গ্রামের পথে

আমি সাধারণত ট্যুরিস্ট জায়গাগুলো এড়িয়ে চলি। কারণ, হেঁটে ভ্রমণ মানেই হলো প্রকৃত জীবনের সঙ্গে মিশে যাওয়া। তাই শহরের চেয়ে গ্রামই বেশি ভালো লাগে। ইন্দোনেশিয়ার গ্রামের পথ ধরে হাঁটার সময় সে দেশের অধিবাসীদের জীবনধারা, পরিশ্রম, হাসি, সরলতা কাছ থেকে দেখেছি। ছোট দোকানে বসে চা খেতে খেতে গ্রামের মানুষের গল্প শুনেছি, তাদের সংস্কৃতি দেখেছি, তাদের জীবনযাত্রার সঙ্গে মিশেছি। গ্রামের মানুষগুলো সত্যিই আলাদা। কেউ কাজের ফাঁকে এসে আমার সঙ্গে কথা বলেছেন, কেউ ছবি তুলতে চেয়েছেন, কেউবা কৌতূহল নিয়ে জানতে চেয়েছেন, আমি এত দূর কেন হেঁটে চলেছি। তাঁদের হাসি আর আন্তরিকতা আমার এই যাত্রাকে আরও অর্থবহ করে তুলেছে।

সময়ের প্রতি শ্রদ্ধা

ইন্দোনেশিয়ার মানুষের জীবনযাপন খুব ভালো লেগেছে। এখানে মানুষ খুব ভোরে ঘুম থেকে ওঠে এবং এশার নামাজের পরপরই ঘুমিয়ে যায়। তাদের এই নিয়মিত জীবন যাপন করা, সময়ের মূল্য বোঝা, কাজের প্রতি দায়বদ্ধতা আমাকে মুগ্ধ করেছে।

আবার যেতে চাই

ইন্দোনেশিয়ার গ্রামগুলোর সৌন্দর্য, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য আমার মনে এক গভীর টান সৃষ্টি করেছে। তাদের আন্তরিকতা, আতিথেয়তা অতুলনীয়। আমি সত্যিই চাই আবার একদিন ইন্দোনেশিয়ায় ফিরতে। বিশেষ করে গ্রামের পথে। সেখানে মানুষ হাসিমুখে অতিথিকে এখনো স্বাগত জানায় এবং সরলতা এখনো টিকে আছে।

৬০০ দিনের এই যাত্রায় আমি বুঝেছি, ভ্রমণ মানে শুধু স্থান পরিবর্তন নয়, এটা বৃহৎ অর্থে মানুষ চেনা, সংস্কৃতি বোঝা। নিজের ভেতরের নতুন এক দিক উন্মোচনের পথ এটি। আর ইন্দোনেশিয়া আমার সেই পথের সবচেয়ে হৃদয়ছোঁয়া অধ্যায়।

সূত্র: আজকের পত্রিকা 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়