শাশুড়িকে নিজেদের সঙ্গে থাকতে দেবেন না স্ত্রী। এই অভিমানে, কষ্ঠে ১৫ তলা ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেছেন যোগেশ কুমার। এ ঘটনা ঘটেছে ভারতের ফরিদাবাদের গ্রেটার ফরিদাবাদ এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত যোগেশ পেশায় একজন রেডিওথেরাপিস্ট।
এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা পিটিআই। নিহতের চাচা প্রভাকর সিং একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন পুলিশে। সেখানে তিনি যোগেশের স্ত্রী নেহা রাওয়াত এবং তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ তুলেছেন। তাদের বিরুদ্ধে ভুপানি থানায় পাঁচজনের নামে এফআইআর করা হয়েছে। তারা হলেন নেহা রাওয়াত, তার পিতা-মাতা, দুই ভাই আশীষ ও অমিত রাওয়াত। যোগেশ মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রের বাসিন্দা।
গুরগাঁওয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে রেডিওথেরাপিস্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। নয় বছর আগে তার বিয়ে হয় নেহা রাওয়াতের সঙ্গে। তাদের ছয় বছরের একটি সন্তান আছে। এই দম্পতি আগে নয়ডায় থাকতেন।
সেখানে নেহা একটি বেসরকারি চাকরি করতেন। অভিযোগকারী চাচার বক্তব্য অনুযায়ী, দু’জনেই চাকরিতে থাকায় সন্তানটির যত্ন নেয়া সম্ভব হচ্ছিল না। এ কারণে যোগেশ চেয়েছিলেন তার মা যেন তাদের সঙ্গে থাকেন। কিন্তু নেহা এতে রাজি ছিলেন না।
ছয় মাস আগে যোগেশ সন্তানকে নিয়ে ফরিদাবাদের সেক্টর ৮৭-এর পার্ল সোসাইটিতে চলে যান। তবে নেহা নয়ডায় থেকেই যান। এ সময়ে যোগেশ নিজের মাকে ডেকে আনেন সন্তানের যত্ন নেয়ার জন্য।
অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রায় এক মাস আগে নেহা পার্ল সোসাইটির ফ্ল্যাটে যোগেশের সঙ্গে থাকতে যান। এরপর থেকেই তিনি যোগেশের মায়ের উপস্থিতি নিয়ে আপত্তি জানাতে শুরু করেন। নেহার দুই ভাই আশীষ ও অমিত রাওয়াতও সেখানে এসে যোগেশের সঙ্গে তর্ক-বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন, যা যোগেশকে মানসিকভাবে ভীষণভাবে আঘাত করে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার নেহাকে নিয়ে যোগেশ গোয়ালিয়রে নিজের বাড়িতে যান। ফেরার পথে তিনি নয়ডায় নেহাকে নামিয়ে দিয়ে একাই ফরিদাবাদ ফিরে যান।
শুক্রবার রাতে মানসিক চাপে তিনি ১৫ তলা ভবন থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেন। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ভুপানি থানার এসএইচও ইন্সপেক্টর সঙ্গরাম দাহিয়া জানান, অভিযুক্ত পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে।