শিরোনাম
◈ গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন সীমান্তে বিএসএফের ১০টি পুশইন অপচেষ্টা রুখে দিয়েছে বিজিবি ◈ অবশেষে পদত্যাগ করেছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান ◈ তাপপ্রবাহে পুড়ছে দেশ, দিনাজপুরে সর্বোচ্চ ৩৮.৫° সেলসিয়াস, আজও ঝড়-বৃষ্টির আভাস ◈ মার্কিন অবরোধের প্রভাব: ভিসা-মাস্টারকার্ড লেনদেন স্থগিতের ঘোষণা কিউবার ◈ মেডিকেলের ছাত্রীরা বছরের পর বছর যৌন হয়রানির শিকার, কমপক্ষে ৩০ জনের অভিযোগ ◈ দ‌ক্ষিণ আ‌ফ্রিকার টি-টোয়েন্টিতে খেল‌বেন রিশাদ হো‌সেন! ◈ ১৩ বছর পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের মা‌টি‌তে ওয়ান‌ডে জ‌য়ের স্বাদ পে‌লো  শ্রীলঙ্কা ◈ নতুন-পুরনো সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা: এনআইডি ব্লকের প্রস্তুতি, নতুন তালিকা হচ্ছে, নজরদারিতে স্বজনরাও ◈ বিদ্যুৎ দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে আজ সারা দেশে জামায়াতের বিক্ষোভ ◈ বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ডিসেম্বরে নিউজিল্যান্ড সফ‌রে যাচ্ছে

প্রকাশিত : ১১ অক্টোবর, ২০২৫, ১২:১৬ রাত
আপডেট : ২৯ মে, ২০২৬, ০২:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ধ্বংসস্তূপে ফিরছে গাজার মানুষ, ইসরাইল-হামাসের দুই বছরের যুদ্ধের অবসান

গাজা, বিধ্বস্ত এক জনপদ। ইসরাইলি বাহিনীর দুই বছরের বর্বরতায় উপত্যকাটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। একের পর এক বিমান হামলা ও কামানের গোলায় সেখানকার হাজার হাজার ঘরবাড়ি মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। শিশুদের খেলার মাঠ, বাড়ি, প্রাঙ্গণের ছোট সাজানো বাগান, ছোট-বড় শপিং মল, হাসপাতাল, সরকারি কার্যালয়- এমন কিছুই অবশিষ্ট নেই যেখানে হামলা করেনি দখলদার বাহিনী। বস্তুগত এসব ক্ষতি হয়তোবা পুষিয়ে নেয়া যাবে। তবে যেসব নারী, শিশু ও পুরুষ প্রাণ হারিয়েছেন তারা কি আর ফিরে আসবে। বর্তমানে পৃথিবীতে হয়তো সবচেয়ে করুণ নগরীও গাজা।

সভ্য দুনিয়ায় কোনো জনপদকে এভাবে পরিকল্পিতভাবে শেষ করে দেয়ার নজির বোধ হয় আর নেই। মা হারিয়েছেন তার সন্তান। ভাই হারিয়েছে বোন। সন্তান হারিয়েছে মা। স্বামী স্ত্রীকে আর নারীরা তাদের স্বামীকে। চিকিৎসাকর্মী, সাংবাদিক- এমন কোনো শ্রেণি-পেশার মানুষ নেই যারা ইসরাইলি হামলায় প্রাণ দেয়নি। হাজার হাজার শিশু তথা পুরো গাজাবাসীর ভবিষ্যৎ এখন এক অনিশ্চিত গোলক ধাঁধায় আটকে গেছে। তারা জানে না কীভাবে আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যাবেন তারা। এত কিছুর পরও শুক্রবার যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া বসতবাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন গাজার বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা। খুঁজে ফিরছেন হারানো সময়। যদিও তা আর ফিরে আসবে না। চুক্তি অনুযায়ী ইসরাইলও গাজার কিছু অঞ্চল থেকে তাদের সৈন্য প্রত্যাহার শুরু করেছে।   

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক খবরে বলা হয়েছে, দীর্ঘ দুই বছরের যুদ্ধের পর যুদ্ধবিরতির খবর আসতেই গাজার সবচেয়ে বড় শহরাঞ্চল গাজা সিটির দিকে ধূলি ও ধ্বংসস্তূপের মধ্যদিয়ে মানুষের এক বিশাল স্রোত দেখা যায়। কিছুদিন আগেই এই এলাকাটি ইসরাইলের অন্যতম বড় হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল। গাজা সিটির শেখ রাদওয়ান জেলার ৪০ বছর বয়সী ইসমাইল জায়েদা বলেন, আলহামদুলিল্লাহ। আমার বাড়িটা এখনো দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু চারপাশটা একেবারে ধ্বংস হয়ে গেছে। আমার প্রতিবেশীদের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে গেছে, পুরো জেলা নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। আরেকজন অধিবাসী মাহদি সাকলা (৪০) বলেন, যুদ্ধবিরতির খবর শুনে আমরা খুব খুশি হয়েছি এবং গাজা সিটিতে আমাদের বাড়িগুলোতে ফেরার জন্য প্রস্তুত হয়েছি। অবশ্যই আর কোনো বাড়ি অবশিষ্ট নেই। সব ধ্বংস হয়ে গেছে। কিন্তু শুধু আমাদের বাড়ি যেখানে ছিল- সেই ধ্বংসস্তূপের ওপর ফিরতে পেরেই আমরা আনন্দিত। দুই বছর ধরে আমরা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বাস্তুচ্যুত হয়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছি।

৭২ ঘণ্টার মধ্যে জিম্মিদের মুক্তি দেয়ার কথা: ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুরে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হয়েছে। ওই দিন ভোরের দিকে ইসরাইলি সরকার হামাসের সঙ্গে এই যুদ্ধবিরতি অনুমোদন করে। ফলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গাজায় সম্পূর্ণভাবে শত্রুতা স্থগিত এবং সেনা প্রত্যাহারের আংশিক প্রক্রিয়া শুরু করার পথ তৈরি হয়। চুক্তি অনুযায়ী, হামাসকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জীবিত ২০ জন ইসরাইলি জিম্মিকে মুক্তি দিতে হবে। এরপর ইসরাইল তাদের কারাগারে দীর্ঘদিন ধরে বন্দি থাকা ২৫০ জন ফিলিস্তিনিকে এবং যুদ্ধের সময় গাজায় আটক ১৭০০ জনকে মুক্তি দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যে নিযুক্ত মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন, ইসরাইলি সামরিক বাহিনী গাজা থেকে প্রত্যাহারের প্রথম পর্ব শেষ করেছে এবং জিম্মি মুক্তির সময়কাল শুরু হয়েছে। এই চুক্তি কার্যকর হলে, খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তাবাহী শত শত ট্রাক গাজায় প্রবেশ করবে। যা লক্ষাধিক বাস্তুচ্যুত বেসামরিক মানুষকে সাহায্য করবে। 

গাজার নিরস্ত্রীকরণ চায় ইসরাইল: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দুই বছরের গাজা যুদ্ধ সমাপ্তির উদ্যোগের প্রথম পর্বে ইসরাইলি বাহিনী গাজার কিছু প্রধান শহরাঞ্চল থেকে তাদের সৈন্য প্রত্যাহার করবে। তবে গাজার অর্ধেকের বেশি এলাকা তাদের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে। তবে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক টেলিভিশন ভাষণে বলেন, গাজাকে অস্ত্রমুক্ত এবং ভবিষ্যতে হামাসকে নিরস্ত্র করা নিশ্চিত করতে তার বাহিনী গাজায় থাকবে। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, যদি সহজে তা অর্জন না করা যায়, তবে কঠিন পথেই তা অর্জন করা হবে। 

হামাসের নির্বাসিত গাজা প্রধান খালিল আল-হাইয়া দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে তিনি যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা পেয়েছেন। এই যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গাজার বিভিন্ন স্থানে এখনো উত্তেজনা রয়েছে। ইসরাইলি সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফফি ডেফ্রিন গাজার বাসিন্দাদের ইসরাইলি সামরিক নিয়ন্ত্রিত এলাকা এড়িয়ে চলার জন্য সতর্ক করেছেন। অন্যদিকে হামাস-পরিচালিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘোষণা করেছে, ইসরাইলি সেনাবাহিনী যেসব এলাকা থেকে সরে গেছে, সেখানে তারা নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করবে।

শান্তি প্রক্রিয়ায় এখনো অনেক বাধা: এই চুক্তি সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হলে এটি যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ হবে। তবে শান্তি প্রতিষ্ঠায় এখনো অনেক জটিলতা রয়ে গেছে। জিম্মি বিনিময়ে মুক্তি পেতে যাওয়া ফিলিস্তিনি বন্দিদের তালিকা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। হামাস ইসরাইলের কারাগারে থাকা কিছু শীর্ষস্থানীয় ফিলিস্তিনি বন্দির মুক্তি দাবি করছে।

অন্যদিকে ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনার বাকি বিষয়গুলো- যেমন যুদ্ধ শেষে ধ্বংসপ্রাপ্ত গাজার শাসন কাঠামো কী হবে এবং হামাসের ভবিষ্যৎ কী হবে তা এখনো অমীমাংসিত। হামাস তাদের নিরস্ত্রীকরণ করার ইসরাইলি দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। হামাস যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা পেলেও, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী ভবিষ্যতের নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আগামী রোববার মধ্যপ্রাচ্য সফর করবেন বলে জানা গেছে। এমনকি তিনি মিশর বা ইসরাইলে চুক্তির কোনো অনুষ্ঠানেও যোগ দিতে পারেন। সূত্র: মানবজমিন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়