শিরোনাম
◈ মমতার বিস্ফোরক মন্তব্যেও নীরব দিল্লি, বক্তব্য নেই বিজেপির ◈ মরুভূমির দেশ হয়েও কেন বালু আমদানি করে সৌদি আরব? ◈ মাত্র ১৭০ টাকায় অনলাইনে এনআইডি বিক্রি! ◈ বাড়তি মার্কিন শুল্ক কার্যকর হলে রপ্তানিতে বড় ধাক্কার আশঙ্কা ◈ শেখ হাসিনার পক্ষের দাবি নাকচ, জুলাই অভ্যুত্থান প্রতিবেদনের পাশে জাতিসংঘ ◈ কারামুক্ত হলেন সাবেক মেয়র আইভী ◈ দিল্লির আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত ২১; আহতদের মধ্যে ৫ বাংলাদেশি ◈ ‘আসল’ তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণ ঋতব্রতের হাতে, মমতাকে উপদেষ্টা হওয়ার প্রস্তাব ◈ অস্ট্রেলিয়ার বিরু‌দ্ধে বাংলা‌দে‌শের ওয়ান‌ডে দল ঘোষণা, মিরাজ অ‌ধিনায়ক ◈ বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ তুলে নিল সরকার

প্রকাশিত : ১৬ মে, ২০২৬, ০৯:৫৩ রাত
আপডেট : ০৩ জুন, ২০২৬, ১০:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

হামের পাশাপাশি শিশুরা অ্যাডিনোতে আক্রান্ত হচ্ছে: অধ্যাপক ডা. মোয়াজ

শাহীন খন্দকার: হাম অত্যান্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। এই ভাইরাস দ্রুত একব্যাক্তি থেকে অন্যব্যক্তির মধ্যে ছড়াচ্ছে। হামের-অ্যাডিনো ভাইরাস চিকিৎসায় স্বাস্থ্যকর্মীরাও অনেক সময় ঝুকির মধ্যে থাকেন বললেন, শিশু হাসপাতাল ও ইনষ্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোয়াজ। কারণ প্রতিদিন সংক্রমিত রোগীর সংস্পর্শে থাকেন চিকিৎসক-নার্স।

রোগীর শ্বাস-কাশি, হাচি বা শরীরের তরল (বডিফ্লুইড) থেকে ও ভাইরাস ছড়াতে পারে। রোগীর সংস্পর্শে যাওয়ার পূর্বে তাই মাস্ক, গ্লাভস বা গাউন ব্যাবহার খুবই প্রয়োজন, তা-নাহলে চিকিৎসক-নার্সসহ রোগীর সেবাযত্নে যিনি থাকেন তারও সংক্রমন ঝুঁিক বেড়ে যায়। 
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. সৈয়দ সফি আহমেদ মোয়াজ বলেন, তাই স্বাস্থ্যকর্মীসহ শিশুর মা কিংবা রোগীর সংর্স্পশে যিনি থাকেন সেবার আগে ও পরে সাবান-অ্যালকোহল-ভিত্তিক স্যানিটাইজার ব্যাবহার করতে হবে। রোগীর কাছাকাছি সংবাদ সংগ্রহের জন্য যাওয়ার পূর্বে সংবাদকর্মীদেরও মাস্ক বাধ্যতামুলক। কারণ রোগীর হাঁচি-কাশির সময়ও মুখ ঢেকে রাখতে হবে। সেই সঙ্গে ওয়ার্ড থেকে বাহির হয়েই ভালো করে হাত ধুইয়ে ফেলতে হবে।

রোগীর বেড,যন্ত্রপাতি ও স্পর্শকৃত জায়গা স্পর্শ করা যাবেনা। বাসা বাড়ীতে রোগীর বিছানা ও থাকার রোম নিয়মিত জীবাণুমুক্ত রাখতে হবে রোগীর আত্বীয়স্বজনকে। হাসপাতালে হামসহ অন্যান্য রোগী ভর্তি থাকলে হাসপাতাল কতৃপক্ষকে হাসপাতালের পরিবেশ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে অন্যান্য ব্যাক্তি যাতে সংক্রমিত এবং রোগজীবানু না ছড়ায়। হাম প্রধানত হাঁচি ও কাশি থেকে সংক্রমিত রোগীর সংস্পর্শ থেকে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া ছড়াতে পারে। এজন্য মাস্ক-গ্লাভস বা গাউন ব্যবহার না করলে চিকিৎসক-নার্সদের সংক্রমণ ঝুঁকি বেড়ে যায়।

ডা. মোয়াজ বলেন, হাম শুধু বাচ্চাঁদের হচ্ছে তা কিন্ত না বড়দের ও হচ্ছে! হাম আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। হামে আক্রান্ত ব্যাক্তির শরীরে যদি কোন সুপ্ত রোগ থাকে সেই রোগও জোরদেয়।
যেমন কারওর শরীরে যদি সুপ্ত অবস্থায় টিবি রোগ  নিউমোনিয়া থাকে সেই রোগটিও অ্যাক্টিভ হয়ে যায় এবং আক্রমন করে। সুতরাং হাম রোগটি নিজেই দেহের ভিতরে প্রবেশ করে অন্যান্য রোগের শক্তি বৃদ্ধি করে। হামকে চিকিৎসা বিদ্যায় মারাত্মক রোগ বলা হয়ে থাকে। হাম ছাড়াও বাচ্চাঁরা অ্যাডিনো সংক্রমন ভাইরাসে সংক্রমিত হচ্ছে। সাবেক এই পরিচালক বলেন, আপনার শিশুসহ বয়স্করা দীর্ঘ মেয়াদী সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হচ্ছেন। তাই এসময়টাতে করোনাকালীন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরার্মশদেন এই চিকিৎসক। কারণ অ্যাডিনো ভাইরাস করোনার মতোই একটি ‘ রেসপিরেটরি ভাইরাস’ অর্থাৎ যা শ্বাসযন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায়।
উপসর্গগুলোও অনেকটা কোভিডের মতোই এবং এটিও অত্যন্ত ছোঁয়াচে সংক্রামক। অ্যাডিনো ভাইরাস কোনও নতুন ভাইরাস নয় ঠিকই, কিন্তু চিন্তার কথা হল, অ্যাডিনো ভাইরাসে বেশী আক্রান্ত হচ্ছে বয়স্করা এবং ৪ থেকে ৬-৭ বছর বয়সী (প্রাক-স্কুল পর্যায়ের) শিশুরা যাদেরদেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এমনিতে-ই কম।

উল্লেখ্য অ্যাডিনো ভাইরাস যদি নিউমোনিয়া করে এর সুনির্দিষ্ট কোন চিকিৎসা নাই! এমন কি এই ভাইরাস র্নিমুলে কোন এন্ট্রিভাইরাস ঔষধ কাজ করেনা। সুতরাং এই ভাইরাস থেকেও অনেক শিশুদের নিউমোনিয়া হচ্ছে পাশাপাশি হামে আক্রান্ত হচ্ছে! ইদানিং দেশের হাসপাতালগুলোতে হামের রোগীর চাপ বেড়েই চলেছে। হামে আক্রান্ত হওয়ার পরেই অ্যাডিনো ভাইরাসে সংক্রমিত হচ্ছে শিশুরা। ফলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে!
 তবে অভিবাবকদের সর্তক থাকতে হবে দু’দিনের বেশী জ¦র থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। শিশুদের মধ্যে হাঁচি, কাশি, সর্দি, গলাব্যাথার পাশাপাশি কনজাঙ্কটিভাইটিসও হতে পারে। সেই সঙ্গে গা-হাত-পা ব্যাথা হলে চিকিৎসা ইত্যাদি। অধিক শ্বাসকষ্ট হলে অক্সিজেন এবং নেবুলাইজার দিতে হবে।

এআরডিএস’র ক্ষেত্রে ভেন্টিলেশন ছাড়া উপায় নেই। তিনি বলেন, শরীরের রোগ প্রতিরোধী ক্ষমতা বাড়াতে সারা বছর ধরে পুষ্টকর সুষম খাবার, যেমন তাজা শাক সবজি, মশুমি ফল ইত্যাদি খেতে হবে।

অধ্যাপক ডা. সফি আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল এন্ড ইনিস্টিটিউটের ৩০ শয্যার হামের জন্য বিশেষশায়িত ওয়ার্ড রয়েছে সেখানে কতৃপক্ষ এর বেশী ভর্তি নিতে পারছেননা।

এদিকে চিকিৎসকরা বলছেন, যেসব শিশুর শারীরিক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা আগে থেকেই কম,তারা হামের পর অ্যাডিনো ভাইরাসে বেশী আক্রান্ত হচ্ছে। এই ভাইরাসের কারণে ফুসফুসের সংক্রমন এতোটাইজটিল হচ্ছে যে, উচ্চমাত্রার ঔষধেও আশানুরুপ ফল পাওয়া যাচ্ছে না। বর্তমানে এই রোগের কোন টিকা না থাকায় আক্রান্ত শিশুকে আইসোলেশনে বা অন্যদের থেকে আলাদা রাখাকেই সম্মতি দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ। 

এছাড়াও দেশে চলছি বসন্তকাল এই সময়ে অনেক বাচ্চাঁ মামসভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে এবং জলবসন্ত রোগ হচ্ছে।খোলা খাবার থেকেই হচ্ছে ভ্যাক্টিরিয়া ও ভাইরাস জনিত রোগগুলো! যেমন ডায়রিয়া, ট্রাইফয়েড জন্ডিস এর মতো সংক্রমন রোগ! ফুটপাতসহ বাজারের খোলা খাবার অপরিস্কার রাস্তার ধুলাবালি মিশ্রিত হচ্ছে, খাদ্যে বিভিন্ন ক্যামিক্যাল ব্যাবহারের কারনেও বাঁচ্চাদের অনেক রোগ হচ্ছে। খাদ্যের ভেজাল থাকার কারণে বাড়ছে কিডনি ও ক্যান্সারের মতো রোগ।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়