মনিরুল ইসলাম : বাংলাদেশের সঙ্গীত জগতের উজ্জ্বল নক্ষত্ররা সমবেত হয়েছিলেন এক মঞ্চে, এক আয়োজনে। প্রাচীণ পুন্ড্র নগরী বগরা বর্তমানে বগুড়ার নান্দনিক পাঁচতারকা হোটেল এন্ড রিসোর্ট মমোইনে। এ যেন সঙ্গীত জগতের তারাদের এক মহামিলন মেলা। উপলক্ষ্য বিশতম টিএমএসএস চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড।
৭ এপ্রিল সন্ধ্যায় মমোইনের উন্মুক্ত চত্বরে বিশাল মঞ্চে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, তথ্যমন্ত্রী জহিরউদ্দীন স্বপন এবং টিএমএসএস-এর প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক ড. হোসনে আরা বেগম। এরপর আজীবন সম্মাননা প্রাপ্ত শিল্পী রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপার নাম ঘোষণা করেন অভিনেত্রী এবং নির্মাতা আফসানা মিমি। তার জীবনী পড়ে শোনান চ্যানেল আই বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ। তুমুল করতালি ও হর্ষধ্বনির মধ্য দিয়ে কনকচাঁপাকে উত্তরীয় পরিয়ে, সম্মাননা স্মারক এবং চেক তুলে দেন ফরিদুর রেজা সাগর, তথ্যমন্ত্রী জহিরউদ্দীন স্বপন, ড. হোসনে আরা বেগম এবং চ্যানেল আইয়ের পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ, ইমপ্রেস চ্যানেল আইয়ের চেয়ারম্যান আবদুর রশিদ মজুমদার, পরিচারক জহিরউদ্দীন মাহমুদ মামুন, পরিচালক মুকিত মজুমদার বাবু।
বিশেষ সম্মাননা প্রাপ্ত শিল্পী কাঙ্গালিনী সুফিয়ার নাম ঘোষণা করেন উপস্থাপক খায়রুল বাশার। মঞ্চে উপস্থিত অতিথিগণ তাকে উত্তরীয় পরিয়ে, তার হাতেও সম্মাননা স্মারক এবং চেক তুলে দেন। জমকালো এই আয়োজনটি ছিল উপভোগ্য।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর অনুরোধে কাঙ্গালিনী সুফিয়া একটি গান গেয়ে শোনান। বুড়ি হলাম তোর কারণে..গানটি গেয়ে শোনান। উপস্থিত সকলে তাকে হাততালি দিয়ে উৎসাহিত করেন। সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ বলেন, শিল্পী শারীরিক ভাবে বুড়ি হয়েছেন। তবে তার কন্ঠ এখন তারুণ্যে ভরপুর। আমরা তার দীর্ঘায়ূ কামনা করি।
খ্যাতিমান কণ্ঠশিল্পী রফিকুল আলম, ফেরদৌস আরা, অণিমা রায়, চ্যানেল আই সেরা কণ্ঠ ও ক্ষুদে গান রাজদের সমবেত কন্ঠেÑধন ধান্য পুষ্প ভরা, প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ এবং আমার চ্যানেল আই গানের মধ্য দিয়ে সূচনা হয় জাকজমকপূর্ণ এই আয়োজনের। বিভিন্ন ক্যাটাগারিতে পুরস্কার প্রদানের পাশাপাশি ভিন্ন ভিন্ন পারফরমেন্সে অংশগ্রহণ করেন, শিল্পী তানভীর আলম সজীব ও তার দল, মেহরীণ ও মাহতিম সাকিব, মো. খুরশীদ আলম, বাপ্পি, লিজা, সাব্বির, লুইপা, শওকত হায়াত খান, ইমরান, কোনাল, অনন্যা, বিউটি, সালমা, আতিয়া আনিসা, শফিক তুহীন, ঝিলিক, কিশোর ও অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস এবং অভিনেতা আদর আজাদ। এছাড়াও সঙ্গীতের দুই কিংবদন্তী রুনা লায়লা ও সাবিনা ইয়াসমিন সঙ্গীত পরিবেশন করে দর্শকদের মাতিয়ে তোলেন। ২০ তম টিএমএসএস চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড এর প্রকল্প পরিচালক ছিলেন রাজু আলীম। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনায় ছিলেন অপু মাহফুজ এবং নীল হুরে জাহান।
১৮টি ক্যাটাগরীতে অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তরা হলেন, আধুনিক গান শ্রেষ্ঠ শিল্পী লিজা (খুব প্রিয় আমার), ইউটিউব থেকে কমপক্ষে একলক্ষবার ভিউ এবং ১৫০০ লাইক প্রাপ্ত আধুনিক গানে এঞ্জেল নূর (যদি আবার), শ্রেষ্ঠ সুরকার আধুনিক গান বাপ্পা মজুমদার (অবশেষে), শ্রেষ্ঠ গীতিকার আধুনিক গানে তারেক আনন্দ এবং শাহনাজ কাজী (প্রেমবতী মা), শ্রেষ্ঠ ব্যান্ড মেট্রিক্যাল (গণতন্ত্রের ঘুড়ি), শ্রেষ্ঠ সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার সেতু চৌধুরী (গণতন্ত্রের ঘুড়ি), শ্রেষ্ঠ দ্বৈত সঙ্গীত শিল্পী ইমরান ও সিঁথি সাহা (প্রেম বুঝি), শ্রেষ্ঠ লোকসঙ্গীত শিল্পী বিউটি ( চার চাঁদে দিচ্ছে ঝলক), ইউটিউবে ১ লক্ষবার ভিউ এবং ১৫০০ লাইক প্রপ্ত লোকসঙ্গীত লটারির মাধ্যমে বিজয়ী শরিফ উদ্দিন দেওয়ান সাগর (মা লো মা), শ্রেষ্ঠ ছায়াছবির গান আতিয়া আনিসা (ছোট্ট সোনা), ইউটিউবে কমপক্ষে একলক্ষবার ভিউ এবং ১৫০০ লাইক প্রাপ্ত ছায়াছবির গান লটারির মাধ্যমে বিজয়ী দিলশাদ নাহার কনা (দুষ্টু কোকিল), শ্রেষ্ঠ সুরকার ছায়াছবির গান শওকত আলী ইমন (ছোট্ট সোনা), শ্রেষ্ঠ গীতিকার ছায়াছবির গান রোহিত সাধুখাঁ (বেঁচে যাওয়া ভালোবাসা), শ্রেষ্ঠ মিউজিক ভিডিও নির্মাতা তানভীর তারেক (পাখি আমার নীড়ের পাখি), শ্রেষ্ঠ নজরুল সঙ্গীত শিল্পী শহিদ কবির পলাশ (সৃজন ছন্দে), শ্রেষ্ঠ উচ্চাঙ্গসঙ্গীত শিল্পী নাশিদ কামাল (সব সখিয়া চলো), শ্রেষ্ঠ নবাগত শিল্পী সভ্যতা (অধিকার), শ্রেষ্ঠ অডিও কোম্পানী বেঙ্গল মিউজিক।
এই আয়োজনে পৃষ্ঠপোষক ছিল, টিএমএসএস, মমইন পাঁচ তারকা হোটেল এন্ড রিসোর্ট, এসআর গ্রুপ , এডভান্স ডেন্টাল ম্যাক্সিলোফেসিয়াল হাসপাতাল, পিউলি, ক্ল্যাসিক্যাল হোম টেক্স, ইমপোরিয়াম প্রোপাির্টজ লি., ধ্রুব মিউজিক স্টেশন। ঢাকা থেকে আড়াইশ শিল্পী কলাকুশলী এবং বিশিষ্ঠজনেরা এই আয়োজনে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বগুড়া জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান, সংসদ্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, টিএমএসএস এর উপদেষ্টা ও বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল বক্তব্য রাখেন।