মো. কামরুল ইসলাম, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি ; ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় একটি বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে সহপাঠীদের মধ্যে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতে ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে। এ ঘটনায় একই বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির চার শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।
আজ সোমবার (১৫ জুন) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার ইব্রাহিমপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গায়ে ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী আল জিদান সরকারের (১২) সঙ্গে কয়েকজন সহপাঠীর বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
ঘটনার পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় একই বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির চার শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নেওয়া হয় এবং পরবর্তী সময়ে নবীনগর থানায় হস্তান্তর করা হয়।
আহত শিক্ষার্থী আল জিদান সরকার উপজেলার ইব্রাহিমপুর গ্রামের প্রবাসী উজ্জ্বল সরকারের ছেলে।
আল জিদানের মা আয়েশা বেগম বলেন, “বিদ্যালয়ের ভেতরে আমার ছেলের ওপর এভাবে হামলা হবে, কখনো ভাবিনি। সে এখন গুরুতর আহত। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হচ্ছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
ইব্রাহিমপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাকির হোসেন বলেন, ঘটনার পরপরই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আহত শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে নবীনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পুলিশ অভিযোগটি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)–এর বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা জানান, অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।
এদিকে ঘটনার পর এলাকায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কয়েকজন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, শিশু-কিশোরদের মধ্যে সহিংস আচরণ বৃদ্ধির বিষয়টি উদ্বেগজনক। বিদ্যালয় ও পরিবার—উভয় পর্যায়ে নজরদারি এবং সচেতনতা বাড়ানোর ওপর তাঁরা গুরুত্বারোপ করেন।
উল্লেখ্য, আটক শিক্ষার্থীরা অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় শিশু সুরক্ষা নীতিমালা অনুসারে তাঁদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।