আজিজুল হক, বেনাপোল: ভারত থেকে সম্ভাব্য পুশইন ঠেকাতে যশোরের বেনাপোল সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। নতুন নির্দেশনার আওতায় সীমান্তে আগের তুলনায় দেড়গুণ বেশি বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে বেনাপোল সীমান্তের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বিজিবির জোরদার টহল কার্যক্রম দেখা যায়। সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে স্থানীয় বাসিন্দারাও বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা কার্যক্রমে সহযোগিতা করছেন।
এর আগে গত ৩১ মে রাতে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে শতাধিক নারী ও শিশুকে বাংলাদেশি দাবি করে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে ওই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।
যশোর-৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের বেনাপোল চেকপোস্ট আইসিপি ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার মিজান হোসেন জানান, সীমান্তের ওপারে কয়েকটি হোল্ডিং সেন্টারে লোকজনকে জড়ো করে রাখা হয়েছে বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে। সম্ভাব্য পুশইন প্রতিরোধে সীমান্তে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি সাদাপোশাকে গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। তিনি সীমান্ত নিরাপত্তায় স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ৪ হাজার ৪৮৭ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলো চিহ্নিত করে সেখানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যশোর, সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, ফেনী, মৌলভীবাজার, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, খাগড়াছড়ি, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, জয়পুরহাট, কুমিল্লা, সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নীলফামারী, পঞ্চগড়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও শেরপুরসহ ২৬ জেলার সীমান্ত এলাকায় বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে।
সীমান্ত এলাকার একাধিক সূত্রের দাবি, পুশইনের উদ্দেশ্যে সীমান্তের ওপারে বিভিন্ন স্থানে নারী, শিশু ও পুরুষদের জড়ো করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে বিএসএফ তাদের সীমান্তের কাছে নিয়ে এলেও বাংলাদেশে প্রবেশ করাতে না পেরে আবার ফিরিয়ে নিচ্ছে। তবে কিছু মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে সীমান্ত এলাকায় অনিশ্চয়তার মধ্যে অবস্থান করছেন।
জানা গেছে, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের মোট সীমান্তের মধ্যে প্রায় ২ হাজার ২১৬ কিলোমিটার সীমান্ত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সঙ্গে। বাকি অংশ ত্রিপুরা, মেঘালয়, মিজোরাম ও আসাম রাজ্যের সঙ্গে সংযুক্ত।
সীমান্ত-সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর অবৈধ অভিবাসী শনাক্ত ও ফেরত পাঠানোর বিষয়ে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর পর থেকেই সীমান্ত এলাকায় পুশইনের আশঙ্কা নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি।