এন এ মুরাদ, মুরাদনগর : কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় বিভিন্ন অনিয়ম ও অনুমোদনহীন পণ্য উৎপাদনের অভিযোগে বাদল ফুডস-কে ২ লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন ত্রুটি ও অনিয়ম আগামী সাত দিনের মধ্যে সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদিত পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণে কোনো কোয়ালিটি কন্ট্রোল ম্যানেজার নেই। এছাড়া নির্ধারিত প্যারামিটার অনুযায়ী ল্যাব টেস্ট ছাড়াই পণ্য বাজারজাত করা হচ্ছে। স্টোর রুমে পণ্যের যথাযথ পরিচিতিকরণ (প্রোডাক্ট আইডেন্টিফিকেশন) ব্যবস্থা নেই এবং প্রয়োজনীয় তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে এসি সুবিধাও রাখা হয়নি। এছাড়াও উৎপাদন প্রক্রিয়ায় একাধিক নিয়মবহির্ভূত কার্যক্রমের প্রমাণ পাওয়া যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদন রয়েছে এডোবি জেল ও আর্টিফিশিয়াল ফ্লেভার ড্রিংকস উৎপাদনের জন্য। তবে অনুমোদন ছাড়াই তারা অরেঞ্জ ও স্ট্রবেরি ফ্লেভারের পানীয় উৎপাদন ও বাজারজাত করে আসছিল, যা বিএসটিআইয়ের বিধিমালার পরিপন্থী।
এদিকে টেস্টিং সল্ট উৎপাদন ও বাজারজাত করনে নেই তাঁদের অনুমোদন। এসব মানহীন পণ্য দেদারসে তৈরি করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করছেন। শিশুরা নিন্মমানের ক্যামিকেলযুক্ত জেল -জেলি ও লিচু খেয়ে প্রায় অসুস্থ হচ্ছেন বলে জানাগেছে।
এসব অনিয়মের কারণে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে প্রতিষ্ঠানটিকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয় এবং সাত দিনের মধ্যে সকল অনিয়ম দূর করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, প্রতিষ্ঠানটিতে নিম্নমানের রাসায়নিক ব্যবহারের করে উৎপাদিত জেলি ও বিভিন্ন খাদ্যপণ্য দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয়। এসব খাদ্য খেয়েই শিশুরা অসুস্থ হয়। অনিয়মের বিষয়ে জানতে বাদল ফুডস প্রতিষ্ঠানের মালিক বাদল মিয়াকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি বলে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
কুমিল্লা বিএসটিআইয়ের উপ- পরিচালক পরিতোষ চন্দ্র তালুকদার জানান, “প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদিত পণ্যের বাইরে অতিরিক্ত কিছু পণ্য উৎপাদনের বিষয়টি পাওয়া গেছে। এছাড়া মান নিয়ন্ত্রণ ও ল্যাব পরীক্ষাসহ বেশ কিছু ক্ষেত্রে বিধিমালা অনুসরণ করা হয়নি। এসব বিষয় দ্রুত সংশোধনের জন্য প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মুরাদনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, “অভিযানে বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেছে। এজন্য প্রতিষ্ঠানটিকে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব ধরনের ত্রুটি ও অনিয়ম সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”