ফারুক আহাম্মদ, ব্রাহ্মণপাড়া (কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃ বেগুনি রঙের জারুল ফুলের নয়নাভিরাম সৌন্দর্যে বিমোহিত হচ্ছেন নানা বয়েসী মানুষ। গ্রীষ্মের তপ্ত প্রকৃতিও এসব ফুলের সৌন্দর্যে রঙিন হয়ে উঠেছে। কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার প্রকৃতিতে গ্রীষ্মের এই তাপদাহের মধ্যেই বেগুনি রঙের জারুল ফুলে পসরা সাজিয়েছে৷ বছর জুরে অবহেলিত জারুল গাছ তার আপন গৌরবে নৈসর্গিক সৌন্দর্যে রূপ নিয়েছে।
প্রকৃতির কবি জীবনানন্দ দাশও জারুলের প্রেমে পড়ে কবিতায় জারুলকে তুলে এনেছিলেন- এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে সবচেয়ে সুন্দর করুণ সেখানে সবুজ ডাঙা ভ’রে আছে মধুকূপী ঘাসে অবিরল; সেখানে গাছের নাম: কাঁঠাল, অশ্বত্থ, বট, জারুল, হিজল; সেখানে ভোরের মেঘে নাটার রঙের মতো জাগিছে অরুণ। জানা যায় জারুলের বাকল মসৃণ। এর রং ধূসর। এর ফুল গাঢ় বেগুনি। জারুল কাঠ শক্ত ও মসৃণ। এর কাঠ লালচে রঙের হয়। জারুল কাঠ দিয়ে পানির নিচেও কাজ করা যায়। এ গাছের উচ্চতা ৮০ থেকে ১০০ ফুট পর্যন্ত হতে পারে। জারুলের বৈজ্ঞানিক নাম লেজারস্ট্রমিয়া স্পেসিওজা। বৈজ্ঞানিক এ নামের প্রথমাংশ অন্যতম তরু অনুরাগী সুইডেনের লেজারস্ট্রমের নাম থেকে। আর স্পেসিওজা একটি ল্যাটিন শব্দ, যার অর্থ সুন্দর। এই গাছটির আদি নিবাস চীন, শ্রীলঙ্কা, মালয় ও বাংলা-ভারতের জলাভূমি অঞ্চল। ইংরেজিতে এই গাছকে ‘প্রাইড অব ইন্ডিয়া’ বলা হয়। তবে এটিকে বাংলার চেরিও বলা হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বৈশাখের তপ্ত আবহাওয়াতেও কুমিল্লা-ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ছোট নাগাইশ সড়কের পাশে আপন গৌরবে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে৷ জারুলের নয়নাভিরাম দৃশ্য নজর কাড়ছে পথচারীসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের৷ এসব ফুল মোবাইল ফোনে বন্দি করছেন নানা শ্রেণিপেশার মানুষ৷ স্থানীয় বাসিন্দা স্কুল মিক্ষক গিয়াস উদ্দিন বলেন, জারুল একটি অতিপরিচিত নাম। প্রতি বছর এসময়টায় এই গাছে প্রকৃতিকে মুগ্ধতা ছড়িয়ে ফুল ফোটে। জারুল ফুল দেখতে অনেক সুন্দর৷ প্রকৃতিতে জারুল ফুলের সৌন্দর্য ফুলপ্রেমীদের পাগল করে। এ গাছের ফুল প্রতি বৈশাখ এলেই ফোটে। এ গাছের কাঠ শক্ত ও টেকসই। এ গাছের কাঠ এক সময় গৃহস্থালি কাজে ব্যবহৃত হতো। এর কাঠ শক্ত হওয়ার কারণে লাঙল, নৌকা, খুঁটি ও ঘরের নানা ধরনের আসবাবপত্র তৈরিতেও ব্যবহৃত হতো। তবে এ গাছটি আগের মতো আর দেখা যায় না।
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইউনানি চিকিৎসক সোহেল রানা জারুল এর রয়েছে ভেষজ গুণ। এর বীজ, ছাল ও পাতা ডায়াবেটিস রোগের ওষুধ হিসেবে আয়ুর্বেদ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এ ছাড়াও জ্বর, কাশি, অনিদ্রা ও শারীরিক বিষন্নতায় জারুলের ভূমিকা অপরিহার্য।