শিরোনাম
◈ ইউরোপের মাটিতে ইতিহাস, সান মারিনোর বিপক্ষে বাংলাদেশের জয় ◈ স্বর্ণের দামে বড় পতন বিশ্ববাজারে ◈ ডিপফেক-মিথ্যা তথ্য রোধে এআই নীতিমালা আনছে সরকার ◈ গুলশানে দুটি স্পা সেন্টারে পুলিশের অভিযান, ২৮ জন আটক ◈ হাদি হত্যা মামলায় জাবেরকে বাদী করার কারণ জানতে চান বোন মাসুমা ◈ বাজেট অধিবেশন ঘিরে সংসদ ভবন এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র বহন ও মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ ◈ এশিয়ান গেমস ক্রিকে‌টে বাংলা‌দেশসহ ১০ দল চূড়ান্ত, অ‌ক্টোব‌রে খেলা হ‌বে জাপা‌নে  ◈ গ‌্যাংস্টার দাউদ ইব্রাহিমের হুম‌কি‌তে আ‌মি প্রস্রাব ক‌রে দেই, আইপিএলের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা শোনালেন ললিত মো‌দি ◈ আগস্টে ইউপি নির্বাচনের তফসিল, আচরণবিধিতে আসছে বড় পরিবর্তন ◈ হামে ও উপসর্গে মৃত্যু বেড়ে ৬১০, ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ গেল আরও ৫ শিশুর

প্রকাশিত : ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ০৮:৩৬ রাত
আপডেট : ০৩ জুন, ২০২৬, ১২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সুনামগঞ্জে ফসল ঘরে তোলার লড়াইয়ে কৃষক

নুর উদ্দিন, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কবলে পড়ে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ নিচু জমির বোরো ধান এখন পানির নিচে। একদিকে ফসল হারানোর শঙ্কা, অন্যদিকে তীব্র শ্রমিক সংকট ও জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য এই ত্রিমুখী সংকটে দিশেহারা হাওরের কৃষকরা। ফসল ঘরে তোলার এই চরম মুহূর্তে যেন প্রকৃতির সাথে টিকে থাকার লড়াইয়ে হেরে যাচ্ছেন তারা।

দুর্গম উপজেলা শাল্লাসহ জেলার বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ নিচু জমির ধান হাঁটু থেকে কোমর সমান পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। যন্ত্রের পরিবর্তে কৃষকরা বাধ্য হয়ে সনাতন পদ্ধতিতে হাতে ধান কাটছেন, যা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ। শাল্লার ছায়ার হাওরের কৃষক নারায়ন দাস বলেন, আধুনিক যন্ত্র থাকার পরও আমরা তা ব্যবহার করতে পারছি না। জমি পানির নিচে থাকায় মেশিন চালানো যাচ্ছে না। হাতে কাটতে গেলে যে সময় ও খরচ লাগছে, তাতে ফসল ঘরে তোলা নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. ওমর ফারুক বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে হাওরের কিছু নিচু এলাকায় ধান কাটার কাজে সাময়িক বিঘ্ন ঘটছে, এটি সত্য। আমরা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। কৃষকদের ভোগান্তি কমাতে আমরা কৃষি যন্ত্রপাতির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি এবং প্রয়োজনে যন্ত্রের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, জ্বালানি তেলের সংকট নিরসনে আমরা স্থানীয় প্রশাসন ও জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে সমন্বয় করছি যাতে কৃষকরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তেল পান। আমাদের মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা কৃষকদের কারিগরি সহায়তা এবং পরামর্শ দিয়ে ধান দ্রুত ঘরে তোলার জন্য উৎসাহিত করছেন।

শুধু প্রাকৃতিক প্রতিকূলতাই নয়, কৃষকদের অভিযোগের বড় একটি জায়গা দখল করে আছে জ্বালানি তেলের দুষ্প্রাপ্যতা। কৃষি যন্ত্রপাতির জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেল পাওয়া যাচ্ছে না, পেলেও গুনতে হচ্ছে বাড়তি দাম। এই সংকট কাটাতে তাহেরপুরের কৃষক আব্দুল্লাহ বলেন, আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের জন্য জেলার সব নদী থেকে বালু ও পাথর উত্তোলন কার্যক্রম এবং তিনটি শুল্ক স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখলে ওই খাতের শ্রমিকদের ধান কাটার কাজে নিয়োজিত করা সম্ভব হতো।"

সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর জেলায় ২ লক্ষ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে (লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লক্ষ ২৩ হাজার ৫০৫ হেক্টর)। তবে আজ পর্যন্ত ধান কাটা হয়েছে মাত্র ৭ হাজার ৫২১ হেক্টর জমির। অবশিষ্ট বিশাল পরিমাণ জমির ধান সময়মতো কাটা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে গভীর উদ্বেগ বিরাজ করছে।

সংকটময় এই মুহূর্তে হাওরের অনেক স্থানেই দেখা গেছে অনন্য চিত্র। ধান মাড়াই ও শুকানোর কাজে বাড়ির পুরুষদের সাথে হাত লাগাচ্ছে শিশু ও মহিলারাও। জীবন বাঁচানোর তাগিদে পুরো পরিবার এখন একযোগে কাজ করে যাচ্ছে।

​কৃষকদের আশা, প্রশাসন যদি জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করে এবং শ্রমিক সংকটের সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়, তবেই হয়তো এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখেও তাদের কষ্টার্জিত ফসল রক্ষা করা সম্ভব হবে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়