জামাল হোসেন খোকন: টানা তাপপ্রবাহে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গার জনজীবন। প্রখর রোদ আর ভ্যাপসা গরমে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষের কষ্ট বেড়েছে কয়েকগুণ।
জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত তিন দিনের ব্যবধানে চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা বেড়েছে প্রায় ৭ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
৩১ মার্চ যেখানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সেখানে বৃহস্পতিবার তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস—যা ছিল সেদিন দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকাল থেকেই একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে। দুপুর ১২টায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসয়।বিকেল ৩টায় তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা কমে গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ শতাংশে, ফলে গরমের তীব্রতা আরও বেড়ে গেছে।
বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে গোটা জনপদ। তীব্র রোদে বাইরে বের হওয়া যেন দুঃসহ হয়ে পড়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। তবে জীবিকার তাগিদে শ্রমজীবী মানুষকে ঝলসানো রোদ উপেক্ষা করেই কাজ করতে হচ্ছে।
জেলা আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক জাহিদুল হক জানান, এপ্রিলের শুরু থেকেই চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে শুরু করে, যা এখন মাঝারি তাপপ্রবাহে রূপ নিয়েছে। চলতি মৌসুমে প্রথমবারের মতো তাপমাত্রা ৩৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে।
তিনি আরও জানান, এই তাপপ্রবাহ আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে, ফলে জনভোগান্তি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ অবস্থায় প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বের হওয়া, বেশি করে পানি পান করা এবং রোদে কাজ করা ব্যক্তিদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন