শিরোনাম
◈ ট্রাম্পের জন্য ‘বিশ্বাসের পরীক্ষা’: জব্দকৃত ২৪ বিলিয়ন ডলার ফেরত চায় ইরান ◈ বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক জোরদারে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাকান ফিদানের বৈঠক ◈ বিদ্যুৎ খাতে হযবরল, অলস সক্ষমতার বিপুল ভার মানুষের ওপর  ◈ মূল্যবৃদ্ধির চাপ ধনীদের ওপর, ৬৫ শতাংশ সাধারণ মানুষ সুরক্ষিত: তথ্যমন্ত্রী ◈ জুয়া নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দাদের বাড়তি ক্ষমতা, সন্দেহ হলেই তল্লাশি ও গ্রেপ্তার করতে পারবে, অপব্যবহারের আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের ◈ অনলাইন ঝড় থেকে রাজপথে: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র বিক্ষোভ, থাকছেন সোনম ওয়াংচুক-ও ◈ ১১ দলীয় জোটে আবার ভাঙনের গুঞ্জন, বেরিয়ে গেছে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ১০ জুন আসতে পারে ঘোষণা ◈ পোষা বিড়াল কি বাড়ায় মানসিক রোগের ঝুঁকি? নতুন গবেষণায় আলোচনার ঝড়! ◈ দেশের বাজারে টানা দুই দফায় স্বর্ণের দাম কমেছে ভরিপ্রতি ৮ হাজার ৭৪৮ টাকা ◈ প্রথম সফরে মালয়েশিয়া কেন বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান? : ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন

প্রকাশিত : ৩১ মার্চ, ২০২৬, ০৬:২৪ বিকাল
আপডেট : ০৪ জুন, ২০২৬, ০৮:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি: সুনামগঞ্জে ৯ দালালের বিরুদ্ধে দুই মামলা

ভূমধ্যসাগরে নিহতরা

ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে নিহতের ঘটনায় সুনামগঞ্জে ৯ দালালের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে দিরাই থানায় চার ও জগন্নাথপুর থানায় পাঁচ জনের বিরুদ্ধে মামলা দুটি করা হয়।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে এ প্রতিবেদককে বলেন, আসামিদের বেশিরভাগই ইতালি ও লিবিয়াসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছে। যে কারণে তাদেরকে ট্রেস করা যাচ্ছে না। এরপরও তাদের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি এ বিষয়ে বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা হচ্ছে।

এর মধ্যে জগন্নাথপুর থানায় উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের পাইলগাঁও গ্রামের নিহত আমিনুর রহমানের বাবা হাবিবুর রহমান ও দিরাইয়ে বাসুরি গ্রামের সোহানুর রহমান নিহতের ঘটনায় তার বাবা ছালিকুর রহমান পৃথক মামলা দুটি করেন।

জগন্নাথপুর থানায় করা মামলার আসামিরা হলেন- ছাতক থানার গয়াসপুর গ্রামের মদরিছ মিয়ার ছেলে দুলাল মিয়া, জগন্নাথপুর উপজেলার ইছগাঁও গ্রামের মৃত মন্তাজ মিয়ার ছেলে আজিজুল ইসলাম, অজ্ঞাত বিলাল মিয়া, জসিম মিয়া ও এনাম মিয়া। এর মধ্যে বিলাল মিয়াকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। তবে দিরাইয়ের মামলার আসামিদের নাম জানা যায়নি।

নিহতদের স্বজনরা জানান, মানবপাচারকারী একাধিক চক্র ১২-১৫ লাখ টাকার চুক্তিতে ইতালিতে নিয়ে যাবে বলে তাদেরকে আফ্রিকার লিবিয়ায় নিয়ে যায়। লিবিয়ায় দালালরা ‘গেম ঘরে’ দীর্ঘদিন আটকে রেখে ২১ মার্চ রাবারের নৌকায় করে ৪৮ জন অভিবাসন প্রত্যাশী নিয়ে সাগর পাড়ি দেওয়ার ঝুঁকি নেয়। দীর্ঘদিন সাগরে অনাহার ও রোগাক্রান্ত হয়ে ২২ জনের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলার রয়েছেন ১২ জন। তাদের মধ্যে দিরাই উপজেলার ৬, জগন্নাথপুর উপজেলার ৫ ও দোয়ারাবাজার উপজেলার একজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।

জগন্নাথপুর থানায় করা মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, উপজেলার দক্ষিণ  পাইলগাঁও গ্রামের আমিনুর রহমান মেঘনা গ্রুপের এসআর হিসেবে জগন্নাথপুরে কাজ করতেন। কাজের সুবাদে পরিচয় হয় মানবপাচারকারী দালাল চক্রের হোতা বিলাল মিয়ার ছোট ভাই দুলন মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেছিলেন, আমার বড় ভাই পর্তুগাল থাকে। তিনি গ্রিসে লোক পাঠান। ‍তুমি যদি গ্রিসে যেতে চাও তাহলে ১১ লাখ টাকা দিতে হবে। বিষয়টি আমিনুর তার বাবাকে জানালে তিনি তাতে রাজি হননি। পরে আমিনুর তার জমানো টাকা দিয়ে গত জানুয়ারি মাসে লিবিয়া চলে যান। সেখানে যাওয়ার পর গ্রিসের জন্য দালালকে চুক্তি অনুযায়ী ১১ টাকা টাকা পরিশোধ করা হয়। গত ২১ মার্চ অবৈধপথে নৌকায় করে সাগরপথে গ্রিসের উদ্দেশে জগন্নাথপুরের ৫ জন, মোট ৩৮ বাংলাদেশিসহ ৪৫ জন যাত্রা করেন। ৫-৬ দিন সাগরে অবস্থান করাকালে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে ভূমধ্যসাগরে জগন্নাথপুরের পাঁচ জনসহ ১৮ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়। তাদের লাশ সাগরের  পানিতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে।

মামলার বাদী হাবিবুর রহমান বলেন, গত ২৮ মার্চ জানতে পারি, ভূমধ্যসাগরে খাবার ও পানির অভাবে আমার ছেলেসহ ১৮ বাংলাদেশি মারা গেছে। দালাল চক্রের সদস্যরা তাদের লাশ সাগরের পানিতে ভাসিয়ে দেয়। মানবপাচারকালে দালালদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মামলা করেছি। মামলায় জগন্নাথপুরের নিহত চার তরুণের পরিবারের লোকজন সাক্ষী হয়েছেন। সাক্ষীরা তাদের ছেলেদেরকে গ্রিসে পাঠানোর জন্য মানবপাচারকারীরা একেক জনের কাছ থেকে ১২ থেকে ১৩ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে মামলার বর্ণনায় রয়েছে।

জগন্নাথপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, সাগরপথে জগন্নাথপুরের পাঁচ যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ কাজ শুরু করেছে।

দিরাইয়ের মামলার বাদী ছালিকুর রহমান বলেন, একমাত্র ছেলেকে বৈধ পথে বিদেশ সার্বিয়া পাঠাতে পাসপোর্টসহ এক লাখ টাকা আমি একটি ট্রাভেলসে জমা রাখি। কিন্তু জগদল গ্রামের মাওলানা ওয়াহিদ মিয়ার ছেলে ইতালি প্রবাসী দালাল সালেহ আহমদের প্রলোভনে পড়ে আমার ছেলে ইউরোপ যাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। 
তিনি বলেন, ২২ মার্চ আমার ছেলের সাথে শেষ কথা হয়, সে বলছিল আব্বা আমার কষ্ট হলেও তুমি কোন চিন্তা করো না। এর কিছুদিন না যেতেই আমার ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে দালাল সালেহ আহমদকে ফোন দিলে ফোন ধরেনি। উৎস: বাংলাট্রিবিউন।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়