শিরোনাম
◈ এবার লেবাননে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালানোর বার্তা ট্রাম্পের ◈ বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফের বেড়া নির্মাণে মেঘালয়ের আপত্তি, গ্রামবাসীর প্রতিবাদ ◈ পুরোপুরি সুস্থ নন ইলিয়াস কাঞ্চন: কথা বলছেন, তবে জড়তা কাটেনি, স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন তথ্য ◈ এমপিদের সরাসরি তহবিল বরাদ্দ বাতিল, প্রকল্প অনুমোদন দেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ◈ পুলিশের দ্রুততম তদন্ত, আদালতের ছুটি বাতিল এই দৃষ্টান্তমূলক রায় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে ◈ ঢাকাকে যানজটমুক্ত করতে ‘জিরো সিগন্যাল’ মহাপরিকল্পনা, ব্যয় আড়াই হাজার কোটি টাকা ◈ পরিচালক‌দের ‌ভো‌টে তা‌মিম ইকবাল বিসিবির সভাপতি  ◈ সংসদে প্রতিশ্রুতি দিলে স্ট্যাডি করেই দেবেন: জ্বালানিমন্ত্রীকে স্পিকার (ভিডিও) ◈ ব্রাজিলের জার্সির রঙ সাদা থেকে যেভাবে হলুদ হয়ে উঠলো  ◈ ৬ শিশুর প্রত্যেকের পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা করে দেবে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল

প্রকাশিত : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৫:৩১ বিকাল
আপডেট : ৩১ মে, ২০২৬, ০৪:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ফরিদপুরে ইজিবাইক চোরচক্রের জাল ভেঙে দিল পুলিশ: ১৮টি ইজিবাইক উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১২

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরে সক্রিয় একটি সংঘবদ্ধ ইজিবাইক চোরচক্রের মূল রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। আন্তঃজেলা এই চক্রের ১২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের কাছ থেকে ১৮টি ইজিবাইকসহ বিপুল পরিমাণ খণ্ডিত যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। চক্রটি চুরি করা ইজিবাইক কেটে অংশবিশেষ আলাদা করে আবার নতুনভাবে জোড়া লাগিয়ে বিক্রি করত—এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে পুলিশের তদন্তে।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আড়াইটার দিকে ফরিদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার (এসপি) মো. নজরুল ইসলাম। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. রায়হান গফুর, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেনসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ জানায়, ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় দায়ের করা একটি ইজিবাইক চুরির মামলার সূত্র ধরে এই চক্রের সন্ধান পাওয়া যায়। মামলার বাদী জাহিদুল ইসলাম (৪০), পেশায় একজন ইজিবাইক চালক। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টার দিকে তিনি শহরের কোর্টপাড় জামে মসজিদের সামনে তার ইজিবাইক তালাবদ্ধ করে ব্যক্তিগত কাজে আদালতে যান। প্রায় ৪৫ মিনিট পর ফিরে এসে দেখেন তার ইজিবাইকটি আর সেখানে নেই। পরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও না পেয়ে ২০ ফেব্রুয়ারি কোতয়ালী থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এ ঘটনায় পেনাল কোডের ৩৭৯ ধারায় মামলা রুজু হয় এবং তদন্তভার দেওয়া হয় এসআই মো. নুর হোসেনের ওপর।

তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২০ ফেব্রুয়ারি বিকেলে আলাল ফকির (২৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন এবং চক্রের অন্যান্য সদস্যদের নাম প্রকাশ করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে একে একে চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—মোজাম্মেল মণ্ডল (৪৬), মো. ইলিয়াস হোসেন (৫০), মো. আবুল হোসেন মোল্লা (৬০), তানভীর শেখ (৩০), আওয়াল বিশ্বাস (৬৫), বদিউজ্জামান মোল্লা (২৭), মৃদুল মীর মালোত (২৯), মিলন খান (৪২), মো. আশরাফ (২৮), শহিদ সিকদার (৩৮), মো. জুয়েল রানা (৩৪) এবং মো. রনি মিয়া (৩১)। তারা ফরিদপুর, শরীয়তপুর, মাগুরা ও জামালপুর জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে চুরি ও চোরাই ইজিবাইক কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্যমতে, এই চক্রটি অত্যন্ত কৌশলী উপায়ে অপরাধ পরিচালনা করত। প্রথমে তারা বিভিন্ন এলাকা থেকে ইজিবাইক চুরি করত। এরপর গোপন গ্যারেজে নিয়ে ইজিবাইক ভেঙে চ্যাসিস, বডি, গ্লাস, কেবিনসহ বিভিন্ন অংশ আলাদা করা হতো। পরে এসব খণ্ডিত অংশ একটির সঙ্গে আরেকটি জোড়া লাগিয়ে নতুন ইজিবাইক তৈরি করা হতো। চোরাই ইজিবাইক শনাক্ত করা কঠিন করতে ইঞ্জিন ও চ্যাসিস নম্বর পরিবর্তন করে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করা হতো। এরপর কম দামে সাধারণ মানুষের কাছে এসব ইজিবাইক বিক্রি করা হতো।

তদন্তে আরও জানা যায়, চক্রটি ভুয়া গ্যারেজের আড়ালে এই কার্যক্রম পরিচালনা করত। এসব গ্যারেজে চোরাই ইজিবাইক মেরামতের নামে কেটে টুকরো করা, নম্বর পরিবর্তন এবং নতুনভাবে জোড়া লাগানোর কাজ চলত। তারা ভুয়া সিলমোহরযুক্ত প্যাড ব্যবহার করে ইচ্ছামতো ইঞ্জিন ও চ্যাসিস নম্বর বসিয়ে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করত। এতে সাধারণ মানুষ প্রতারণার শিকার হচ্ছিল।

পুলিশের অভিযানে মোট ১৮টি ইজিবাইক উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২টি সচল এবং ৬টি অচল। এছাড়া উদ্ধার করা হয়েছে ৪টি চ্যাসিস, ১টি বডির কাটা অংশ, ৭টি গ্লাস ফ্রেম, ৩টি কেবিন, ২টি মাঝের বেড়া, ২টি পিছনের বেড়া, ২টি বাম্পার, ১টি সকেট জাম্পার, ১টি কাটার মেশিন এবং ৫ ট্রাক পরিমাণ খণ্ডিত যন্ত্রাংশ। বুধবার সকালে আরও একটি ইজিবাইক জব্দ করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ফরিদপুরের বোয়ালমারী, মধুখালী, শরীয়তপুরের নড়িয়া এবং মাগুরার মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব ইজিবাইক উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ইজিবাইকগুলোর মধ্যে একটি ২০২৫ সালের একটি চুরি মামলার বলে শনাক্ত করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ আন্তঃজেলা চোরচক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে ইজিবাইক চুরি করে তা খণ্ডিত অংশে ভেঙে ফেলে এবং পুনরায় জোড়া লাগিয়ে নতুন ইজিবাইক হিসেবে বিক্রি করত। এতে সাধারণ মানুষ প্রতারিত হচ্ছিল। তিনি আরও জানান, এই চক্রের সঙ্গে জড়িত আরও সদস্য থাকতে পারে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলেছে, অস্বাভাবিক কম দামে ইজিবাইক কেনা থেকে বিরত থাকতে এবং ক্রয়ের আগে বৈধ কাগজপত্র যাচাই করতে। কোনো সন্দেহজনক তথ্য পেলে নিকটস্থ থানায় জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।

পুলিশের এই সফল অভিযানে ফরিদপুরসহ আশপাশের জেলায় ইজিবাইক চুরির প্রবণতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়