দেশে স্ন্নাতকোত্তর শেষ করে উচ্চ শিক্ষার জন্য গিয়েছিলেন চীন। সেখানে লেখাপড়া শেষ করে শুরু করেন চাকরি। বেশিদিন মন টেকেনি। ফলে চাকরি ছেড়ে দিয়ে শুরু করেন ব্যবসা। আর এই ব্যবসার সুবাদে পরিচয় হয় চীনের সাংহাই প্রদেশের ক্রিস হোয়ের সঙ্গে। পরিচয় থেকে প্রেম, প্রেম থেকে বিয়ে। চীনে বিয়ে করে এসেছেন। এখন দেশে নিজ ধর্মের রীতিতে বাঁধবেন সাতপাঁকে। আর এজন্য চীনা তরুণীকে নিয়ে হেলিকপ্টারে করে এসেছেন নিজ বাড়ি রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের টিকরপাড়া গ্রামের। এই গ্রামের যুবক তরুণ ব্যবসায়ী সুকান্ত কুমার সেন। তিনি গ্রামের প্রয়াত স্বপন কুমার সেন ও শিল্পী রানী সেনের ছেলে। বিদেশি নববধূকে একনজর দেখতে বরের বাড়িতে ভিড় করেন আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ।
সুকান্ত বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতকোত্তর শেষে প্রায় আট বছর আগে চীনে চলে যান। এরপর সাংহাই মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি থেকে আরেকটি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন। কিছুদিন চাকরি শেষে আমদানি-রপ্তানির ব্যবসা শুরু করেন। সুকান্ত সেন সাংবাদিকদের জানান, তিনি ও ক্রিস হোয়ে ২০২৫ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি চীনে বিয়ে করেছেন। ব্যবসার সূত্রে পরিচয়ের পর থেকে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর পরিবারের কাছে প্রস্তাব করা হয়। দুই পরিবারই তাদের সম্পর্কে সম্মতি দেয়। ক্রিস হোয়ে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতকোত্তর করেছেন। এরপর ক্রিস হোয়ের আগ্রহ ও সম্মতিতে হিন্দুধর্মীয় রীতিতে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে এই বিয়ের আয়োজন। শুক্রবার ক্রিস হোয়ের বাবা ও চাচা আসবেন। চীনা বধূ ক্রিস হোয়ে বলেন, আমার দ্বিতীয়বার বাংলাদেশে আসা। সবাই বন্ধুভাবাপন্ন। সবাই উষ্ণ অভ্যর্থনা দিয়েছে। হেলিকপ্টারে আসাটা ব্যতিক্রমী। আমার জন্য খুবই উপভোগ্য হয়েছে।
চায়নিজ নববধূ গ্রামে আসার খবর ছড়িয়ে পড়লে টিকরপাড়া গ্রামে সুকান্তের বাড়িতে ভিড় করেন আশপাশের এলাকার মানুষ। অনেকেই তার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। স্থানীয়দের মতে, এলাকায় এমন ঘটনা বিরল হওয়ায় কৌতূহল ও আনন্দে মানুষজন ভিড় করছেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, চীনে বিবাহ নিবন্ধন সম্পন্ন হলেও বাংলাদেশে হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে আনুষ্ঠানিক বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে সেন বাড়িতে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। ভিনদেশি নববধূকে ঘিরে পরিবার ও এলাকা জুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।