শিরোনাম
◈ বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফের বেড়া নির্মাণে মেঘালয়ের আপত্তি, গ্রামবাসীর প্রতিবাদ ◈ পুরোপুরি সুস্থ নন ইলিয়াস কাঞ্চন: কথা বলছেন, তবে জড়তা কাটেনি, স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন তথ্য ◈ এমপিদের সরাসরি তহবিল বরাদ্দ বাতিল, প্রকল্প অনুমোদন দেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ◈ পুলিশের দ্রুততম তদন্ত, আদালতের ছুটি বাতিল এই দৃষ্টান্তমূলক রায় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে ◈ ঢাকাকে যানজটমুক্ত করতে ‘জিরো সিগন্যাল’ মহাপরিকল্পনা, ব্যয় আড়াই হাজার কোটি টাকা ◈ পরিচালক‌দের ‌ভো‌টে তা‌মিম ইকবাল বিসিবির সভাপতি  ◈ সংসদে প্রতিশ্রুতি দিলে স্ট্যাডি করেই দেবেন: জ্বালানিমন্ত্রীকে স্পিকার (ভিডিও) ◈ ব্রাজিলের জার্সির রঙ সাদা থেকে যেভাবে হলুদ হয়ে উঠলো  ◈ ৬ শিশুর প্রত্যেকের পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা করে দেবে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল ◈ জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশন শুরু, প্রশ্নোত্তর পর্ব চলছে

প্রকাশিত : ০৭ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৬:৪০ বিকাল
আপডেট : ১৪ মে, ২০২৬, ০২:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ওয়ার্ডবয়ই ডাক্তার: ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চরম অব্যবস্থা

সরকারি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মানে প্রান্তের সাধারণ মানুষের চিকিৎসার শেষ আশ্রয়স্থল। তবে সেখানে যদি চিকিৎসকের পরিবর্তে ওয়ার্ডবয় রোগী দেখেন, ব্যবস্থাপত্র লেখেন, তাহলে সেই আশ্রয়স্থলকে নিরাপদ ভাবা কষ্টকর। এমন এক উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক সংকট, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকা ও অভ্যন্তরীণ অনিয়মে সেখানে ওয়ার্ডবয়রা হয়ে উঠেছেন অনানুষ্ঠানিক চিকিৎসক।

৫০ শয্যার এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে দুজন মেডিক্যাল অফিসার থাকলেও তারা নিয়মিত হাসপাতালে উপস্থিত থাকেন না। বিশেষ করে জরুরি বিভাগ ও বহির্বিভাগের দায়িত্বে থাকা দুজন চিকিৎসক সরকারি অফিস সময়ে বাইরের প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক ও ক্লিনিকের চেম্বারে থাকেন। ফলে রোগীরা চিকিৎসক না পেয়ে বাধ্য হন ওয়ার্ডবয়দের শরণাপন্ন হতে। ওয়ার্ডবয়রাও রোগীর অবস্থা দেখে স্যালাইন থেকে শুরু করে ইনজেকশন দেওয়া, ব্যবস্থাপত্র লেখাসহ নানা ধরনের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন।

গতকাল শনিবার দুপুরে সরেজমিনে কোটচাঁদপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেখা যায়, সেখানে বিভিন্ন বয়সী রোগীর ভিড়। জরুরি বিভাগে চিকিৎসক না থাকায় সেখানে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন ওয়ার্ডবয়রা। গুরুতর অসুস্থ অনেক রোগী চিকিৎসক না পেয়ে বাধ্য হয়ে ওয়ার্ডবয়দের কাছ থেকে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন। জরুরি বিভাগে হৃদরোগে আক্রান্ত এক রোগীকে ব্যবস্থাপত্র লিখে দিচ্ছিলেন ওয়ার্ডবয় রাজু হোসেন।

কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘রোগী তো আর ফিরিয়ে দেওয়া যায় না! আমাদের হাসপাতালে নিয়মিত ডাক্তার থাকেন না। তাই বাধ্য হয়ে আমরা রোগীদের জরুরি চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকি। তবে এসব আমাদের কাজ না। তবু রোগীর স্বার্থে করতে হচ্ছে।’

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য মতে, কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ শূন্য রয়েছে।

এ ছাড়া দুজন মেডিক্যাল অফিসার, ১৬ জন নার্স, ছয়জন উপসহকারী মেডিক্যাল কর্মকর্তা ও ছয়জন ওয়ার্ডবয় রয়েছেন।

এদিকে এভাবে অবহেলায় চিকিৎসা নেওয়ার কারণে অনেক রোগীর অবস্থার আরো অবনতি হচ্ছে। গত মাসে এক প্রসূতি নারীর মাথা ঘোরা ও রক্তচাপ কমে যাওয়ায় জরুরি বিভাগে আসেন চিকিৎসাসেবা নিতে। চিকিৎসক না থাকায় ওয়ার্ডবয় তাকে ইনজেকশনসহ স্যালাইন দেন। অল্প সময়ের মধ্যে ওই নারীর অবস্থার আরো অবনতি হলে পরিবার তাকে দ্রুত যশোর হাসপাতালে নিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

পরিবারের অভিযোগ, ঠিকমতো চিকিৎসা পেলে পরিস্থিতি এতটা খারাপ হতো না।

কোটচাঁদপুরের সারুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা গোলাম রব্বানী বলেন, ‘আমার ছেলের প্রচণ্ড পেটে ব্যথা। জরুরি তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। কিন্তু তখন হাসপাতালে কোনো চিকিৎসক ছিলেন না। তখন একজন ওয়ার্ডবয় জরুরি তার হাতে ইনজেকশন প্রয়োগ করে। কয়েক দিন পর হাতের ওই জায়গায় ইনফেকশন দেখা দেয়। পরে ছেলেকে খুলনা মেডিক্যালে নিয়ে চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ করে তুলেছি।’

কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. লিমন পারভেজ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাংলাদেশ মেডিক্যাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের ডিগ্রি অর্জন ছাড়া কেউ রোগীর ব্যবস্থাপত্র লিখতে পারবেন না। তবে বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, অনেক হাসপাতালের ওয়ার্ডবয়সহ কিছু ব্যক্তি রোগীর ব্যবস্থাপত্র লিখে দিচ্ছে। ওই ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী যারা চিকিৎসা নিচ্ছে তারা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। সম্প্রতি এমন কয়েকজন রোগী আমার চেম্বারে এসেছেন।’ 

এ ব্যাপারে কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তবে ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. কামরুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোয় দীর্ঘদিন ধরে যে জনবল সংকট রয়েছে, এখনো তার সমাধান হয়নি। ফলে দক্ষ চিকিৎসকের অভাব ও পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগ, নিয়মিত তদারকির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানিয়েছি আমরা।’

তিনি আরো বলেন, ‘কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ঘটনাটি অত্যন্ত বিব্রতকর। দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করা হবে। এ ঘটনায় শুধু ওয়ার্ডবয় নয়, চিকিৎসকসহ যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সূত্র: কালের কণ্ঠ

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়