শিরোনাম
◈ ব্রাজিলের জার্সির রঙ সাদা থেকে যেভাবে হলুদ হয়ে উঠলো  ◈ ৬ শিশুর প্রত্যেকের পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা করে দেবে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল ◈ জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশন শুরু, প্রশ্নোত্তর পর্ব চলছে ◈ পাঁচ সদস্যের সভাপতি মন্ডলীর নাম ঘোষণা ◈ বিশ্বকাপ প্রস্তু‌তি ম‌্যাচ, মে‌সি‌কে ছাড়াই হন্ডুরাসকে ২-০ গো‌লে হারালো আর্জেন্টিনা  ◈ একটি শিশুর ওপর নির্যাতন পুরো সমাজকে আহত করে: রামিসার রায়ে আদালতের বার্তা ◈ এআই ও প্রযুক্তিনির্ভর যুগে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত হতে হবে: তারেক রহমান ◈ বালুবোঝাই ট্রাক উঠতেই ভেঙে পড়ল সেতু, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ ◈ ভালো ব্যাংকও রক্ষা পায়নি, ৬১ ব্যাংকের মধ্যে ৪৪টির অবস্থার অবনতি, বেড়েই চলেছে খেলাপি ঋণের পাহাড় ◈ ভারতে ডেটা সেন্টার খাতে ৩০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল বিনিয়োগ করবেন বাংলাদেশি-অস্ট্রেলীয় ব্যবসায়ী রবিন খুদা!

প্রকাশিত : ২৭ নভেম্বর, ২০২৫, ১০:০৩ দুপুর
আপডেট : ০২ জুন, ২০২৬, ১০:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

দুধের নামে বিষ: সয়াবিন তেল, ইউরিয়া সার ও ডিটারজেন্ট মিশিয়ে নকল দুধ তৈরির ভয়ঙ্কর সিন্ডিকেট

দেশের অন্যতম দুধ উৎপাদনকারী অঞ্চল পাবনার ভাঙ্গুরা, চাটমোহর ও ফরিদপুরে গড়ে উঠেছে ভয়ঙ্কর নকল দুধ তৈরির শিল্প। সুনামধন্য চলনবিল এলাকায় দুধের চাহিদা ও সস্তায় সরবরাহের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র কৃত্রিমভাবে দুধের নামে বিষ তৈরি করে তা বাজারজাত করছে।

সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এসব ভয়াবহ তথ্য।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সয়াবিন তেল,গ্লুকোজ,ইউরিয়া সার,স্যাকারিন এবং ডিটারজেন্ট মিশিয়ে কয়েক মিনিটেই তৈরি করা হচ্ছে এক ধরনের সাদা তরল,যা দেখতে হুবহু খাঁটি দুধের মতো। বড় ড্রাম বা ট্যাংকে এসব রাসায়নিক মিশিয়ে নাড়াচাড়া করলেই তৈরি হয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার লিটার নকল দুধ। এরপর নামি-দামি কোম্পানির প্যাকেট ব্যবহার করে বাজারে ছাড়ছে একটি সংগঠিত চক্র।

গোপনে ধারণ করা এক ভিডিওতে দেখা যায়, একজন নকল দুধ প্রস্তুতকারক বলেন,দুই কেজি দুধে ৩০০ গ্রাম তেল দিলেই আগের মতো হয়ে যাবে। ভেজাল দুধের চাহিদা বেশি,তাই সবাই এটা বানাচ্ছে। এই এলাকায় ৮০–৯০ জন মানুষ এই ব্যবসা করে। একা করলে দোষ হয়,সবাই করলে ঠিক আছে, এমনটাই ভাবছে তারা।

স্থানীয়রা জানায় সিলিং সেন্টারের আড়ালে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি গোপন কারখানা যেখানে প্রতিদিন ট্রাকভর্তি নকল দুধ তৈরি করে পাঠানো হচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। অনুসন্ধানে গেলে বেশিরভাগ সেন্টারের দায়িত্বশীলরা পালিয়ে যান এবং কেউই ক্যামেরার সামনে কথা বলতে চান না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বাসিন্দা বলেন, ভাঙ্গুরা দুধের জন্য বিখ্যাত ছিল। এখন আমরা নিজেরাই দুধ খেতে ভয় পাই। শিশুদের জন্য তো এটা আরও ভয়ংকর।

আসল দুধ উৎপাদক খামারিরা বলছেন, ভেজাল দুধ কম দামে বিক্রি হওয়ায় তারা বাজারে টিকতে পারছেন না। এক খামারি বলেন,আমাদের আসল দুধের দাম ৬০–৬৫ টাকা। ভেজাল দুধ ৫০–৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিযোগিতা করতে না পেরে অনেক সময় দুধ ফেলে দিতে হচ্ছে।

চিকিৎসকদের মতে, নকল দুধে ব্যবহৃত রাসায়নিকগুলো মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এগুলো ক্যান্সার, কিডনি বিকল, লিভার ড্যামেজসহ শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক জটিলতা তৈরি করতে পারে। এটি দুধ নয়—দুধের মতো দেখতে বিষ। এতে কোনো পুষ্টিগুণ নেই, বরং জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

এ বিষয়ে প্রশাসন জানিয়েছে, ভেজাল দুধের অভিযোগের বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলেন, দুধের নামে প্রতিদিন মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে সাদা বিষ। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, কঠোর নজরদারি এবং জনসচেতনতা ছাড়া এই নকল দুধের সাম্রাজ্য বন্ধ করা সম্ভব নয়।

সূত্র: ইনকিলাব

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়