ইমরুল কায়েশ, (যশোর): যশোরের শার্শা থানায় চাঞ্চল্যকর ভ্যান ছিনিয়ে নিয়ে চালক আব্দুল্লাহ হত্যাকান্ডে জড়িত ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা বিএনপি কর্মী হিসাবে এলাকায় পরিচিত। এদের মধ্যে প্রধান আসামী লিটন বিএনপির সক্রীয় কর্মী । উপজেলাতে বিভিন্ন সভা,সমাবেশে তাকে নেতাদের সাথে আগের সারীতে শ্লোগান দিতে দেখা যায়।
পুলিশ জানায়, গত ১০ অক্টোব যশোর জেলার শার্শা থানাধীন নাভারণ এলাকা হতে রাত অনুমান ১১ টার সময় আব্দুল্লাহ নামে একজন ভ্যানচালক নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় পরের দিন আব্দুল্লাহার পিতা ইউনুস আলী বাদী হয়ে শার্শা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি দায়ের করেন। পরবর্তীতে জেলা গোয়েন্দা শাখা ও শার্শা থানা পুলিশের যৌথ টিম নিখোঁজ আব্দুল্লার ভ্যানটি ঝিকরগাছা এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় খুঁজে পায়। পরে পুলিশি কলাকৌশল প্রয়োগ ও আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় স্বল্প সময়ে ভ্যান বিক্রির সাথে জড়িত তিন জনকেকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এসময় হত্যা সংক্রান্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য তারা প্রদান করে।
তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী নিখোঁজ আব্দুল্লার মরদেহ আশানূরের নিয়ন্ত্রণাধীন পরিতাক্ত প্রবাসী সুমনের বাসায় ট্রাংকের ভিতর থেকে আব্দুল্লার গলিত মরদেহ উদ্ধার হয়। আসামিদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ও হত্যাকারী ছিল মুকুল। তার নির্দেশনায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ঘটনাস্থলে আশানুর,সাগর ও আব্দুল্লাহ ওই পরিত্যক্ত ভবনে গিয়েছিল। পরবর্তীতে সেখানে আসে মুকুল নিজেই। সবাই একসাথে মাদকদ্রব্য ইয়াবা সেবন করে। পরে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী মুকুল ধারালো ছুরি দিয়ে ভিকটিমকে কোপ দিয় মাটিতে ফেলে দিয়ে জবাই করে। পরবর্তীতে তিনজন একত্রে ট্রাংকের ভিতর ভিকটিম আব্দুল্লার মৃতদেহ লুকিয়ে ফেলে। আসামীদের মধ্যে আশানুর জামান আশার নামে ০৮ টি এবং সাগরের নামে ০৭ টি মামলা রয়েছে।
শার্শা থানা বিএনপির সভাপতি আবুল হাসান জহীর জানান, ভ্যান চালক আব্দুল্লা হত্যার ঘটনা শোনার পর তিনি নিহতের বাড়িতে গিয়ে সান্তনা দেন ও সাধ্য মত অর্থনৈতিক সহযোগীতা করেন। পুলিশকেও অনুরোধ করেছিলেন দ্রুত আসামীদের গ্রেফতারের জন্য। গ্রেফতার আসামীরা বিএনপি কর্মী কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে বলেন, তারা আগে বিএনপি করতো। তবে নানান অসামাজিক কার্যকলাপের কারনে বর্তমানে বিএনপির সাথে তাদের কোন সম্পক্য নাই। তাদের সর্বচ্চ শাস্তি দাবি করেন এই নেতা।
শার্শা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলিম জানান, বুধবার তিন জন অভিযুক্ত হত্যাকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনা স্থল থেকে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি, আসামী আশানুরের পরিহিত রক্তমাখা হাফপ্যান্ট ও লাশ গুমের কাজে ব্যবহৃত ট্রাংক জব্দ করা হয়েছে।